বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ০৪ মে ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
দেশের কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন হবে। এই ক্ষেত্রে বেশি শর্ত দিলে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ থেকে সরকার সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষফোড়া জেনেও পায়রা বন্দর প্রকল্প কাটা সম্ভব নয়, কারণ এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িয়ে গেছে। কৃষি বাজেট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো ছয় মাস আগে আলোচনা করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে ৪ মে (শনিবার) ‘কৃষিতে বাজেট ২০২৫-২৬ টেকসই প্রবৃদ্ধির রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমিতির সভাপতি আহসানুজ্জামান লিন্টুর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।
ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘সংস্থাটির (আইএমএফ) সব শর্ত মানলে অর্থনীতি আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। আমরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই অর্থনীতি গড়ার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের এ সময়ে কঠিন শর্ত মেনে নেওয়া যৌক্তিক হবে না।’
উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘ছয় মাসের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে আইসিইউ থেকে বের করে এনেছি। রুগ্ণ দশা কেটে গেছে। ভয় পাবেন না, আমরা আছি।’
কৃষি বাজেট প্রসঙ্গে আনিসুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি হচ্ছে আমাদের মেরুদণ্ড। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিকে উপেক্ষা করতে পারব না। অনেকে বলছেন, কৃষির গ্রোথ (বিকাশ) কম। গ্রোথ বাড়ানো যাবে। তবে আমাদের কোয়ালিটি গ্রোথ বাড়াতে হবে।
আগামী বছরই স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি নেবে বাংলাদেশ। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।
পোলট্রি ফিড তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট শুল্ক কমানোর পাশাপাশি খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শও দেন তাঁরা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ে সবাই চিন্তিত। এর মূলে রয়েছে কৃষির উৎপাদন কমে যাওয়া। দেশে প্রতিবছর ০.৫ শতাংশ হারে কৃষিজমি কমছে। তার বিপরীতে বাড়ছে জনসংখ্যা। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনীতি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তাই স্থানীয়ভাবে কৃষিকাজ ও খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানো দরকার। এ জন্য আসছে বাজেটে কৃষি খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। দেশে ৪.৮৭ শতাংশ হারে বাজেট বাড়লেও কৃষি বাজেট বাড়ছে ৩ শতাংশ হারে। মোট বাজেটের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে কৃষি এবং ৫ শতাংশ হারে ভর্তুকি দিতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, দেশে প্রতিবছর ১.২ শতাংশ প্রাকৃতিক জলাশয় দখল ও দূষণে হারাচ্ছে। অথচ ভিয়েতনাম ও চীনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাই দেশেও জলাশয়কে রিজার্ভ হিসেবে চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করতে হবে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, কৃষি বাজেট যাঁরা প্রণয়ন করেন তাঁরা কৃষির সার্বিক মূল্যায়ন করে বাজেট বাড়ান না। মূল্য সহায়তা করা হচ্ছে না। সবজির দাম না পেয়ে কৃষক গরুকে খাওয়াচ্ছেন। এ জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
Posted ৯:৪৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ মে ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh