বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুব সমাজের হাতে খয়রাতি কোনো অনুদান তুলে দিয়ে তাদের অপমান করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনে নিজের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের তরুণ-তরুণীদের প্রফেশনাল শিক্ষা দিতে চাই। আমরা তাদের নৈতিক শিক্ষা দিতে চাই; যে শিক্ষা প্রত্যেক নাগরিককে দেশপ্রেমিক হতে শেখাবে, স্বার্থপর বা আত্মকেন্দ্রিক হতে শেখাবে না, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলবে।
এই শিক্ষা আমরা তাদের দেব। সার্টিফিকেট তৈরি করে সেই শিক্ষা দেব না; দেব এমন শিক্ষা, যা দক্ষতা তৈরি করে। দক্ষতার হাত গড়ে তাদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেব।
তিনি বলেন, তাদের (যুব সমাজের) হাতে খয়রাতি কোনো অনুদান তুলে দিয়ে আমরা তাদের অপমান করতে চাই না। আমরা আমাদের যুব সমাজকে সম্মানিত করতে চাই। তারা দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবে এবং বুক ফুলিয়ে বলবে, আমরা কারও অনুদানে নয় বরং আল্লাহর দেওয়া সামর্থ্য অনুযায়ী দেশকে দিয়ে চলেছি। এই অবদান অব্যাহত রাখব। আমিও দেশ গড়ার একজন কারিগর।
কোনো দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। ২ হাজার টাকা দিয়ে একটি পরিবারের কী সমাধান হবে? তাতে আবার ভাগ বসিয়ে দেওয়া হবে ২ হাজার টাকার মধ্যে আগে এক হাজার আমাকে দাও, তারপর তোমারটা তুমি বুঝে নিও। এই কার্ড কাল্পনিক কিছু মানুষের চরিত্র এঁকে তাদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে, বেকারের হাতে নয়। এই বৈষম্যগুলো কি আমরা দেখিনি?
জামায়াতের আমির আরও বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশ চলে।
ট্যাক্সের বাইরেও আরেকটি বেসরকারি ট্যাক্স আছে। প্রতিটি মুদি দোকানে, রাস্তার হকারের কাছে, এমনকি রাস্তার পাশে যে ভাইটি বসে ভিক্ষা করেন, তার কাছ থেকেও একটি ট্যাক্স নেওয়া হয়। এই ট্যাক্সের টাকা আমরা জনগণের হাত থেকে নিতে চাই না। ওই ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। ওই ট্যাক্স আর চাঁদাবাজি চলবে না।
দেশের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা বাস্তব চিত্র দেখি গাড়ি থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞেস করলে বলে, এটা রাজনৈতিক চাঁদা। কোন দলের চাঁদা জানতে চাইলে একটি দলের নাম বলে দেয়। কেউ আবার বলে, নাম জানার দরকার কী আগে চাঁদা দেন। আমি কাকে টাকা দিচ্ছি, সেটা কি আমার জানা দরকার নয়? তাদের ভাবটা এমন আজ জানার দরকার নেই, হাশরের দিন জানবেন। আমরা ঘোষণা দিচ্ছি, আমরা চাঁদা নেব না এবং কাউকে চাঁদা নিতেও দেব না। আমরা বলছি, আমরা দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না।
তিনি বলেন, আমরা বলছি ইনসাফ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ইনসাফ নিশ্চিত করা হবে। ইনসাফ আর টাকার মূল্যে বিক্রি করা হবে না। এই বাংলাদেশটাই আমরা গড়তে চাই। যে বাংলাদেশ হবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ আপামর জনসাধারণের; যে বাংলাদেশ হবে সকল পেশাজীবী শ্রেণির। এমন বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করে বলা যাবে আমি একজন বাংলাদেশি। সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী এস এম খালেকুজ্জামান, জাগপার রাশেদ প্রধান, জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসান মাহমুদ জুবায়ের, খেলাফতে আন্দোলনের মাওলানা তাওহিদুজ্জামান, খেলাফতে মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন নিয়াজি এবং ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
Posted ১০:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh