বাংলাদেশ অনলাইন : | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
৫৯ বছরে দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন ঝোউ। ছবি : সংগৃহীত
৫৯ বছর বয়সী এক চীনা নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের একাকিত্ব কাটাতে তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গত ৯ জানুয়ারি পূর্ব জিয়াংসু প্রদেশের ঝাংজিয়াগাং নং ১ পিপলস হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ২.২ কেজি।
ঝোউ সন্তান জন্মের পর বলেন, ‘শিশুটিকে দেখে এবং তার কান্না শুনে আমি খুব উত্তেজিত। আমি আশা করিনি যে আমার স্বপ্ন সত্যি হবে।’ গত বছর তিনি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) প্রযুক্তির সাহায্যে গর্ভধারণ করেছিলেন। হাসপাতালে প্রসবপূর্ব পরীক্ষা করার সময় ডাক্তাররা তার বয়সের কারণে একটি বিস্তৃত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
ঝোউয়ের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বিদেশে থাকেন। যার ফলে তিনি এবং তার স্বামী একাকী বোধ করছিলেন, তাই তারা সন্তান জন্মের সিদ্ধান্ত নেন। ঝোউ বলেন, ‘দুই বছর আগে আরেকটি সন্তান নেওয়ার ধারণা এসেছিল। আমার মেয়ে বিদেশে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি এবং আমার স্বামী প্রায়ই একাকী বোধ করি।’
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি গর্ভাবস্থার প্রস্তুতির জন্য তার স্বাস্থ্যের পরিবর্তন করতে শুরু করেন। এর পরেই ‘আইভিএফ’ প্রযুক্তির সাহায্যে ঝোউ গর্ভধারণ করেছিলেন। হাসপাতালের একজন সিনিয়র প্রসূতি বিশেষজ্ঞ গুও হুইপিং গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঝোউ ৫৯ বছর বয়সী এবং গর্ভাবস্থার জটিলতা ও অস্বাভাবিক ভ্রূণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।’
ঝোউ বলেন, ‘তারা নিয়মিত আমাকে আমার স্বাস্থ্যের অবস্থা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বার্তা পাঠাত। আমার মনে হতো আমি পান্ডা, ডাক্তারা সাবধানে আমাকে সুরক্ষিত করে রেখেছিল।’ গর্ভাবস্থার বিকাশের সময় ঝোউ বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তার রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং অস্থির হয়ে ওঠেন। তার অ্যালবুমিন, ইউরিক এসিড এবং কিডনিতেও সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়াও তার পা মারাত্মকভাবে ফুলে যায়। ঝোউ যখন ৩৩ সপ্তাহ ৫ দিনের গর্ভবতী ছিলেন, তখন ডাক্তাররা সিজারিয়ান অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। গুও বলেন, ‘এই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য তিনি একজন সাহসী মা।’ প্রতিবেদনে জোউয়ের স্বামী বা তার মেয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বৃদ্ধ বয়সে সন্তান জন্মদানকারী নারীদের গল্পগুলো প্রায়ই মূল ভূখণ্ডের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়িত হয়। ডিসেম্বরে উত্তর-পূর্ব চীনের জিলিন প্রদেশের একজন নারী ৬২ বছর বয়সে গর্ভবতী হয়ে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি দ্বিতীয় সন্তান নিতে চেয়েছিলেন কারণ তার একমাত্র সন্তান ছেলেটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মারা গিয়েছিল।
বেইজিং পৌর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, চলতি বছর থেকে অবসরপ্রাপ্ত নারীরা তাদের প্রসবপূর্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ জনস্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের আওতায় পরিশোধ করতে পারবেন। দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা সমাজে এই শ্রেণির নারীদের আরো সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে এ সিদ্ধান্তকে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে। ৫৯ বছর বয়সী এক নারীর সন্তান ধারণের একটি ঘটনা অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘আমি মনে করি না তার এটি করা প্রয়োজন ছিল। সে বুঝতে পারবে যে, সন্তানের দেখাশোনা করার মতো তার যথেষ্ট শক্তি নেই আর এটি শিশুটির জন্যও নিষ্ঠুর।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘তরুণ প্রজন্মের ওপর চাপ বাড়ানোর বদলে আমাদের দেশ সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাদের সময় আছে, পেনশন আছে—এটা তো একেবারে নিখুঁত সমাধান।’
সূত্র : সাউথ চায়না মরনিং পোস্ট।
Posted ৩:৪২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh