বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

সরকারে থাকা অবস্থায়, আগে-পরে জীবনে কখনো দুর্নীতি করিনি : আসিফ নজরুল

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

সরকারে থাকা অবস্থায়, আগে-পরে জীবনে কখনো দুর্নীতি করিনি : আসিফ নজরুল

আসিফ নজরুল। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, সরকারে থাকা অবস্থায় বা জীবনের কোনো পর্যায়েই তিনি এক টাকার দুর্নীতিও করেননি।

আসিফ নজরুল তার পোস্টে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর তাকে নিয়ে নতুন করে দুর্নীতির গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকায় বাড়ি কেনা এবং পরিবারসহ সেখানে স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি তিনি ‘ভিত্তিহীন গুজব’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের কোনো দেশেই আমার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।’

সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো:

আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?

আসিফ নজরুল আমেরিকায় বাড়ি কিনেছেন। বউ-বাচ্চা সব আমেরিকায় চলে গেছে। সেও শীঘ্রই আমেরিকায় ভেগে যাবে—এরকম একটা গুজব বছরখানেক আগে ইউটিউবে ছাড়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ এটি দেখেন এবং কিছু লোক তা বিশ্বাস করাও শুরু করেন!

এর কিছুদিন পর খালেদ মুহিউদ্দিন-এর একটি অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠে। আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারি না। শুধু বলি, আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না। খালেদের অনুষ্ঠানে আমি সকল ইউটিউবার, সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ করি—আমেরিকায় আমার বাড়ি থাকলে তার প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য। (আমি এই অনুরোধও করি, এই সংবাদের সত্যতা বের করতে না পারলে যে মিথ্যাবাদীরা এটি ছড়িয়েছে, তাদের কোনো কথা যেন কেউ বিশ্বাস না করে।)

এই চ্যালেঞ্জ জানানোর পর প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আমেরিকায় আমার বাড়ি আছে, এমন কোনো ঠিকানা, দলিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। পারার কথাও নয়। কারণ আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই।

নানা ধরনের গুজব কিছুটা হ্রাস পায় এরপর। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যায়, আমার (এবং আমার কিছু সহকর্মীর) তথাকথিত দুর্নীতির নতুন নতুন খবর ডালপালা মেলতে শুরু করে। প্রথমে ফালতু অনলাইনে, তারপর কপি-পেস্ট করে প্রায়-ফালতু অনলাইনে, তারপর এমন সব কুখ্যাত অপরাধীদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমে যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে খুব একটা আনন্দে থাকতে পারেনি।

এই সব খবর আমার সহকর্মীদের অনেকে পাত্তাই দিতে চান না। আমিও চাই না। কিন্তু আমি জানি আমাকে বহু মানুষ ভালোবাসেন, আমার জন্য দোয়া করেন। তাদের একজনও যদি এসব মিথ্যোচারে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমার কিছু কথা স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন। আমার বক্তব্য এখানে অন-রেকর্ড বলে রাখলাম তার মতো মানুষদের এবং অন্য যে কারো জন্য।

আমার বক্তব্য-১. আমি সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমার জ্ঞাতসারে কাউকে দুর্নীতি করতেও দিইনি। আমি কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিনি, আমার কোনো নতুন সম্পদ হয়নি, আয়কর দেওয়ার সময় আমি কোনো সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখিনি। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, করার প্রশ্নই আসে না।

বক্তব্য-২. আমি কোনো স্বজনপ্রীতিও করিনি। সরকারে থাকা অবস্থায় আমার পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে বিন্দুমাত্র সুবিধা দিইনি বা তাদের কোনো অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিইনি। আমি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেইনি। আমার আত্মীয়রা কখনো কারও পক্ষে তদবির করার সুযোগও পাননি।

বক্তব্য-৩. আমি কখনো এলাকাপ্রীতি করিনি। উপদেষ্টা থাকাকালে আমার গ্রামের বাড়ি বা ঢাকা শহরে, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি, সেখানে একবারও যাইনি। তবে আমি লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অল্প কিছু আর্থিক সহযোগিতা নিয়মানুগভাবে পেতে সহযোগিতা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনক্রমে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে ঢাবির খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান এনে দিয়েছি। এর বাইরে কারও জন্য অনুদানের অনুরোধও আমি কখনো করিনি।

আমি বহু জঘন্য ও পৈশাচিক মিথ্যাচার সহ্য করে যাচ্ছি। আমাদের মহানবী (সাঃ) থেকে শুরু করে বহু উলামায়ে কেরাম এরচেয়েও অনেক বেশি মিথ্যাচার ও অপবাদের শিকার হয়েছেন। আমি তাদের তুলনায় নিতান্ত নগণ্য মানুষ। কিন্তু চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি। আল্লাহ আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেননি।

যারা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করার রুচি আমার নেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে যে, দিনশেষে আমার কোনো ক্ষতি আপনারা করতে পারবেন না। আমাকে গত বিশ বছরে বহু অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। আল্লাহ আছেন, আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট।

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিয়ামাল ওয়াকিল।

Posted ৪:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কাঁঠাল সমাচার

(2229 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.