বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ সীমান্তে বাঙালি মুসলিমদের পুশব্যাক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জাতিগত বাঙালি মুসলিমদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সীমান্ত জুড়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে। এর ফলে অনেক পরিবার এখন সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশ করতে গিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পঞ্চগড় সীমান্তের একটি বিশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। সেখানে প্রায় ৭৫ ঘণ্টা ধরে পরিবারগুলোকে কোনো খাবার ও আশ্রয় ছাড়াই সীমান্তের খোলা আকাশের নিচে আটকে রাখা হয়েছিল। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো আইনি যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েই এই বহিষ্কার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। অনেক ভুক্তভোগীর কাছে বৈধ ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মানবাধিকার সংস্থাটি দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন অবিলম্বে এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয়। সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতি এবং আটকা পড়া পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
Posted ৩:৫৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh