বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে তরুণদের টানা আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দুই সপ্তাহ পার হলেও এর রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বের হতে পারছে না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। মোদি সরকারের মুখোমুখি হওয়া অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণদের এই গণবিক্ষোভকে।
অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজিপি) নেতৃত্বে এই আন্দোলন রাজধানী নয়া দিল্লি থেকে দ্রুত দেশের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ক্ষোভ থেকে আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুতই বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব ও মোদি সরকারের ‘স্বৈরাচারী শাসনের’ বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রুপ নেয়।
প্রধান প্রধান দাবি আদায়ের পর আপাতত রাজপথের বিক্ষোভ স্থগিত। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণে এই আন্দোলনের প্রভাব ও ভবিষ্যতের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে-
চাপে মোদি সরকার
গত ২৫ জুলাই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গত এক দশকে শক্তপোক্ত ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের চিত্র তুলে ধরা নরেন্দ্র মোদির জন্য কোণঠাসা হয়ে পড়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও তরুণদের শান্ত করতে সরকার ইতোমধ্যে প্রশ্নফাঁসের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে পার্লামেন্টে বিল পাস করেছে।বিক্ষোভকারীদের ওপর দায়ের করা মামলার একাধিক অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় তরুণের কাছে পৌঁছাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেও ইনস্টাগ্রামে নতুন ধাঁচের ‘ভিডিও’ প্রকাশ শুরু করেন।
নজরদারি ও ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা
আন্দোলন দমনে এআই চালিত ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরার ব্যবহার উন্মোচিত হয়েছে। অনেক নারী বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা অনলাইনে ক্রমাগত হুমকি ও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এছাড়া প্রধান বিক্ষোভস্থল নয়া দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান যুগের তরুণদের যোগাযোগের জন্য নতুন পথ খুঁজতে বাধ্য করে।
পরীক্ষার ছাড়িয়ে গভীর ক্ষোভ
প্রশ্নফাঁস ছিল কেবল ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটানোর বাহানা। মূলত বছরের পর বছর পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা শেষেও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তাই তরুণদের এই গভীর ক্ষোভের মূল কারণ। সরকার কেবল পরীক্ষার সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে জমা হওয়া অর্থনৈতিক অসন্তোষ সহজে দূর করতে পারবে না।
‘ককরোচ’ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী থাকলেও এটিকে স্থায়ী রাজনৈতিক শক্তিতে রুপ দেওয়া সিজিপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সিজিপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তারা এখনই কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করবেন। তিনি তরুণদের কথা শুনতে দেশব্যাপী সফরের পরিকল্পনা করছেন।
তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব
ভারতের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। আগামী জাতীয় নির্বাচনের এখনও প্রায় তিন বছর বাকি থাকলেও, মোদি সরকার ও বিরোধী দল— উভয়েই এখন থেকে তরুণদের ভোট ও ক্ষোভকে নিজেদের রাজনৈতিক ঝুলিতে টানার কৌশল গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
Posted ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh