বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি বাস কাউন্টারে দেশে ফিরতে পর্যটকদের ভিড়। ছবি : টাইমস অব ইন্ডিয়া
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পর এবার হোটেল বন্ধের প্রশাসনিক অভিযানে চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। নিউ মার্কেট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন। কেউ খুঁজছেন নতুন হোটেল, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে বুধবার অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু করে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি পাওয়ায় বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার মধ্যাঞ্চলের এসব এলাকা বহু বছর ধরে বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের কাছে অনেকটা পরিচিত আশ্রয়স্থল। কিন্তু শিখা ইন-এর দুর্ঘটনার পর সেই পরিচিত পরিবেশই এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাংলাদেশি পরিবার স্বজনদের ফোন করে দ্রুত দেশে ফিরে যেতে বলছেন।
শুধু আতঙ্ক নয়, হোটেল সংকটও নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া হোটেল থেকে বের করে দেওয়া পর্যটকদের অনেকেই এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে ঘুরছেন।
নতুন করে ঘর পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু হোটেলের ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহণ, কেনাকাটা ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যবসা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে নানা কারণে এই ব্যবসায় ধাক্কা লেগেছিল।
পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে হোটেল বন্ধের ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে প্রশাসন বলছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চলবে।
Posted ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh