সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

নিজেকে নিজের বন্ধু বানান

জাফর আহমাদ   |   বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩

নিজেকে নিজের বন্ধু বানান

মানুষ সামাজিক জীব। সে একাকী কখনো বসবাস করতে পারে না। বরং সমাজবদ্ধ হয়ে চলাই মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। সমাজের অন্যান্য মানুষের সাথে মিল-মহব্বতের বন্ধনে সে আবদ্ধ হয়। এই পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মায়াজালে মধ্যেই বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। তাই আপনি হয়তো বা চিন্তা করছেন যে, নিজেকে আবার কিভাবে নিজের বন্ধু বানায়? হ্যাঁ, আপনি নিজেকেও নিজের সহৃদ বন্ধু গ্রহণ করতে পারেন। এবং সেই বন্ধুত্বই হবে আপনার প্রকৃত বন্ধু। আপনি নিজে এমন কতগুলো কাজ করুন দেখবেন, আশেপাশের লোকেরা আপনার সাথে বন্ধুত্ব গড়ার জন্য উঠেপরে লেগেছে। তাছাড়া এ কাজগুলো আপনার নিজের পরিতৃপ্তির জন্য অত্যন্ত জরুরী।

আপনার চরিত্র, আপনার স্বাস্থ্য, আপনার কথা-বার্তা ও আপনার আচরণ একটি নির্দিষ্ট ধাঁচে গড়ে তুলুন, দেখবেন নির্জনে এরা আপনার বন্ধুত্বের কাজ করছে তাই আপনার দৈনন্দিন কাজগুলোকে ভাগ করুন এবং এগুলোকে একটি বিশেষ উপায়ে পরিবর্তন করে ফেলুন। আপনি প্রথমেই নিজের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস বদ্ধমূল করুন যে, আপনার একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, তিনি আপনাকে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। আপনি সেই সৃষ্টি কর্তার ইচ্ছাগুলোকে জানুন এবং একটি একটি করে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করুন। ইনশা’আল্লাহ আপনি নিজে নিজের বন্ধুতে পরিণত হবেন। আপনার ভেতরে এমন এক অদম্য নৈতিক শক্তি সৃষ্টি হবে, সে পৃথিবীর কাঊকে পরোয়া করে না, যে কোন হুমকীকে সে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়। সে কেবল নিজের সৃষ্টিকর্তাকেই ভয় করে।

উপরে বলেছিলাম যে, আপনার একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, তিনি আপনাকে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। সেই উদ্দেশ্যটি সুরা আল ইমরানের ১১০ নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বিবৃত করেছেন,“ তোমরাই শ্রেষ্ট উম্মাহ, তোমদেরকে মানবতার কল্যাণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।” অর্থাৎ নৈতিক চরিত্র ও কার্যকলাপের দিক থেকে তোমরাই দুনিয়ার সর্বোত্তম মানব গোষ্ঠী। সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যেসব গুণাবলীর প্রয়োজন সেগুলো তোমদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া তোমরা এক ও লা-শারীক আল্লাহকে বিশা¦সগত এবং কার্যত নিজেদের ইলাহ, রব ও সর্বময় প্রভু বলে স্বীকার করে নিয়েছো। কাজেই মানবতার কল্যাণ কামনা, বাসনা ও কার্যত দান তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য করে দেয়া হয়েছে। কাজেই মানবতার কলাণের নেতৃত্ব অনুধাবন করে কল্যাণের কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করো। এই আয়াতের আলোকে মানুষ যখন সকল মানুষের কল্যাণের নিমিত্তে কাজ করে, মানুষের অকল্যাণ হয় এমন কাজ থেকে নিজেদের দুরে রাখে তখন পৃথিবী সকল কিছু তার পরম বন্ধুতে পরিণত হয়। নীচে নিজেকে নিজের বন্ধুতে পরিণত করর জন্য কিছু বিষয় উপস্থাপিত হলো:

এক, বিবেক: বিবেকের তৃপ্তি আপনার বন্ধু। তৃপ্তি কয়েক প্রকার হতে পারে। অন্যকে আচ্ছা করে ধোলাই দিয়ে তৃপ্তি লাভ করা যায়। কিন্তু এ তৃপ্তি হলো আপনার খারাপ নফসের তৃপ্তি। মনে রাখবেন, আপনার নফস কখনো আপনার বন্ধু নয় বরং সে হলো শয়তানের প্রতিভূ। সে আপনার ধ্বংস চায়। সুতরাং সে আপনার বন্ধু হতে পারে না। এ জন্য কাউকে ঠকিয়ে, কারো হক নষ্ট করে, কাউকে ধোলাই দিয়ে, কাউকে চরম বিপদে ফেলে যে তৃপ্তি আপনি লাভ করেন প্রকৃতপক্ষে সে কখনো আপনার বন্ধু হতে পারে না। বরং আপনার প্রকৃত বন্ধু হলো, কারো উপকার করে, কাউকে আপনার ন্যায়সংগত প্রাপ্য অধিকার ছেড়ে দিয়ে, কাউকে ক্ষমা করে দিয়ে, চরম অভাবে কাউকে দান করে যে তৃৃপ্তি সে-ই হলো আপনার প্রকৃত বন্ধু। এ বন্ধুত্ব আপনার বিবেকের সাথে। মনে রাখবেন, আপনি যখন অন্যায় কাজ করার জন্য উদ্যত হন, তখন আপনার বিবেক হিতাকাঙী হয়ে পথরোধ করে দাঁড়ায়। আপনি যদি বিবেককে উপেক্ষা করে কাজটি করে ফেলেন, তখন সে আপনাকে ক্রমাগত কষাঘাত করতে থাকে এবং আপনার অনুশোচনাকে সে জাগ্রত করে দেয়। এরপরও যদি আপনি একই খারাপ কাজ বার বার করতে থাকেন, তখন বিবেক অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং আপনার নফস অধিক শক্তিশালী হয়ে সেই বিবেককে মেরে ফেলে।

দুই: নিরঅহংকার: সৃষ্টিলোকের কেহ অহংকারী হতে পারেন না। অহংকার একমাত্র আল্লাহ তা’আলার বৈশিষ্ট্য। শয়তান প্রথম আল্লাহ তা’আলার এ বৈশিষ্ট্যটি নিয়ে টানাটানি করেছিল। সে শ্রেষ্টত্বের ওপর ভর করে অহংকারে মেতে উঠেছিল। অহংকার মানে নিজেকে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শ্রেষ্ট জ্ঞান করা, অন্যদেরকে নিজের তুলনা ক্ষুুদ্র ও অধম জ্ঞান করতঃ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে ঔদ্যত প্রকাশ করে তাঁর অবাধ্য হওয়া ও আদেশ অমান্য করা-এ সবই অহংকারের লক্ষণ ও তার আওতাভুক্ত। (কবীরা গুনাহ-ইমাম আয্যাহাবী রঃ) অহংকার গোপন ও প্রকাশ্য দুই ধরনের হয়ে থাকে। গোপণ অহংকার মনে সৃষ্টি হয় আর প্রকাশ্য অহংকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা প্রকাশ পায়। গোপন অহংকারী নিজেকে অন্য সব অহংকারীর চেয়েও নিজেকে বড় মনে করে। এটা তার ধারণায় বদ্বমুল হয়, অবশেষে এটি তার বিশ্বাসে পরিণত হয়। ফলে নিজেকে খুব সম্মানিত মনে করে এবং এক সময় তা তার বাস্তব চরিত্রে প্রকাশ পেতে শুরু করে। অহংকার কখনো আপনার বন্ধু হতে পারে না। বরং অহংকারের কারণে সে একাকী হয়ে পড়ে। তাই নিরঅহংকারী হোন, সে-ই আপনার প্রকৃত বন্ধু।

তিন: ইতিবাচক মনোভাব: ইতিবাচক মনোভাব আপনার পরম সুহৃদ। ইসলাম নেতিবাচক মনোভাব থেকে ইতিবাচক মনোভাবকেই বেশী অগ্রাধিকার দেয়। ইতিবাচক ভালো, নেতিবাচক খারাপ। ইতিবাচক পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য উপকারী। ইতিবাচক জীবনকে সুন্দর ও সাবলীল করে। পক্ষান্তরে নেতিবাচক ব্যক্তির কদর্যই বৃদ্ধি করে। ইতিবাচক পৃথিবীর শ্রেষ্ট ও মহামানবদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল। এটি আম্বিয়াদের আ: এক বিশেষ গুণ। এই গুণের দ্বারা তাঁরা পৃথিবীর মানব সভ্যতাকে আলোকিত করেছেন। এ গুণ দিয়ে তাঁরা পৃথিবীকে গভীর অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছেন। যে কোন ক্ষেত্রে সফলতা পেতে হলে ইতিবাচক মনোভাবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন মানুষের সাথে দেখা করি। এদের কেউ কেউ সদা হাস্যোজ্জল, চারিদিকে আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে. অল্প সময়ে আপন করে নিচ্ছে. উৎসাহ ও উদ্দীপনা দিচ্ছে, আশার বাণী শোনাচ্ছে; আবার এদের মধ্যে কেউ কেউ বিষণ্ন, রাশভারী, আপনাকে বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে, কুরুচিপূর্ণ কথা বলতেও দ্বিধা করছে না। হ্যা থেকে না, না এর উচ্চারণ বেশী হচ্ছে অর্থাৎ যারা নেতিবাচক ভাব প্রকাশ করে।

চার: আল্লাহর স্মরণ: মু’মিন তার জীবনের কন্টকাকীর্ণ ও পিচ্ছিল পথে টিকে থাকার জন্য আল্লাহর স্মরণ এক বিশেষ পাথেয় হিসাবে কাজ করে। অন্যথায় হাজারো প্রতিবন্ধকতা ও হাজারো বাঁধার মুখে আল্লাহর সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে টিকে থাকা দুরূহ ব্যাপার। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে ঈমানদার লোকেরা! আল্লাহকে খুব বেশি করে স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধা তাঁর প্রশংসা ও মহিমা ঘোষনা করতে থাকো। তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, তাঁর ফেরেশতাগণ তোমাদের জন্য রহমতের দু’আ করে, যেন তিনি তোমাদেরকে জমাট-বাঁধা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর মধ্যে লয়ে আসেন। তিনি মু’মিনদের জন্য বড়ই অনুগ্রহশীল। যেদিন তারা তাঁর সহিত সাক্ষাত করবে, সালাম দ্বারাই তাদের অভ্যর্থনা করা হবে এবং আল্লাহ তাদের জন্য সম্মানজনক প্রতিদান নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।(সুরা আহযাব:৪১-৪৪) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় একজন প্রখ্যাত মুফাস্সির লিখেছেন, ‘আল্লাহর স্মরণ ও তাসবীহ করার হুকুম দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানগণকে এ শিক্ষা দেয়া যে, দুশমনদের পক্ষ থেকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি যখন ভর্ৎসনা, গালাগাল ও কুৎসার তীর বর্ষিত হতে থাকে এবং আল্লাহর দ্বীনকে আঘাত দেয়ার উদ্দেশ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তি সত্তাকে লক্ষ করে মিথ্যা দোষারূপের ঝড় সৃষ্টি করা হয়, তখন ঈমানদার লোকদের পক্ষে না এই খারাপ কথাগুলো শুনতে থাকা উচিত, না দুশমনদের মত তাদেরকেও সন্দেহ-সংশয়ে লিপ্ত হওয়া উচিত, আর না এগুলো জবাব দেয়ার জন্য পাল্টা গালি-গালাজ করা উচিত। বরং এরূপ অবস্থায় অন্যান্য সময় অপেক্ষা অধিক বেশি করে আল্লাহর স্মরণ করা তাদের একমাত্র কর্তব্য।’ আল্লাহর স্মরণ আপনার শক্তিশালী বন্ধু। এই বন্ধু আপনাকে সার্বক্ষণিক দু:খ-কষ্ট থেকে মুক্ত রাখবে।

পাঁচ: পরশ্রীমুখরতা: অন্যের কাজের স্বীকৃতি দান। এটি ইতিবাচক মনোভাবের একটি বৈশিষ্ট্য। অন্যের কাজের স্বীকৃতি না দেয়া অহংকারী মনোভাবের লক্ষণ। অহংকারীরা সাধারণত পরশ্রীকাতর হয়ে থাকে। অন্যের কাজের স্বীকৃতি দিতে থাকুন দেখবেন এই অহংকারী শুত্রু আপনার কাছ থেকে পালাবে। এবং ইতিবাচক মনোভাব মৌলিক মানবীয় গুণ বা বন্ধু আপনার সাথী হবে।

ছয়: : দান: স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল উভয় অবস্থায় আর্থমানবতাকে দান করুন। আপনি আপনার নিজের সত্তার মধ্যে এক বিশেষ তৃপ্তিবোধ অনূভূত হবে। এই তুপ্তিটি আপনার বন্ধুতে পরিণত হবে।

Posted ৩:২৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রমজান ও জাকাত
রমজান ও জাকাত

(720 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.