বাংলাদেশ রিপোর্ট : | শুক্রবার, ০৪ আগস্ট ২০২৩
নিউইয়র্কের বিভিন্ন পর্যায়ের ৫৪ জন নির্বাচিত ডেমোক্রেট প্রতিনিধি নিউইয়র্ক সিটিতে গত এক বছর ধরে অবৈধ ইমিগ্রান্টদের নজীরবিহীন প্রবেশে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জরুরী অবস্থা জারি করার দাবি জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে। টেক্সাস থেকে সেখানকার গভর্নর তার একতরফা সিদ্ধান্তে ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’ খ্যাত নিউইয়র্কে গত ১৪ মাসে সীমান্ত অতিক্রমকারী ৯০ হাজারের অধিক ইমিগ্রান্টকে পাঠানোর ফলে ম্যানহাটানের কিছু কিছু এলাকার রাস্তায় সারাক্ষণ ইমিগ্রান্ট পরিবার এবং সকল বয়সী লোকজনকে ঘোরাফেরা ও আড্ডা দিতে দেখা যায়।
ডেমোক্রেট নেতা বাইডেনের কাছে লেখা এক চিঠিতে জরুরী অবস্থা জারি করার দাবি ছাড়া আগত ইমিগ্রান্টদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফেডারেল তহবিল থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার সিটিকে বরাদ্দ করার দাবিও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অবৈধ ইমিগ্রান্টদের জন্য ব্যয় সিটির ওপর বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেয়র অ্যাডামস একাধিকবার ফেডারেল সহায়তার অনুরোধ জানালেও ফেডারেল সরকার এখন পর্যন্ত এই খাতে কোনো আর্থিক সহায়তা দান করেনি।
সিটি প্রশাসনকে ইমিগ্রান্টদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে এবং মেয়র তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই খাতে সিটির ব্যয় দাঁড়াবে ৪.২ বিলিয়ন ডলার। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র আনুপাতিক হারে ইমিগ্রান্টদের বসবাসসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করার উপায় নির্ধারণের দাবিও জানান প্রেসিডেন্টের কাছে।
ডেমোক্রেট নেতারা দক্ষিণ সীমান্ত পথে অবৈধ ইমিগ্রান্ট অনুপ্রবেশ হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণের পরিবর্তে বরং প্রেসিডেন্টের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন অবৈধ ইমিগ্রান্টদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে, যাতে তাদেরকে সরকারি সহায়তার ওপর দীর্ঘদিন নির্ভরশীল থাকতে না হয়। তারা বলেন, বিপুল সংখ্যক ইমিগ্রান্ট নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয় নেওয়ার ফলে সিটির সকল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম।
নিউইয়র্ক সিটিতে ইমিগ্রান্ট ঢল রোধ করার উদ্যোগ হিসেবে সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস দক্ষিণ সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে তারা যাতে নিউইয়র্ক পর্যন্ত যাওয়ার কষ্ট না করেন। কারণ সেখানে ইমিগ্রান্টদের জন্য বসবাসের সংস্থান ও অন্যান্য ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে না।
নবাগত ইমিগ্রান্টদের আবাসন সংকট নিরসনে মেয়র এরিক অ্যাডামস প্রায় এক হাজার পুরুষ ইমিগ্রান্টকে কুইন্সের ‘ক্রিডমুর সাইকিয়াট্রিক সেন্টারে’ সাময়িকভাবে আশ্রয় গ্রহণের উদ্যোগ নিলে সিটি কাউন্সিলম্যান প্রার্থী বার্নার্ড চৌধুরীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেন। এর ফলে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
বাইডেনের কাছে পাঠানো চিঠির খসড় তৈরি করেছেন স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জেনিফার রাজকুমার এবং উল্লেখযোগ্য যারা স্বাক্ষর করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: অ্যাসেম্বলিওম্যান রডনিস বিশোট, সিনেটর কেভিন পার্কার, অ্যাসেম্বলিম্যান এরিক ডিলান, কাউন্সিলম্যান ফারাহ লুইস, সিনেটর লেরয় কমরি, সিনেটর জেমস স্যান্ডার্স, সিনেটর জোসেফ অ্যাড্ডাবো, অ্যাসেম্বলিম্যান রন কিম, কাউন্সিলওম্যান লিন শুলম্যান, সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, সিনেটর নাথালিয়া ফার্নান্দেজ, অ্যাসেম্বলিম্যান মাইকেল বেনেডেটো, অ্যাসেম্বলিম্যান জেফ ডিনোউইটজ, কাউন্সিলম্যান মারজোরি ভেলাক্যুয়েজ, অ্যাসেম্বলিম্যান হার্ভে এপস্টেইন, অ্যাসেম্বলিওম্যান রেবেকা রাইট, কাউন্সিলম্যান কিথ পাওয়ার্স, কাউন্সিলওম্যান জুলি মেনেন প্রমুখ।
Posted ৭:১১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ আগস্ট ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh