বাংলাদেশ অনলাইন : | শনিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৫
অভিনেত্রী অঞ্জনা। ছবি : সংগৃহীত
না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান। ৩ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন অঞ্জনা। যার মধ্যে অসংখ্য ছবি হিট হয়েছে পর্দায়। অঞ্জনার অসংখ্য ছবির ভিড়ে এমন কিছু ছবি রয়েছে, যা অভিনেত্রীকে এনে দিয়েছে সেরার তকমা।
১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি ঢাকাই সিনেমায় কাজ শুরু করলেও অঞ্জনার মুক্তি পাওয়া প্রথম চলচ্চিত্র ছিল শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’। এতে সোহেল রানার বিপরীতে অভিনয় করেন অঞ্জনা। সিনেমাটি অঞ্জনাকে রীতিমতো তারকাখ্যাতি এনে দেয়।
এই সিনেমার পর ইন্ডাস্ট্রিতে টানা কাজ করেন অঞ্জনা।
নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গেই অঞ্জনা সিনেমা করেছেন সবচেয়ে বেশি। এই জুটির ৩০টি সিনেমার মধ্যে অন্যতম ‘অশিক্ষিত’। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অশিক্ষিত’ পরিচালনা করেছেন আজিজুর রহমান। এই সিনেমার ‘ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে’ গানটি তার ক্যারিয়ারে অবদান রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন অঞ্জনা।
এ ছবিতে রাজ্জাকের বিপরীতে ‘লাইলী’ চরিত্রে সুযোগ দেওয়ায় নির্মাতা আজিজুর রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ ছিলেন অভিনেত্রী।
রাজ্জাকের সঙ্গে অঞ্জনার অসংখ্য সিনেমার মধ্যে আরেকটি বিশেষ সিনেমা ‘অভিযান’। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৮৪ সালে। এই সিনেমাতেও অঞ্জনার নায়ক ছিলেন রাজ্জাক, এটি পরিচালনাও করেছেন এই অভিনেতা। অঞ্জনার প্রশংসিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে এটিও একটি।
আলমগীর কবিরের পরিচালনায় ‘পরিণীতা’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন অঞ্জনা। ১৯৮৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাতে অঞ্জনার নায়ক ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সুপারহিট হওয়ার পাশাপাশি দর্শক সমালোচকদের মুখে প্রশংসার জোয়ার আসে অঞ্জনার নামে।
‘লালু সর্দার’ সিনেমাটিও অঞ্জনার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল সিনেমা। এতেও অঞ্জনার নায়ক ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এই সিনেমার গানগুলোয় অভিনেত্রীকে পাওয়া গেছে নাচের ছন্দে। তুমুল প্রশংসিত হয়েছিলেন অঞ্জনা।
সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে অঞ্জনার অন্যান্য সফল ও আলোচিত সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘মাটির মায়া’, ‘চোখের মণি’, ‘সুখের সংসার’, ‘জিঞ্জির’, ‘অংশীদার’ ,‘আনারকলি’, ‘বিচারপতি’, ‘আলাদীন আলীবাবা সিন্দাবাদ’, ‘মহান’ ও ‘রাজার রাজা’, ‘বিস্ফোরণ’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘রাম রহিম জন’, ‘নাগিনা’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অঞ্জনা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আন্তর্জাতিক পুরস্কার, একাধিক জাতীয় স্বর্ণপদক ও বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন কয়েকবার। নৃত্যশিল্পী হিসেবেও অঞ্জনা পেয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক স্বীকৃতি।
Posted ১০:১৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh