বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় খরচে থাকা-খাওয়ার জন্য ব্যয় করা অর্থের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ৩০ জুন (মঙ্গলবার) এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন এই আয়ভিত্তিক পরিশোধব্যবস্থা অভিবাসন ও আশ্রয় আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে শিক্ষা ঋণব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থা এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধ, নির্যাতন ও দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ওপর এটি কার্যত অতিরিক্ত কর আরোপের শামিল।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প থেকে সরকারের আয় খুবই সীমিত হবে। কারণ আশ্রয় পাওয়ার পাঁচ বছর পরও শরণার্থীদের ১৫ শতাংশেরও কম বছরে ২০ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ৩২ লাখ টাকা) বেশি আয় করেন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তার পেছনে প্রতি বছর সরকারের ৪ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়। এই খরচ কমিয়ে আনার জন্য লেবার পার্টির ওপর তীব্র চাপ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আশ্রয় সহায়তা পাওয়া একটি অধিকার, তবে এটি একটি দায়িত্বও বটে। মানুষ যখন অবদান রাখতে এবং ব্রিটিশ জনগণের উদারতা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে, তখন আমরা আশা করি তারা তা করবে।’
হোম অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মোট প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড ফেরত দিতে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইলে এই চার্জ বা মাশুল সমন্বয় করতে পারবেন। যদি কোনো সফল আশ্রয়প্রার্থীর কাছে পর্যাপ্ত তহবিল বা অর্থ থাকে, তবে তাকে একটি নির্দিষ্ট হারের মাশুল দিতে বলা হবে।
হোম অফিস আরো জানায়, ‘স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হওয়ার আগে অভিবাসীদের অবশ্যই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে।’
রিফিউজি কাউন্সিলের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ইমরান হুসেন বলেন, ‘নিপীড়ন, নির্যাতন ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা অন্যায় ও অবাস্তব। এটি তাদের পরিবার পুনর্গঠন ও নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইকে আরো কঠিন করে তুলবে। অনেক আশ্রয়প্রার্থীর এই সহায়তার প্রয়োজন হয়, কারণ হোম অফিস নিজেই আবেদন মূল্যায়নের সময় তাদের কাজ করা নিষিদ্ধ করে রাখে। এই নতুন আর্থিক বোঝা কেবল তাদেরই ক্ষতি করবে, যারা আমাদের তীরে খালি হাতে এসে পৌঁছেছে।’
হেলেন ব্যাম্বার ফাউন্ডেশনের আবাসন ও কল্যাণ ব্যবস্থাপক জো ডেক্সটার বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি সরকারের স্রেফ একটি দৃশ্যমান নিষ্ঠুরতা। আশ্রয় ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি বিলম্ব মোকাবিলার কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা নির্ভরযোগ্য পরিকল্পনা এই ঘোষণায় নেই।’
এই প্রকল্পটি কতটা সাশ্রয়ী হবে তা নির্ভর করবে আয়ের সীমা নির্ধারণ এবং এর আওতায় কতজন মানুষ আসছে তার ওপর। ২০২৩ সালের উপাত্ত অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে শরণার্থীর মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশের আয় ছিল অন্তত ২০ হাজার পাউন্ড। বাকিরা হয় বেকার ছিলেন অথবা এর চেয়ে কম আয় করতেন। যুক্তরাজ্যে জাতীয় জীবনযাত্রার মজুরি ২৫ হাজার পাউন্ডের কিছু কম।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মাইগ্রেশন অবজারভেটরির ডিরেক্টর ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেন, ‘উপাত্ত বলছে যে আয়ের সীমা যদি ন্যূনতম মজুরির চেয়ে অনেক নিচে রাখা না হয়, তবে আশ্রয় পাওয়া খুব কম সংখ্যক মানুষই এই প্রকল্পে অবদান রাখার মতো যথেষ্ট আয় করতে পারবেন। সামগ্রিকভাবে, সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্পের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হবে। কারণ এটি অত্যন্ত কম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সামর্থ্য-যাচাইকৃত পেমেন্ট।’
তিনি আরো বলেন, এই প্রকল্প সফল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ খোঁজার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে পারে অথবা তাদের বিকল্প আবাসনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। শরণার্থীর মর্যাদা পাওয়ার পর তাদের বেশি কর দিতে হবে ভেবে তারা কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে।
হোম অফিসের কাছে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ খরচের বিবরণ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করার আনুমানিক আয়ের সীমা জানতে চেয়েছিল দ্য গার্ডিয়ান। যেখানে স্টুডেন্ট লোন বা ছাত্রঋণ প্রকল্পের মূল পরিচালন বাজেট বছরে ৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড এবং সেখানে আয়ের সীমা হলো বছরে ২৬ হাজার ৯০০ পাউন্ড।
হোম অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়ের সীমার মতো বিবরণগুলো পরবর্তী উপ-বিধিতে নির্ধারণ করা হবে। এই বিষয়গুলো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিভাগটি প্রকল্পের সঠিক খরচ নির্ধারণ করতে পারবে না।
যুক্তরাজ্যের এই নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় বিলে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৮ কীভাবে অভিবাসন ও নির্বাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে, তা নির্দেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বয়স মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও এতে রয়েছে। হোয়াইটহলের সূত্র জানিয়েছে, দেরিতে আবেদন জমা দেওয়া বন্ধ করতে আধুনিক দাসত্ব কাঠামোও সংশোধন করা হবে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
Posted ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh