বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চার স্থানে পাহাড় ধসে নয়জনের মৃত্যু হয়। ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারে ১৮ জুন (মঙ্গলবার) রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কখনও ভারী, কখনও মাঝারি মানের বৃষ্টির কারণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চার স্থানে পাহাড়ধস ঘটেছে। এতে দশজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ও আটজন রোহিঙ্গা। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উখিয়ার ১, ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান। এর মধ্যে ১ নম্বর ক্যাম্পে ১ জন, ৮ নম্বর ক্যাম্পে ১ জন, ৯ নম্বর ক্যাম্পে ৩ জন, ১০ নম্বর ক্যাম্পে ৪ জন ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১ নম্বর ক্যাম্পে নিহত হন, এফ-৫ ব্লকের সুলতান আহমদের মেয়ে পুতনী বেগম (৩৪), ৮ নম্বর ক্যাম্পে নিহত হন, বি-৮২ ব্লকের মো. হারেজের ছেলে মো. হারেজ (৪)। ৯ নম্বর ক্যাম্পে নিহতরা হলেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার আলী জহুরের ছেলে মো. হোসেন আহমেদ (৫০), ওই ক্যাম্পের আই-৪ ব্লকের আলী জোহারের মেয়ে আনোয়ারা বেগম (১৮) ও আই-৯ ব্লকের মো. জামালের ছেলে মো. সালমান (৩)। ১০ নম্বর ক্যাম্পে নিহতরা হলেন, আবু মেহের (২৫), শাহানা (২২), আবুল কালাম (৫০) ও সেলিমা খাতুন (৪৫) এবং ১৪ নম্বর ক্যাম্পে নিহত হন উখিয়ার থাইংখালী এলাকার শাহ আলমের ছেলে আব্দুল করিম (১২)।
আরআরআরসি মো. মিজানুর রহমান জানান, বুধবার ভোর ৪টার দিকে ১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধ্বসে মারা যান একজন। সকাল ৬টায় ১০ নম্বর ক্যাম্পের বক্ল সি ৩-এ পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপা পড়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় ৯ নম্বর ক্যাম্পের আই ৪-এ পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। ওখানে উদ্ধার করা হয় ৩ জনের মরদেহ। ভোর ৪টার দিকে ৮ ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধ্বসে মারা যায় আর ২ জন। এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
আরআরআরসি জানান, নিহতদের ২ জন স্থানীয় বাসিন্দা। এর মধ্যে ৯ নম্বর ক্যাম্পে নিহত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার হোসেন আহমেদ নানা কারণে ক্যাম্পে অবস্থান করে মারা যান। আর ১৪ নম্বর ক্যাম্পে মারা যাওয়া আব্দুল করিম ১৪ নম্বর ক্যাম্পের পাশেই বাড়ি। ইতিমদ্যে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও কেউ ঝুঁকিপূর্ণ আছে কিনা দেখা হচ্ছে। তাদেরও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
এদিকে, কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপ-সহকারি পরিচালক তোফায়েল আহমদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
Posted ৫:২২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh