নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
বক্তব্য রাখছেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের প্রথম বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। গত ২৫ জুলাই শুক্রবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে মাইলস্টোন কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের শোকাবহ ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধান অতিথি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অসংখ্য প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। ২০২৪ পরবর্তী বদলে যাওয়া বাংলাদেশ সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির গণতান্ত্রিক দেশে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, দ্রুত বিকাশমান শিল্প ও সেবাখাত, তরুণ জনগোষ্ঠী, পরিশ্রমী এবং মেধাবী শ্রমের সহজলভ্যতা, দ্রুত প্রসারমান প্রযুক্তি সামর্থ্যসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো উল্লেখ করে তিনি অর্থনীতির চাকা সচল রাখার নিমিত্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি নাগরিক সমাজকে বাংলাদেশ প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের স্মরণের পাশাপাশি অভ্যুত্থানে আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অসংখ্য প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় তিনি শোক প্রকাশ করেন।
তিনি তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় ত্যাগের পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক স্বাগত বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রবাসী ছাত্র-জনতার ভূমিকা গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে তিনি প্রবাসীদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটি সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে।
এদিকে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে গত ২৫ জুলাই শুক্রবার জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস অডিটোরিয়ামে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় অধ্যায়ের দিনগুলোকে উপজীব্য করে আন্দোলন ও গণহত্যার পোস্টার ও আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। গণহত্যার উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে যারা বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেকেই আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন দূতাবাসে, তারা গণঅভ্যুত্থানের স্থিরচিত্র ও ভিডিও দেখেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী, প্রবাসী বাংলাদেশি ও দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ১২:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh