বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে তীব্র তাপ-প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তর-পশ্চিমের ওয়াশিংটন রাজ্য থেকে শুরু করে ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াÑ সবখানেই প্রচণ্ড গরম পড়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে এই তাপমাত্রা স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া জলশূন্যতার সমস্যা তৈরি হতে পারে। এনডব্লিউএস সতর্ক করে বলেছে, চলতি মাসে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বিপজ্জনক হতে পারে। সামনের দিকে প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ মানুষ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা অনুভব করবে। গত ১৫ জুলাই দিনের বেলা তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৪৮ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যে এই তাপপ্রবাহ আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে গরম পড়েছে সবচেয়ে বেশি। ফিনিক্স এবং অ্যারিজোনায় সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ডেথ ভ্যালিতে রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে আগামী সপ্তাহে বিপজ্জনক হারে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে উষ্ণতম স্থানে তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে। বর্তমানে দেশটির ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ওয়াশিংটনের প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ তাপমাত্রা সংক্রান্ত পরামর্শের অধীনে রয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সান জোয়াকিন উপত্যকা, মোজাভে মরুভূমি এবং গ্রেট বেসিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
তীব্র গরমের কারণে টেক্সাস রাজ্যে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের পরিমাণ আগেকার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ রাজ্যে গত ১৩ জুলাই বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় ৮১,৪০৬ মেগাওয়াটÑ যা এক নতুন রেকর্ড। বিভিন্ন জায়গায় পার্ক, জাদুঘর বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে বা খোলা থাকার সময় কমিয়ে দেয়া হয়েছে। আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মাঝে দক্ষিণ-পশ্চিমে ওয়াশিংটন রাজ্য পর্যন্ত জারি হয়েছে সতর্কতা। কানাডায় অন্তত ৯০০টি এলাকায় দাবানল দেখা দিয়েছেÑ যার মধ্যে প্রায় ৫৬০টিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আগুন জ্বলছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আগুন নেভাতে গিয়ে ১৯ বছরের একজন অগ্নিনির্বাপনকর্মী মারা গিয়েছেন। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে তাপ-সম্পর্কিত কারণে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ জন লোক মারা যায়।
কারণ জলবায়ু পরিবর্তন : গত সপ্তাহে সারা বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৭.২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসÑ যা সর্বকালের উচ্চতম তাপমাত্রার এক নতুন রেকর্ড। বিজ্ঞানীরা বলছেনÑ এই তাপমাত্রর বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ‘এল নিনো’ নামে প্রাকৃতিক আবহাওয়া-চক্র। প্রতি তিন থেকে সাত বছরের মধ্যে একবার এই এল নিনো দেখা দেয়Ñ যখন তাপমাত্রা উর্ধ্বমুখী হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীজুড়ে আবহাওয়ায় নানা অস্বাভাবিক প্রবণতা দেখা দিচ্ছে এবং অস্বাভাবিক গরম বা ঠাণ্ডা, বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন, দাবানলÑ ইত্যাদি নিয়মিত ঘটনা হয়ে যেতে পারে। পৃথিবীতে শিল্প যুগ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তাপমাত্রা প্রায় ১.১ ডিগ্রি বেড়েছে এবং সরকারগুলো কার্বন নির্গমনে বড় কাটছাঁট না করলে এ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে তাপ-সম্পর্কিত কারণে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ মানুষ মারা যায়। ব্যতিক্রমীভাবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় ফোসকা পড়া তাপ থাকবে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত। তাপপ্রবাহ এমন রাজ্যগুলোতে প্রভাব ফেলছে যেখানে সাধারণত গ্রীষ্মকালে বেশ গরম থাকে। তবে একাধিক অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বকালের রেকর্ডের সমান হবে বা অতিক্রম করবে।
লাস ভেগাস আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান হতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ স্থানগুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে সর্বকালের উচ্চ তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহ থেকে তীব্র গরমের সঙ্গে লড়ছে। টেক্সাসের এল পাসোতে তাপমাত্রা টানা ২৭ দিন ধরে ফারেনহাইটে তিন অঙ্কের ঘরে রয়েছে। সারা বিশ্বেই পারদ চড়ছে। গত সপ্তাহে, বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। প্রাকৃতিকভাবে এল নিনোর প্রবাহও রয়েছে; যার কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ও প্রতি তিন থেকে সাত বছরে ঘটে। শিল্প যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে পৃথিবী এর মধ্যেই প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে। কার্বন নির্গমন হ্রাস না করলে ক্রমশ আরো বিপজ্জনক দিকে যাবে তাপমাত্রা।
Posted ৩:০৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh