নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০২৩
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে মিশিগানের রাব্বী আলমের তথাকথিত মামলা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র কমিটির কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ এসেছে। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানান। বাইডেনের বিরুদ্ধে মামলাকারী ‘সুবিধাবাদী’, ধারণা আব্দুল মোমেনের। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই বক্তব্য আসার দুদিন বাদেই রাব্বী আলমকে সংগঠন থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র শাখা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। জানা গেছে যে, রাব্বী আলমসহ তার দুই ভাই রিজভী আলম ও শেরে আলম রাসুর বিরুদ্ধে তদন্ত দাবী করে ঢাকাস্থ আমেরিকান দুতাবাস এবং আমেরিকার ষ্টেট ডিপার্টমেন্টে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। তাদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি রাব্বী আলমের সঙ্গে সংগঠনের আর কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকছে না জানিয়ে তার সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো কাজ না করার জন্যও সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের বাধাদানকারীদের আটকাতে সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে মিডিয়ার কাছে প্রচার করেন মিশিগানে বসবাসরত রাব্বী আলম।
তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে পরিচয় দিলেও তার সেই কাজের সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “বঙ্গবন্ধু পরিষদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি পরিচয়দানকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান নিবাসী মো. রাব্বী আলমের বিরুদ্ধে সংগঠনের নিয়ম, শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তিবিরোধী বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর গত বছর তাকে কারণ দর্শাও নোটিস প্রদান করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়: “আজ অবধি তিনি এর কোনো উত্তর না পাঠানোর কারণে উক্ত নোটিসে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী স্বতঃসিদ্ধভাবে সংগঠনের সাথে তার সব ধরনের সম্পর্ক অবলুপ্ত এবং সেই সাথে বঙ্গবন্ধু পরিষদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাখার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হল।” রাব্বী আলমের সঙ্গে লেনদেনে সতর্ক করে আরেফিন সিদ্দিক ও আ ব ম ফারুক বলেন, “মো. রাব্বী আলম বর্তমানে কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে যুক্ত নন এবং তার সাথে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নামে কোনো রকম আর্থিক লেনদেন বা সংগঠনের প্রতিনিধিত্বমূলক কোনো কর্মকাণ্ড না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হল।“আরও জানাচ্ছি যে, তিনি অতীতে ও সম্প্রতিককালে বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে যেসব অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, তার কোনোটিতেই তিনি কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোনো পূর্বানুমতি বা অনুমোদন গ্রহণ করেননি। এগুলো সবই তার নিজস্ব উদ্যোগ। তাই এসব অভিযোগের সাথে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোনো পর্যায়েরই কোনো সম্পর্ক নেই।”
বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের সংগঠনটা বুদ্ধিভিত্তিক সংগঠন। এটা ওভাবে পলিটিক্যাল অর্গানাইজেশন না। সেই কারণে আমাদের এখানে ডিসিপ্লিন শক্তভাবে মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়। “সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী অনেকগুলো কারণেই গত বছর তাকে (রাব্বী) শোকজ করা হয়েছিল, অনেক বার সতর্ক করা হয়েছে, কিন্তু তিনি শোনেন নাই। তাই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।” ‘মাস দুয়েকের মধ্যে’ যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা হবে বলে জানান অধ্যাপক ফারুক। প্রধানমন্ত্রীর নামে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি়সহ বিভিন্ন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে রাব্বী আলমকে অব্যাহতি দিতে কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিলো ২০২১ সালের প্রথমদিকে।
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মিশিগান নিবাসী রাব্বী আলম কর্তৃক ক্রমাগত সংগঠন বিরোধী কাজ, ইমেইল ও ফেসবুক বিষয়ে একের পর এক সাইবার ক্রাইম, বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো, যিনি আদৌ মুজিব আদর্শের সৈনিক নন, যিনি জাতীয় পার্টি এবং মুনার সাথে সম্পৃক্ত, ফেসবুকে অকথ্য ভাষায় পোষ্ট দিয়ে দিয়ে সংগঠনের ক্ষতি করা, কেন্দ্রীয় নেতার লিখিত বিবৃতিকেও বারবার অমান্য করা, গুরুত্বপূর্ণ পদে খুশীমতো হায়ার ফায়ার করা, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মামুনের নামে এবং ডা. এস এ মালেকের নামে বারবার মিথ্যা বলা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিনা অনুমতিতে আল জাজিরার বিতর্কিত ও তার পারিবারিক মামলায় সংগঠনকে জড়ানো এবং কোন অনুমতি না নিয়ে অনলাইনে পেপল অ্যাকাউন্টের মাধ্য প্রধানমন্ত্রীর নামে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এম এ মোমেনের নামে চাদাবাজীর বিষয়সহ বিভিন্ন অভিযোগে রাব্বী আলমকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য ২০২১ সালে কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করেছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা নাসির আলী খান পল, আইরিন পারভিন, ডা. মাসুদুল হাসান, মোঃ আখতার হোসেন, সহ সভাপতি এ কে এম আলমগীর, ড. জামিল তালুকদার, হুমাউন আহমেদ চৌধুরী, জুনেদ এ খান, খালেদ আহমেদ, শাসসুদ্দীন আজাদ, রেজাউল করীম চৌধুরী, ড. এম এ বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান মিলন, আরবাব সীমন, মিনা ইসলাম, এ চৌধুরী পিরাক, রাজু আহমেদ মোবারক এবং সাধারন সম্পাদক খান শওকতসহ সংগঠনের ৫৪ জন কর্মকর্তা।
তখন তারা এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইতিপূর্বে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এস এ মালেকের নামে ভুয়া ইমেইল আইডি খুলে কেন্দ্রের নামে ২ বার ভুয়া ইমেইল প্রচার করে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদে সংকট সৃষ্টি করেন রাব্বী আলম। টেক্সাস থেকে তার ডক্টরেট ডিগ্রী ভুয়া প্রমানিত হয়েছে।
জো বাইডেনের বিরুদ্ধে রাব্বী আলমের মামলা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদেরকে বলেন, মিডিয়া কভারেজ ও বাহবা পেতে বাইডেনের নামে এই লোক দেখানো মামলা করেছে রাব্বী আলম। তিনি আরও বলেন, আওয়ামীলীগের মধ্যে অনেক জামাত-বিএনপি নেতা ঢুকে গেছে। সাধারণ সম্পাদক খান শওকত বলেন, রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের বিরুদ্ধে রাব্বী আলমের মামলাটি কোন মামলা নয়, বাহবা পাবার জন্য আদালতে একটা অভিযোগ দাখিল করে ডকেট নং (সিরিয়াল নং) পাওয়া মাত্রই সেটিকে মামলা হিসেবে মহাপ্রচারনা শুরু করেন রাব্বী আলম।
এতে বাংলাদেশের ১ শতাংশও লাভ হবেনা। তবে ক্ষতি হতে পারে নানানভাবে। সুধী সমাজের কাছে এ মামলাটি লোক দেখানো প্রপাগান্ডা বা বাহবার খোরাক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। প্রত্যেকটা সাক্ষাৎকার ও টিভি টক শো-তে রাব্বী আলমকে একজন অবিবেচক, মামলাবাজ, আইন অনভিজ্ঞ, অপরিনামদর্শী, ভন্ড এবং প্রচার পাগল বলে মন্তব্য করছেন সাংবাদিক ও সুধী সমাজ। কোন দেশের সরকার সেই দেশ ভ্রমনের জন্য কাকে ভিসা দেবে কি দেবেনা এটা সেই দেশের নিজস্ব বিষয়। যে মামলার কোন শুনানী হবেনা, জুরীবোর্ড হবেনা, আমেরিকার সংবিধানের কত নং ধারা জো বাইডেন লংঘন করেছেন তা প্রমান করা যাবেনা, সেখানে কিসের মামলা? একজন আমেরিকান নাগরিক কিসের স্বার্থে অন্যদেশের পক্ষে এভাবে নেমেছেন এবং নিজ দেশের রাষ্ট্রপতিকে মিডিয়ার সামনে ক্রিমিনাল বলছেন? তার আসল উদ্দেশ্য কি? এসব প্রশ্ন সামনে এলে এফবিআই তদন্তে রাব্বী আলমেরও ক্ষতি হতে পারে।
Posted ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh