বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪
ছবি : সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহসা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। গত ১৮ শনিবার ব্রুকলিনের বে রিজে ফিলিস্তিনি সমর্থক সমাবেশে পুলিশ আগ বাড়িয়ে সহিংস সংঘর্ষের সূচনা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে মর্মে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।
পুলিশ সেখান থেকে অন্তত ৪০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে। সেদিন ফিলিস্তিন সমর্থক বিক্ষোভকারীরা বে রিজে সমবেত হওয়ার আগেই নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে শত শত পুলিশ সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা অবস্থান নিয়েছিল এবং তাদের আচরণে বোঝা যাচ্ছিল যে, তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলে পড়বে।
ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। প্রতিবাদ বিক্ষোভের সংগঠকরা ধারণা করতে পারেননি যে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করতে পারে। শত শত বিক্ষোভকারী পুলিশের সংহিংস আচরণে হতবাক হয়েছে। শুধু ইউনিফর্মধারী পুলিশই যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগে সক্রিয় ছিল তাই নয়, সাদা পুলিশের পুলিশও বিক্ষোভকারীদের ওপর হাত উঠিয়েছে।
একটি ছবিতে দেখা যায় যে, সাদা শার্ট পরা কমপক্ষে দু’জন অফিসার একটি ক্রসওয়াকের মাঝখানে তিন বিক্ষোভকারীকে ঘুষি মারছেন। পঞ্চাশ সেকেন্ডের এক ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় যে, অপর এক অফিসার একজন বিক্ষোভকারীকে মাটিতে ফেলে তাকে চেপে ধরে রেখেছেন এবং বারবার তার পাঁজরে ঘুষি মাছেন। আরো একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায় যে, অপর একজন অফিসার এক বিক্ষোভকারীর মুখের বাম দিকে প্রচন্ড ঘুষি মারছেন। অফিসার তার মাথা চেপে ধরে ছিলেন রাস্তার অ্যাসফল্টের ওপর।
রোববার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি কমিশনার অফ অপারেশন ক্যাজ ডট্রি তার বাহিনীর নেয়া আগ্রাসী পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন যে, বিক্ষোভকারীরা বেআইনিভাবে রাস্তা অবরোধ করেছিল এবং যানবাহন চলাচলে গুরুত্বর বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি জানান পুলিশ অফিসার প্রায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। কমিশনার ড্যট্রি এক ব্যক্তির ড্রোন ফুটেজ শেয়ার করেছেন যিনি একটি সিটি বাসে ছিলেন। কমিশনার তার পেজে লিখেছেন, “প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের আছে এবং পুলিশ তার গর্বের সাথে রক্ষা করে। কিন্তু আইন ভঙ্গের মতো ঘটনা, বেআইনি কার্যকলাপ কখনও সহ্য করা হবে না।” তিনি পুলিশ অফিসারদের বলপ্রয়োগ করা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। পুলিশের সহিংস আচরণ সম্পর্কে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামসের মুখপাত্র তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
পুলিশ বিভাগের পেট্টল গাইড বলেছেন যে, পুলিশ অফিসারদের অবশ্যই কোনো ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা অথবা কাউকে হেফাজতে নিতে আবশ্যিক যৌক্তিক শক্তি প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। উল্লেখ্য, ব্রুকলিনের বে রিজ এলাকায় উল্লেখযোগ্য আরব-আমেরিকান জনসংখ্যা রয়েছে। প্রতি বছর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ বা ‘বিপর্যয়’ তাদের বিপর্যয়ের স্মরণে এ ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করে। কারণ ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তখন হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে জীবন বাঁচাতে পলায়ন করতে বাধ্য হয়েছিল। তাদের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রেও এসেছিলেন।
ব্রুকলিনে ভারত ও ইসরাইলী পণ্য বর্জনের দাবিতে সমাবেশ
নিউইয়র্ক : জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার উদ্যোগে ভারত এবং ইসরাইলী পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। গত ১৭ মে জুমার নামাজের পর ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র জাগপার সভাপতি রহমতুল্লাহ ভূঁইয়া।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক-সাংবাদিক সাঈদ তারেক, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, বৃহত্তর নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরামের উপদেষ্টা ছালেহ আহমেদ মানিক, আহসান উল্লাহ বাচ্চু, কুয়েত বিএনপির নেতা মাহফুজুর রহমান, জাগপার সাংগঠনিক সম্পাদক মইন উদ্দিন আফসার, প্রচার সম্পাদক ইকবাল হোসেন পাটোয়ারি, আনসার আলী, শহীদ উল্লাহ, কামাল হোসেন, আশরাফুল হাসান, আরমান হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আব্দুল মান্নান দিদার, ইমরান হোসেন, জাবেদ হোসেন ও মনির হোসেন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী।
সমাবেশে বক্তারা সব বিদেশি চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে যে কোন মূল্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বাংলাদেশে ভারতীয় ও ইসরাইলী পণ্য বর্জন আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বক্তারা ভারতীয় আগ্রাসন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদ জানান।সমাবেশে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে রহমত উল্যাহ বলেন, ভারতীয় তাঁবেদার সরকারের ভারত তোষণনীতির কারণেই সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না।
বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই ভারত সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফ নির্বিচারে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করছে। এই হত্যাকান্ড বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা রহস্যজনক। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সরকার প্রতিবাদ করতে পারছে না।
বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার করতে পারলে বিজিবি সদস্যদের প্রাণ দিতে হতো না। কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ী সীমান্তে বিনা উস্কানীতে বিএসএফ কর্তৃক বাবার সামনে কন্যাশিশু ফেলানীকে হত্যাসহ সারা বছর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ-এর নিরীহ বাংলাদেশিদের হত্যা ভারতের আগ্রাসী চরিত্র ও সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পরিচয় বহন করে।
Posted ১২:৩৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh