বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ক্যাম্প ।। ফাইল ছবি
রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত সরকার।
রোহিঙ্গা সংকট নবম বছরে প্রবেশের মধ্যে শনিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই হওয়া সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে মিয়ানমার। খবর : এপি’র
রোহিঙ্গা সংকট নবম বছরে প্রবেশের মধ্যে শনিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে একটি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার পর ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ওই অভিযানের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে বসবাস শুরু করেছিল।
২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা ও সহিংসতার কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ ওঠে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মহল থেকেও এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের কাছ থেকে তারা এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা পেয়েছে। জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ওই তালিকা থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
যাচাই হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করেছে তারা। তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে মিয়ানমার যেসব কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ হিসেবে অভিহিত করেছে, তাতে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে মিয়ানমার বলেছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই হওয়া সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে তারা।
আটকে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৮ সালে দুই বছরের একটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়েছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে সেই উদ্যোগে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগও কার্যত থমকে যায়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২০২৩ সালে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হলে। প্রাণ বাঁচাতে আরও মানুষ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রাখাইনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আরাকান আর্মি। এদিকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে কঠিন জীবনযাপন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরার সুযোগ না থাকায় অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ায় থাকা পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।
তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ওই প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুধু মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাইকৃত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে—এমন প্রতিবেদনও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
Posted ৪:৫২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh