বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০২৩
নিউইয়র্ক সিটি
নিউইয়ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস দাবী করেছেন যে, নিউইয়র্কারদের নিরাপদ রাখার জন্য তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও গুলিতে হতাহতের ঘটনা কমিয়ে আনতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই তিনি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। তিনি বলেন যে, গত দেড় বছরে নিউইয়র্কে বসবাসকারীরা তার উদ্যোগের সুফল ভোগ করছেন।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সিটিতে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা ২৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, প্রায় ৪,০০০ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যা, ডাকাতি ও চুরির ঘটনা লক্ষ্যণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। এখন সাবওয়ে অধি নিরাপদ এবং হেটক্রাইম আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
সিটি মেয়র তার অপ-এড নিবন্ধে পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কোনো ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে কোনোভাবেই অপরাধীরা, বিশেষ করে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা অঘটন ঘটানোর আগেই এর পরিণতি সম্পর্কে পূর্ব ধারণা করতে পারে। তাই আমরা অপরাধের মূল কারণগুলো নির্মূলের প্রতি অধিক মনোযোগী এবং আমাদের এ ধরনের উদ্যোগের ফলে বহু সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রেও দু:খজনক বা বিয়োগান্তক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে অনেক কম। কিন্তু আমরা এতে আত্মপ্রসাদ লাভ করছি না। নিউইয়র্ককে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ শহরে পরিণত করার লক্ষ্যে আমাদের আরো কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর ক্যাথি সি হকুলের সহযোগিতায় আমাদের ‘গান ভায়োলেন্স প্রিভেনশন টাস্ক ফোর্স নিউইয়র্কারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো নিচ্ছিদ্র করার উদ্দেশ্যে ‘ব্লুপ্রিন্ট ফর কমিউনিটি সেফটি’ নামে একটি নীলনকশা তৈরি করেছে। এর বাস্তবায়নে ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে এবং আমাদের জননিরাপত্তা উদ্যোগ আরো দ্বিগুণ গতি লাভ করবে এবং আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট ও গ্যাং ভায়োলেন্স আরো হ্রাস পাবে বলে আমরা আশা করছি। আমরা এই অর্থ বিনিয়োগ করবো, আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতার শিকার কমিউনিটি, আমাদের তরুণদের সহায়তার জন্য, কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও অগ্রাধিকার হচ্ছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা নির্মূলের জন্য প্রয়োগিক ব্যবস্থার চেয়েও বেশি আবশ্যক সার্বক্ষণিক নজরদারি করা এবং এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশল বাস্তবায়নের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
আমাদের সামনে মূখ্য প্রশ্ন একটি এবং তা হলো, আমাদের পক্ষে কীভাবে রাস্তায় সহিংস ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিহত করা সম্ভব? কমিউনিটি সদস্যদের সহায়তায় আমাদের টাস্ক ফোর্স সাতটি কৌশল উদ্ভাবন করেছে, সেগুলো হচ্ছে: ‘ট্রমা ইনফরমড কেয়ার,’ ‘হাউজিং,’ ‘এমপ্লয়মেন্ট,’ বেনিফিটস অ্যাকসেস,’ ‘পুলিশ ও নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন,’ কমিউনিটির সচেতনতা,’ ও তরুণদের রক্ষা করতে পূর্ব উদ্যোগ গ্রহণ।’
এরিক অ্যাডামস বলেন, এসব কর্মসূচির কোনো কোনোটি এখনো চালু আছে। যেমন, ২২.৫ মিলিয়ন ব্যয়বরাদ্দ সম্বলিত ‘ওয়ার্ক, লার্ন, গ্রো’ কর্মসূচি বছর জুড়ে আমাদের তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করছে এবং ৬.৬ মিলিয়ন ব্যয়বরাদ্দ সম্বলিত একটি কর্মসূচির অধীনে চাকুরির জন্য তরুণদের বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচি অত্যন্ত ফলপ্রসু বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
মেয়র বলেন, সিটির সবচেয়ে অধিক আগ্নেয়াস্ত্র সহিংস প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের ৬টি প্রিসিঙ্কটকে টার্গেট করে আমরা আমাদের উদ্যোগ শুরু করতে যাচ্ছি, যা পর্যায়ক্রমে সিটির অন্যান্য অপরাধ প্রবণ এলকায় সম্প্রসারিত হবে। তিনি বলেন যে, কারো পক্ষে রাতারাতি সিটি থেকে অপরাধ ও আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা নির্মূল করা সম্ভব নয়। কারণ এসব অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা একদিনে বেড়ে উঠেনি। আমরা আমাদের লক্ষ্যে কাজ করবো, যাতে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতার শিকার হয়ে নিরীহ নিউইয়র্কাররা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
Posted ১:১০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh