বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩
অনুষ্ঠানে বাঁ থেকে- ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ মালেক
স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস যুক্তরাষ্ট্র থেকে বৈধ পন্থায় বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণকারী একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু দীর্ঘ এক যুগ আগে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দ্রুত এবং নিরাপদে স্বদেশে স্বজনদের হাতে পৌছে দেয়ার যে দৃঢ় অঙ্গীকার ছিলো প্রতিষ্ঠানটির তা প্রমাণিত হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস ধরে রেখেছে তার স্ট্যান্ডার্ড বা মর্যাদা। সময়ের ব্যবধানে অর্জন করেছে গ্রাহকদের বিশ্বস্থতা ও আস্থা।
পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। প্রবাসীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়ে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। উন্নত গ্রাহক সেবার জন্য প্রশংসিত হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস। অপরদিকে অবদান রাখছে দেশের সার্বিক আর্থিক উন্নয়নে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দক্ষভাবে পরিচালিত স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের গন্ডি এখন বিস্তৃত হয়েছে লসএঞ্জেলেস পর্যন্ত। নিউইয়র্ক সিটি, বাফেলো এবং লস এঞ্জেলেস মিলে স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের ৮টি শাখা কাজ করছে সার্বক্ষণিক। গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে লক্ষাধিকে। প্রেরিত ডলারের পরিমাণ ছুঁয়েছে বিলিয়নের ঘর।

স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের এবছর উত্তরণ ঘটেছে তেরো বছরে। সাফল্যের একটি যুগ অতিক্রম করার মহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করে বর্ষপূতি অনুষ্ঠানের। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক, অতিথি ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত মিলনমেলায়।

‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে গত ১২ জুলাই বুধবার উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেট, বাংলাদেশ এবং স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস ইউএসএ’র চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় অতিথিদের ।
মূল পর্বে অতিথিদ্বয় ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সোনালী এক্সচেঞ্জ ইনক’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও দেবশ্রী মিত্র, বিএ এক্সপ্রেস-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আতাউর রহমান, সানম্যান এক্সপ্রেস-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসুদ রানা তপন, সাবা এক্সপ্রেস-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও এ এইচ এম নাজমুল করীম, গ্রহকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, ঢাকা আহসানিয়া মিশন ইউএস চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক আনিসুল কবীর জাসির ও ব্রুকলীনে বসবাসকারী মাহবুবুর রহমান এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’জ্যাকসন হাইটস শাখার ম্যানেজার মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন আশরাফুল হাসান বুলবুল।
অনুষ্ঠানে কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ইতিপূর্বে নিউইয়র্কে ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ প্রতিষ্ঠা ও যাত্রা শুরুর স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি আল্লাহতায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ ১২ বছর ধরে প্রবাসীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং আগামীতেও সেবার মান আরো বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক প্রতিষ্ঠা আমার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের একটি অংশ ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’। দেশবাসী আর প্রবাসীরা মিলে-মিলেই দেশ সেবা করছেন। তিনি সঠিক পথে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরন ও বিনিয়োগের জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিগত দিনে ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ প্রবাসীদের সহযোগিতায় ১২ বিলিয়ন ডলার দেশে প্রেরণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যে যেখানেই থাকি না কেনো, সবার মনে রাখতে হবে আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। তিনি বলেন, আজ পদ্মা সেতু হয়েছে, মেট্রোরেল হয়েছে, কর্ণফুলী ট্যানেল হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পারি, আমরাই পারবো। প্রধানমন্ত্রীর এই মূলমত্র হচ্ছে প্রবাসীদের রেমিটেন্স। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসা ও ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহানের দেশপ্রেমের কথা তুলে ধরেন এবং মা-বাবা আর দেশের সেবা করার আহ্বান জানান।
ড. মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ ১২ বছর পূর্তিতে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্স আর এক্সপোর্ট বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। মহামারী করোনা আর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের পরও বাংলাদেশ টিকে আছে প্রবাসীদের রেমিটেন্সের কারণে। আজ দেশে পদ্মা সেতু স হবড় বড় মেঘাপ্রকল্প হচ্ছে প্রবাসীদের রেমিটেন্সের কারনেই। তিনি দেশের কল্যাণে প্রবাসীদের আরো ভূমিকা রাখার আহবান জানান। আব্দুল মালেক তার বক্তব্যে ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি একটি প্রতিষ্ঠনে কাজ করার সময় বিগত ২০১০ সালের জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্ক সফলকালীন সময়ে প্রচন্ড বরফের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ প্রবাসীদের নিরাপদে অর্থ প্রেরণ আর দেশের কথা ভেবে তার স্বপ্নের কথা জানান।
সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১১ সালের মার্চ মাসে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ চালু হলেও একই বছরের ১১ জুলাই আনুষ্ঠঅনিকভাবে উদ্বোধন হয়। আজ ১২ বছরে ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’। তবে এই যাত্রা সহজ ছিলো না। আব্দুল মালেক বৈধ পথে দেশে অর্থ প্রেরণের জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান বলেন, অবৈধ পথে বা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরিত হলে সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হবে না। এই অর্থ মাদক, নেশাসহ খারাপ কাজে ব্যবহৃত হবে। নতুন প্রজন্ম সহ দেশবাসীকে রক্ষায় বৈধ পথে অর্থ প্রেরনের বিকল্প নেই। তিনি ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’-এর সেবার মান আরো বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যেকোন সমস্যায় গ্রহকদেও সরাসরি তার সাথে যোগাযোগের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রবাসে বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সহ ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ বিপুল সংখ্যক গ্রহক উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
Posted ২:৫৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh