শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ স্থগিতাদেশ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ০১ জুলাই ২০২১

ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ স্থগিতাদেশ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারীদের স্বস্থির মাত্রা বৃদ্ধি করতে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের উপর মরাটরিয়াম বা স্থগিতাদেশ, যার মেয়াদ ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত ছিল তা থেকে আরেক দফা বৃদ্ধি করে ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বর্ধিত করেছে। এটিই চূড়ান্ত উচ্ছেদ স্থগিতাদেশ বলে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)’র পক্ষ থেকে জানান হয়েছে। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপক কর্মহীনতার সৃষ্টি হওয়ায় যারা ভাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেন এমন অসংখ্য মানুষের পক্ষে ভাড়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। অনেকে আংশিক ভাড়া পরিশোধ করেছেন। বাড়ি মালিকরা যাতে ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে না পারে সেজন্য ফেডারেল সরকার উচ্ছেদের উপর স্থগিতাদেশ বা মরাটরিয়াম জারি করেছেন। অপরদিকে বাড়ি মালিকরা যাতে ভাড়া থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য সরকার বাড়ি ভাড়া সহায়তার ১৫ মাসের বকেয়া বাড়ি ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ডিপার্টমেন্ট অফ হাউজিং এন্ড আরবান ডেভেলপমেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী করোনা মহামারীর কারণে কর্মহীনতা, করোনায় আক্রান্ত হওয়া অথবা পরিবারের আর্থিক সংস্থানকারী ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে যে আয়হীনতার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির কারণে ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারী ৬৪ লাখ আমেরিকান গত মার্চ (২০২১) মাস পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে পারেনি অথবা আংশিক পরিশোধ করেছে। এজন্য সরকার অসংখ্য মানুষের হোমলেস হয়ে পড়ার পরিস্থিতি ঠেকাতে দফায় দফায় মরাটরিয়ামের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে, যে কারণে বাড়ি মালিকরা ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ করার জন্য হাউজিং আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেনি।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর করোনা ভাইরাস রেসকিউ প্যাকেজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারী আমেরিকানদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশে ৫০ বিলিয়ন বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বরাদ্দকৃত অর্থ ইতোমধ্যে ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। গত শুক্রবার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বলেছেন বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরণ সম্পর্কে স্থানীয় এজেন্সিগুলোকে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যার ফলে করোনা ভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রথমে সরাসরি আর্থিক সংকটে পতিত ভাড়াটিয়াদের কাছে সহায়তার অর্থ পৌছানোর জন্য বলা হয়েছে। এরপর আসবে বাড়ি মালিকদের মধ্যে বিতরণ ইস্যু। নতুন নির্দেশনায় একথাও বলা হয়েছে যে বাড়ি মালিকরা যদি এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নাও করে সেক্ষেত্রেও ভাড়াটিয়াদের কাছে সরাসরি অর্থ পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে বাড়ি মালিকরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ভাড়াটিয়াদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হবে। এই নিশ্চিত হওয়ার জন্য অর্থ বিতরণে সামান্য বিলম্ব হতে পারে। ভাড়াটিয়াদের ভাড়া পরিশোধে অক্ষমতার কারণে বাড়ি মালিকরা যে আইনে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়, করোনা সংক্রমণের পর থেকে ফেডারেল নির্দেশনায় উচ্ছেদ করার ওপর স্থগিতাদেশ জারির পর বাড়ি মালিকদের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করলে গত বুধবার আদালত রায় দেয়। আদালত উচ্ছেদ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে রায় দিলে সেন্টারস ফল ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) নির্দেশনায় উচ্ছেদের কবল থেকে এতদিন ধরে স্বস্থিলাভকারী ভাড়াটিয়ারা উচ্ছেদের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে তাদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা দ্রুততর করার আহবান জানান হয়েছে। এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বলেছে যে এখন স্থানীয় এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তাছাড়া ফেডারেল আর্থিক সহায়তা যথাযথ বিতরণের দিকেও দৃষ্টি দেয়ার জন্য আহবান জানান হয়েছে। উচ্ছেদ প্রতিহত করতে ফেডারেল ও স্টেট সরকারগুলোর নজীরবিহীন প্রচেষ্টা সত্বেও ইতোমধ্যে ফেডারেল কোর্টে বাড়ি মালিকদের পক্ষ থেকে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলার রুলিং এ উচ্ছেদের ওপর স্থগিতাদেশকে সমর্থন করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি মামলার রুলিং এ উচ্ছেদ বন্ধ করাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের ওপর স্থগিতাদেশের প্রথম বিরোধিতা শুরু হয় টেক্সাসের বাড়িমালিকদের পক্ষ থেকে। তারা যুক্তি প্রদর্শন করে যে, সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তাদের এখতিয়ার লংঘন করেছে। অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা বলেছেন যে, তারা অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করেছেন এবং এগুলো সংস্কার, রক্ষাবেক্ষণ করেন, ব্যাংকের মর্টগেজ পরিশোধ করেন। ভাড়াটিয়ারা যদি ভাড়া পরিশোধ না করেন তাহলে কিভাবে তাদের পক্ষে মর্টগেজ প্রদান বা অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে। কারণ কোনো কর্তৃপক্ষই সুস্পষ্টভাবে বলেনি যে অপরিশোধিত ভাড়া পাওয়ার ব্যাপারে সরকার কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ওহাইয়োর ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অফ হোম বিল্ডার্স এর পক্ষ থেকে সিডিসি’র গাইডলাইনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার রুলিং এ বিচারক জে ফিলিপ ক্যালাব্রেসি বলেছেন, কংগ্রেস সিডিসিকে যে বিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব প্রদান করেছে, সিডিসির আদেশে সেই এখতিয়ার লংঘিত হয়েছে।

Posted ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ জুলাই ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.