বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৬ জুলাই ২০২৩
ছবি : সংগৃহীত
সামারের প্রচণ্ড গরম ও সূর্যের প্রখর তাপ থেকে নিউইয়র্কারদের বাঁচাতে নতুন উপায় অবলম্বনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে সিটি কর্তৃপক্ষ। কারণ এবার সামারে গড় তাপমাত্রা অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি হবে আভাস দেওয়া হয়েছে, অর্থ্যাৎ তারা অসহনীয় গরমের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। গরম যাতে স্বাস্থ্যের জন্যে ঝুঁকি না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখা প্রত্যেকের কর্তব্য।
কারণ আবহাওয়াজনিত অন্যান্য কারণের মধ্যে অধিক তাপমাত্রা কারণে অধিক নিউইয়র্কারের মৃত্যু ঘটে এবং নিউইয়র্কে যে সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ অধিক তাপমাত্রার কারণে মারা যায়, তার দ্বিগুণ সংখ্যক কৃষ্ণাঙ্গ নগরবাসী মারা যায় গরমে। বৃদ্ধ নিউইয়র্কারদের অবস্থা গরমে নাজুক হয়ে পড়ে এবং রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া ছাড়া তারা পৃথিবী ছেড়ে যায় বেশি।
যারা ভাগ্যবান, তাদের এয়ারকন্ডিশনার আছে, তারা এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল বহুগুণ বেড়ে যায় এবং বাতাসে কার্বন মিশে জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে নিউইয়র্কারদের অন্তত এখন কি করা উচিত, কীভাবে তারা গরম থেকে স্বস্তি লাভ করতে পারে। যারা সামারে ঘরের বাইরে কাটাতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য গাছের ছায়া স্বস্তিদায়ক হতে পারে। কিন্তু সর্বত্র তো ছায়াদার বৃক্ষ নেই। নিউইয়র্কে ছায়াও মহার্ঘ পন্যের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে স্থপতি, আরবান প্ল্যানার, ডেভেলপার ও পরিবেশবাদীরা উত্তাপ ও প্রখর সূর্যকিরণ থেকে নগরবাসীকে বাঁচাতে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে তাদের কাজের কিছু বর্ণনা দেখা যেতে পারে।
পরিবেশবাদীদের অগ্রাধিকার কৌশলের মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ বাতাস আটকে সেটিকে প্রাকৃতিকভাবে শীতল করা। এটা বহুকাল আগে থেকে চলে আসছে। ১৯৯৬ সাল থেকে নন-প্রফিট সংস্থা ট্রাস্ট ফর পাবলিক ল্যান্ড সিটির স্কুলগুলোর ২২৫টি অ্যাসফল্ট চত্তরকে সবুজ ছায়াপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে। এ ব্যাপারে ছাত্র-শিক্ষকরাও সংস্থাটিকে সহযোগিতা করেছে আন্তরিকতার সঙ্গে। চত্তর ঘিরে ছায়াদার গাছ লাগানো হয়েছে, বেঞ্চসহ গেজবো স্থাপন করা হয়েছে। স্কুলগুলোতে আরো গেজবো স্থাপন এবং যেখানে ফাঁকা স্থান আছে বা গাছ লাগানো প্রয়োজন, সেখানে স্কুলের প্রিন্সিপালগণ নিজেদের সিদ্ধান্তে গাছ রোপন করতে পারবেন।
২০১২ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ভয়াবহ হ্যারিকেন স্যান্ডিতে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় দশ হাজার গাছ উপড়ে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত উপড়ে যাওয়া গাছের স্থলে নতুন গাছ রোপন করার কাজ শেষ হয়নি। নতুন নতুন আবাসিক প্রকল্প, যেগুলো বিশেষ করে নগরীর অট্টালিকার ভিড়ের মধ্যে ফাঁকা স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে, সেগুলোর চারপাশে বৃক্ষ রোপণের কোনো সুযোগ নেই, সেসব অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীদের স্বস্তি গরমে ঘরের মধ্যে সেন্ট্রাল এয়ারকুলিং এ থাকা।
সামারে প্রকৃতিকে শীতল রাখতে অন্যান্য ব্যবস্থার চেয়ে নিউইয়র্ক সিটির ৭০ লাখ গাছের অবদান সবচেয়ে বেশি। গাছগুলো ছায়া দান করে, কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে, অক্সিজেন দেয়, পরিবেশ ভালো লাগে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষ যদি গাছের কাছকাছি থাকে তাহলে মানসিক চাপ থেকেও অনেকটা মুক্ত থাকে। বর্তমানে সিটির ২২ শতাংশ জায়গা বৃক্ষাচ্ছাদিত। কিন্তু গাছের বিরাজমানতার মধ্যেও বৈষম্য রয়েছে।
বিত্তবানদের এলাকাগুলোতে গাছ অধিক, অতএব ছায়াও অধিক। নিম্ন আয়ের লোকজনের বসবাস যেখানে অধিক, ওইসব এলাকায় গাছের সংখ্যাও কম, অতএব ছায়াও কম। সিটির পাঁচ বরোর প্রেসিডেন্টরা মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ২০৩০ সালের মধ্যে আরো দশ লাখ গাছ রোপনের জন্য। সিটি কাউন্সিল ‘ফরেস্ট ফর এনওয়াইসি’ নামে বিভিন্ন সংস্থার একটি কোয়ালিশনের সঙ্গে সমঝোতায় উপনীত হয়েছে যে ২০৩৫ সালের মধ্যে সিটিতে গাছের ছায়ার বিস্তার ৩৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
Posted ৩:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ জুলাই ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh