মোহাম্মদ আজাদ : | বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০২৩
ছবি : সংগৃহীত
ফেঁসে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্যাপিটল হিলে তার সমর্থকদের জড়ো করেন এবং তাদেরকে উস্কানি দিয়ে কংগ্রেস ভবনে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক ঘৃণ্য অধ্যায়ের সৃষ্টি করেন। যে কারণে জানুয়ারি ৬ প্যানেল দীর্ঘ তদন্ত করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল অভিযোগ এনে একাধিক মামলা দায়ের করে। মাত্র চার মাসের মতো তৃতীয় বারের মতো ফৌজদারি অপরাধে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয় এবং একই সঙ্গে ফ্লোরিডাতেও মামলা দায়ের করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী বছরের মার্চে রিপাবলিকার প্রাইমারির আগেই মামলাগুলোর রায় হতে পারে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবারও তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন এবং রিপাবলিকান প্রাইমারির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোন রিপাবলিকান প্রার্থীর তুলনায় অনেক এগিয়ে আছেন। জরিপ অনুযায়ী ৪৪ শতাংশ রেজিস্ট্রার্ড রিপাবলিকান ট্রাম্পকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস হচ্ছেন ট্রাম্পের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে তার জনপ্রিয়তা মাত্র ২২ শতাংশ।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের এক জরিপে দেখানো হয়েছে যে আগামী বছরের নভেম্বরের নির্বাচন এখন অনুষ্ঠিত হলে ডোমোক্রেট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পাবেন ৪৩.৪৭ শতাংশ ভোট এবং ট্রাম্প পাবেন ৪৩.৩৭ শতাংশ ভোট।
গত ১ আগস্ট স্পেশাল কাউেিন্সল জ্যাক স্মিথ সাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৪৫ পৃষ্ঠার অভিযোগ পত্রটি দাখিল করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বিখ্যাত আইনজীবী জ্যাক স্মিথকে দায়িত্ব দিয়েছেন মামলাটি পরিচালনার জন্য। তাকে সহায়তা করছেন একাধিক জাদরেল আইনজীবী। অন্যদিকে ট্রাম্পের আইনজীবী হচ্ছেন জন লারো। আরো আইনজীবী রয়েছেন ট্রাম্পের লিগ্যাল টিমে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বহু আইনজীবী ট্রাম্পের পক্ষে মামলা নিতে অস্বীকার করেছেন, কারণ তারা মনে করেন যেসব অভিযোগে মামলা হয়েছে, সেগুলোতে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
১ আগস্ট শুনানিতে ফেডারেল জজ তানিয়া চ্যাটকান ট্রাম্পকে তিনি দোষী না নির্দোষ প্রশ্ন করলে ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। জজ তাকে মামলার বিধি সম্পর্কে তাকে জানান যে, মামলা চলাকালে কোনো অহেতুক মন্তব্য করা, কাউকে ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দেওয়া যাবে না। কিন্তু ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণা গিয়ে জজের নির্দেশ অমান্য করে বক্তব্য রাখেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, “আপনি আমার পেছনে লাগলে আমিও আপনার পেছনে লাগব।”
এটি প্রকাশের পর স্পেশাল কাউন্সেল ট্রাম্পের ওপর সমন জারি করে গত সোমবার তাকে কোর্টে হাজির হতে বলেছিলেন। এছাড়া গত শুক্রবার ট্রাম্প আরেকটি বার্তায় বলেন, “আমি জো-সহ যেকোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে জরিপে এগিয়ে আছি। ওয়াশিংটন ডিসিতে কোনো বিচার পাব না এবং সেখানে কোন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।” তিনি তার বিরুদ্ধে মামলায় সুপ্রীম কোর্টের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কিন্তু কিছু আইন বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, সুপ্রঅম কোর্ট এখানে হস্তক্ষেপ করবে না। তাদের মতে, এখানে আইনগত কিছু ইস্যু কাজ করছে, সুপ্রীম কোর্টের এখানে করার কিছু নেই। তারা বলেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব নির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে, তাতে তিনি জয়ী হতে পারবেন না, তা প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। গত সোমবার যখন ট্রাম্পর্কে আদালতে তলব করা হয় তখন ট্রাম্পের আইনজীবীরা সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সময় দেওয়া হয়নি। ট্রাম্পের আইনজীবীরা প্রকৃতপক্ষে সময় ক্ষেপণের চেষ্টা করছেন। কারণ তারা মনে করছেন যে, যদি এভাবে ২০২৪ এর নির্বাচন পার করিয়ে নেয়া যায়, এবং সেই নির্বাচনে যদি ট্রাম্প জয়ী হন, তাহলে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না। স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ চাইছেন আগামী মার্চে রিপাবলিকান প্রাইমারির আগেই মামলাগুলো শেষ করতে।
ফেঁসে যাচ্ছেন জুলিয়ানিও : নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র ও সাবেক হোয়াইট হাউজ আইনজীবী রুডি জুলিয়ানিও নির্বাচনী মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন। কারণ ২০২০ সালের নির্বাচনের পর নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়রে অভিযোগ এনে তিনি একাধিক স্টেটে ৩৭টি মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে মামলাগুলো সবই ভূঁয়া। যে কারণে মামলাগুলো সবই খারিজ হয়ে গেছে। এসব ভূঁয়া মামলা দায়ের করার করার কারণে বিভিন্ন স্টেটে জুলিয়ানির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। রক্ষা পাওয়ার জন্য তিন কৌশলে লবিং শুরু করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
Posted ১:২৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh