বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০২৩
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়মিত অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তবে অপরাধের মাত্রা ১৯৮০’র দশকের মতো নয়। সিটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরাধী সংখ্যা এবং তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র সংখ্যাও নি:সন্দেহে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু চার দশক আগের চেয়ে অপরাধ কমেছে বলে আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ নেই।
কারণ, অপরাধ কমলেও সিটির ৭০ শতাংশ বাসিন্দা অপরাধের শিকারে পরিণত হতে পারেন বলে ভীত, এবং তাদের এ ভীতি আগের তুলনায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ভীতি এত প্রবল যে, গত ১২ মাসে সিটিবাসী আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করেছেন। ১৯৮৫ সালে বার্নহার্ড গোয়েটজ নামে এক ব্যক্তি সাবওয়ে ট্রেনে গুলি করে চার কিশোরকে হত্যা করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি হুমকি অনুভব করেছিলেন বলে গুলি চালিয়েছেন।
মেয়র এরিক অ্যাডামস দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিউইয়র্ক সিটিকে আমেরিকার বৃহৎ সিটিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বার বার যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে আসছেন, এবং সেই লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, সেসবের সঙ্গে বাস্তবতার অনেক ব্যবধান। পরিসংখ্যানের দিক থেকে আগের তুলনায় হয়তো অপরাধ কমেছে, কিন্তু অপরাধ ঘটতে পারে এবং যে কেউ এর শিকার হতে পারেন এই ভীতি অনেক বেড়েছে। সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে এক রিপোর্টার মেয়রের কাছে জানতে চান যে, কীবাবে তিনি নিউইয়র্কের ‘সবচেয়ে নিরাপদ সিটি’র ভাবমূর্তি রক্ষা করবেন, যেখানে সিটিবাসী নিরাপদ বোধ করছে না?
তিনি আরো জানতে চান যে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অপরাধ নির্মূল করা কি আদৌ সম্ভব কিনা। সিটিতে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটে চলেছে, সিটিতে যারা যাতায়াতের মুখ্য মাধ্যম হিসেবে সাবওয়ের ওপর নির্ভর করতো, সাবওয়েতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটার কারণে তারা সাবওয়ে ব্যবহার পরিত্যাগ করেছে। সিটির অনেক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে এর সদুত্তর নেই। নিউইয়র্কারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার ভীতি ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। রাতে যেকোনো প্রহরে যেসব এলাকা দিয়ে নির্ভয়ে চলাচল করা সম্ভব ছিল, সেসব পথে এখন রাতের নির্জনতা ভেঙে কেউ চলাচলের সাহস করে না। একথা সত্য যে মেয়র এরিক অ্যাডামস এক বছর আগে ‘গান ভায়োলেন্স টাস্ক ফোর্স’ গঠন করার পর থেকে অন্তত পরিসংখ্যানগত দিক থেকে সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে, যেমন, সিটিতে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা ২৬ শতাংশ কমেছে, হত্যাকাণ্ড কমেছে ১১ শতাংশ। চুরি ডাকাতিও লক্ষণীয় হারে হ্রাস পেয়েছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতির ব্যাপারে মেয়রের কথামালার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সঙ্গতি নেই বলে মন্তব্য করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
মেয়র এরিক অ্যাডামস এক টেলিভিশন ইন্টারভিউয়ে বলেছেন যে, কোনো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে, তার মানুষের মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে এবং তা থেকে সার্বক্ষণিক ভীতির জন্ম হতে পারে। কিন্তু সিয়েনা কলেজের এক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কথা ভিন্ন। তাদের ৩৯ শতাংশ বলেছেন যে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে এখন তারা যেমন ভীত, আগে তারা কখনোই এতটা ভীত অনুভব করেননি। গত জুন মাসে পরিচালিত এই জরিপে সিটির ৩৪৫ জন বাসিন্দাকে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা নিউইয়র্ক সিটির জন্য সতর্কতামূলক সাড়া দেন যে নিরাপত্তার অভাব এখানে সর্বব্যাপী।
সিয়েনা রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ডাইরেক্টর ডন লেভি বলেছেন যে, সিটিজুড়ে নাগিরিকদের মধ্যে অপরাধের শিকারে পরিণতি হওয়ার ভীতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭০ শতাংশ সিটিবাসী মনে করেন যে তারা অপরাধের শিকার হতে পারেন এবং ১৭ শতাংশ সিটিবাসী গত ১২ মাসে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করেছেন।
Posted ১:৩১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh