বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৩
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঝড়ো বাতাসসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছিল নিউইয়র্ক সিটিসহ প্রায় সমগ্র স্টেট, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি এবং পেনসিলভেনিয়াসহ পূর্ব উপকূলীয় আরো কয়েকটি স্টেটে। এর আগের সপ্তাহ থেকে নিউইয়র্কে দুযোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার থেকে টানা প্রবল বর্ষণ অব্যাহত ছিল শুক্রবার সারাদিন ও প্রায় সারারাত এবং আবহাওয়া দফতরের মতে অতীতে রেকর্ড ভেঙেছে দুদিনে বর্ষণ। নিউইয়র্ক সিটির উপকূলবর্তী নিম্নাঞ্চল ছাড়াও বেশ কিছু এলাকা, লং আইল্যান্ড, পার্শ্ববর্তী কানেকটিকাটের লং আইল্যান্ডের অনেক এলাকা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। এসব স্থানের কোনো এলাকার রাস্তায় বুক সমান পানি হয়ে যায়, এবং রাস্তার দু’পাশে পার্ক করা গাড়িগুলো ডুবে যায়। কিছু গাড়িকে পানিতে ভেসে যেতেও দেখা যায়। ওইসব এলাকার অনেক বাড়ির বেসমেন্টে পানি উঠেছে এবং যেসব বাড়ির প্রথম তলার ফ্লোর তুলনামূলকভাবে নিচু, সেসব বাড়ির প্রথম তলাও জলমগ্ন হয়েছে।
রাস্তায় পানি উঠার কারণে সিটির অনেক স্থানে সাবওয়েসহ গণপরিবহনসহ সকল যানবাহনের জন্য রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছি। শনিবার বৃষ্টিপাত কম ছিল বলে সিটি পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। জাতীয় আবহাওয়া দফতরের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নিচু এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল এবং তারা সাড়া দেওয়ায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্টেট গভর্নর ক্যাথি সি হকুল সতর্ক করেছিলেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গুরুতর ঝড় দিন দিন বেড়ে চলেছে। শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ক্যাথি হকুল বন্যা সতর্কতা মেনে চলার জন্য নিউইয়র্কবাসীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন ঝড় ও বন্যায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে হাডসন উপত্যকা থেকে বন্যা কবলিত ২৮ জনকে উদ্ধার করেছে জরুরী সেবাদানকারী দলগুলো।
এদিকে নিউইয়র্ক শহর প্রতিবছর গড়ে ১.৬ মিলিমিটার দেবে যাচ্ছে । সেই সঙ্গে দেবে যাচ্ছে শহরটির লা গার্দিয়া বিমানবন্দর, আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়াম এবং কনি আইল্যান্ডের মতো বিখ্যাত অনেক স্থাপনা। নিউইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিউইয়র্কে ১.৭ ট্রিলিয়ন পাউন্ড ওজনের ১০ লাখেরও বেশি ভবন রয়েছে। আর এসব ভারি ভারি ভবনের চাপেই দেবে যাচ্ছে শহরটি। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং রুটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মূল ‘হটস্পটগুলোকে’ চিহ্নিত করেছেন যেগুলো খুব দ্রুত দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লা গার্দিয়া বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটির রানওয়ে ৩.৭ মিলিমিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইউএস ওপেনের হোম, আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়াম প্রতি বছর ৪.৬ মিলিমিটার দেবে যাচ্ছে। ম্যানহাটনকে নিউ জার্সির সঙ্গে সংযুক্তকারী ইন্টারস্টে ৭৮ মহাসড়কও গড় হারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে দেবে যাচ্ছে। এছাড়াও গার্ডেন স্টেটের সঙ্গে স্টেটেন আইল্যান্ডকে সংযুক্তকারী হাইওয়ে ৪৪০ একই হারে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। অন্যান্য হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে কনি দ্বীপ, গভর্নরস দ্বীপের দক্ষিণ অর্ধেক, স্টেটেন দ্বীপের মিডল্যান্ড এবং দক্ষিণ বিচ এবং দক্ষিণ কুইন্সের একটি উপকূলীয় এলাকা আরভার্ন বাই দ্য সি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে স্যান্ডির মতো শক্তিশালী ঝড়ের সময় ‘গুরুতর সমস্যা’ তৈরি হতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কজুড়ে যে কয়েক লাখ ইমারত গড়ে ওঠেছে, সেগুলোর ওজনে দেবে যাচ্ছে শহরটির উপরিতল। এ প্রক্রিয়া ৮৪ লাখ মানুষের শহর নিউইয়র্ককে ফেলে দিচ্ছে ঝুঁকির মুখে। কারণ, শহরের চারপাশ ঘিরে বৈশ্বিক হারের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। ১৯৫০ সাল থেকে নিউইয়র্ক সিটির আশপাশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৯ ইঞ্চি বা ২২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এটি ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকায় এখনকার চেয়ে এ শতাব্দীর শেষদিকে বড় ধরনের বন্যার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও বেশি মারাত্মক হতে পারে।
২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ৪৮টি উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ৪৪টিই দেবে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোর তালিকায় নিউইয়র্ককে তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, নিউইয়র্ক হলো সারা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান উপকূলীয় শহরগুলোর প্রতীক। এখানে ক্রমবর্ধমান জলাবদ্ধতা হ্রাস করা একটি যৌথ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ কেন্দ্রের ভূপদার্থবিদ টম পারসনস বলেন, ‘এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; তবে এটি চলমান প্রক্রিয়া, যা বন্যা থেকে জলমগ্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।’ এদিকে নাসার প্রতিবেদনে গবেষকরা লিখেছেন, ‘উপকূলীয় বন্যা থেকে জনগণ এবং সম্পদ রক্ষা করা নিউইয়র্ক সিটির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।
Posted ১২:২৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh