বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৩
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের শাসনামলে ইতোমধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ৫৬ লাখের বেশি বিদেশি অবৈধ উপায়ে সীমান্ত অতিক্রম করায় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ইমিগ্রান্টের বর্তমান সংখ্যার দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে বলে ইউএস কাস্টমস এন্ড বর্ডার প্রটেকশন বিভাগ আশঙ্কা করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছর মেয়াদে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যত বিদেশি অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে, অর্থ্যাৎ পোনে তিন বছরে প্রায় তার তিনগুণ বেশি বিদেশি অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যখন প্রতিমাসে যেখানে ৫১,০০০ বিদেশি সীমান্ত অতিক্রম করেছে, সেক্ষেত্রে বাইডেনের আমলে প্রতি মাসে গড়ে প্রবেশ করেছে ১৮৯,০০০ জন। এসব ইমিগ্রান্ট এসেছে ৭৬টি দেশ থেকে। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত, বাইডেন প্রশাসন ২০ লাখের বেশি ইমিগ্রান্টকে দেশের অভ্যন্তরে ছেড়ে দিয়েছিলেন। বর্ডার প্রটেকশন বিভাগ জানিয়েছে যে, ২০২৩ সালে সন্ত্রাসবাদের নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬৯জন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সময় গ্রেফতার করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, যা ট্রাম্পের ২০১৭ থেকে ২০২০বছর পর্যন্ত সময়ে মাত্র ১১ জন ছিল। এদিকে ইমিগ্রেশন আদালতগুলোতে বর্তমানে ২,৭৯৪,৬২৯ মামলা জট পাকিয়ে আছে, যার মধ্যে ২০২৩ অর্থবছরের অক্টৈাবর পর্যন্ত ১,৪৮৮,১১০টি নতুন মামলা স্থান পেয়েছে এবং কেবল ৬৬৯,০১১টি নিম্পন্ন হয়েছে।
শূধু দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর সীমান্ত অর্থ্যাৎ কানাডা সীমান্ত দিয়েও অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ বেড়েছে। উত্তরের সীমান্ত পথে বর্ডার পেট্টলের একটি অংশ দিয়ে গত ১১ মাসে ৬,১০০জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে, যে সংখ্যা এর পূর্ববর্তী ১০ বছরের মিলিত সময়ে আটক বিদেশিদের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। যারা ভিসা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চায় বাইডেন প্রশাসন তাদের ক্ষেত্রে সীমান্ত অতিক্রমের বিকল্প হিসেবে ‘বৈধ উপায়’ সৃষ্টি করেছেন, যার ফলে প্রশাসন গত তিন বছরে প্রায় ৩৬ লাখ ইমিগ্রান্টকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থানের জন্য প্যারোল বা সাময়িক অনুমোদন দান করা হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ১২ লাখের প্যারেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তারা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাননি। কিউবা, হাইতি, এল সালভেদর, গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, কলম্বিয়া, নিকারাগুয়া ও ভেনিজুয়েলা থেকে আগতদের মধ্য থেকে প্রতি মাসে ৩০,০০০ জন প্যারোল লাভের বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল, যা অধিকাংশের ক্ষেত্রে একটি পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়া। .
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড এর সেক্রেটারি আলেজান্দ্রো মায়োরকাস বলেছেন যে, একজন ব্যক্তি বিদেশি বলেই অপসারণযোগ্য বলে বিবেচনা করা উচিত নয় এবং ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগকারী বিভাগগুলোকে সর্বপ্রধান বিবেচনায় রাখতে হয় যে, জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় প্রতিবন্ধতা সৃষ্টির জন্য কারা হুমকি এবং এভাবে আমেরিকাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন দিকগুলোর ওপর খেয়াল রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধীদের ডিপোর্ট করার ক্ষেত্রে বাইডেনও তার পূর্বসূরী ট্রাম্পের নীতির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। উভয়েই অপরাধী অভিবাসীদের অপসারণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অন্যান্যে ক্ষেত্রে দু’জনের ডিপোর্টেশন নীতির প্রধান পার্থক্য হলো, বাইডেন অপরাধী নয় এমন সাধারণ ইমিগ্রান্টদের ডিপোর্টেশন থেকে ছাড় দিয়েছেন, কিন্তু যারা এখানে অবৈধভাবেঅবস্থানের কারণে ডিপোর্টেশন করার যোগ্য ট্রাম্প তাদের ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেননি। কঠোরভাবে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ না করায় বাইডেনের ২০২৩ অর্থবছরের বর্তমান পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রান্ট প্রবেশ করেছে ২,০৪৫,৮৩৮।
বাইডেনের ইমিগ্রেশন নমনীয়তার কারণে প্রশ্ন উঠেছে যে, তিনি এমন সব ইমিগ্রান্টদের দেশে অবাধে ঘোরার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন, যারা তাদের এসাইলাম আবেদনের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে না। ইমিগ্রেশন আদালতগুলো জট বেঁধে থাকা ইমিগ্রেশন মামলার শুনানি শেষ করতে পারছে না বিচারক সীমাবব্ধতার কারণে। সে অবস্থায় নতুন করে যাদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে তাদের মামলা নিস্পত্তিতে বছরের পর বছর লেগে যাবে। ২০২১ সালের শেষে ইমিগ্রেশন আদালতে জট বেঁধে থাকা মামলা সংখ্যা ১,৫৯৬,১৯৩ পৌঁছেছিল, যা অতীতের যেকোনো অবস্থার চেয়ে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ২০২৩ অর্থবছরের শেষে মামলা সংখ্যা দাঁড়ায় ২,৭৯৪,৬২৯ এবং এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইমিগ্রেশন আদালতগুলো ২০২৩ অর্থবছরেই ১,৪৮৮,১১০টি নতুন মামলা পেয়েছে এবং কেবল ৬৬৯,০১১টি নিম্পন্ন হয়েছে। বাইডেন প্রশাসন ১৫০ জন নতুন ইমিগ্রেশন বিচারক নিয়োগের জন্য তহবিলের অনুরোধ করেছে। কিন্তু কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস জানিয়েছে যে ইমিগ্রেশন আদালতগুলোর বিচারক সংখ্য ৬০০ থেকে বাড়িয়ে এখন ১,৩৪৯ জনে উন্নীত করা হলেও মামলাজট স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে আরো ১০ বছর সময় লাগবে। এই সংকট শেষ করার গ্রহণযোগ্য উপায় কারো জানা নেই।
Posted ৩:০৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh