বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৩
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলী গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসরাইলী বর্বরতা, অনতিবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ এবং স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত ১৭ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে জ্যামাইকা কমিউনিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার-জেএমসির সামনের ১৬৮ স্ট্রিটে বাদ জুমা র্যালী পূর্ব সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও নুতন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা অংশ নেন। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, ইকনা, কেয়ার, এনওয়াই, মুনা মজলিম সুরাহ, এমসি আই সহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জোর দাবি উচ্চারিত হয়। জেএমসির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডাঃ মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমানের উদ্যোগে এবং জেএমসির বর্তমান সেক্রেটারী আফতাব মান্নান, জয়েন্ট সেক্রেটারী ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার, সাবেক সেক্রেটারী আক্তার হোসেন এবং বিশিষ্ট এক্টিভিস্ট আব্দুল আজিজ ভূইয়া সমাবেশ আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

রেহাত মান্নানের উপস্থাপনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেএমসির প্রেসিডেন্ট ডাঃ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, জেএমসির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডাঃ মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান, সেক্রেটারী আফতাব মান্নান, ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ নাজমুল খান, আলমামুর এলিমেন্টারি স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রাদার লোইয়া, ইকনা লোকাল চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট তারিকুর রহমান, নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান জোহরান মামদানী, কেয়ার এন ওয়াই এর নির্বাহী পরিচালক আফাফ নাসের, মজলিস সুরাহ’র তরুণ স্বেচ্ছাসেবী জায়েদ খান, ড্রামের সাংগঠনিক পরিচালক কাজী ফৌজিয়া, জেএমসি’র জয়েন্ট সেক্রেটারী ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। সমাবেশে ফিলি¯িÍিনদের অধিকারের প্রতি একাত্নতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন একজন তরুণ ইহুদী এক্টিভিস্ট। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোস্তফা আবদেল রহিম। ইসরাইল বিরোধী মুর্হমূহু শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে। বিক্ষোভকারীরা ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরততি চাই,’ এবং “স্বাধীন ফিলিস্তিন’ এর পক্ষে নানা ধ্বনি তোলে।
সমাবেশে বক্তাগণ অনতিবিলম্বে গাজায় ইসরাইলী গণহত্যা বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। বক্তাগণ বলেন, গত ৭ অক্টোবরের পর ইসরাইলী আগ্রাসী বাহিনী ফিলিস্তিনের গাজা এবং পশ্চিম তীরে ১৩ সহস্রাধিক নিরাপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। যাদের সিংহভাগই শিশু এবং নারী। তারা গাজার উত্তর অংশকে কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। ইসরাইলী বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার হাত থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। হাসপাতাল সহ সকল প্রতিষ্ঠানকে মিশিয়ে দিচ্ছে মাটির সাথে। বিদ্যুৎ, পানি, খাবার, জ্বালানি সহ সবধরণের টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে বিরান ভূমিতে পরিণত করেছে গাজাকে। দীর্ঘ ৭৫ বছর যাবত ফিলিস্তিনকে অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছে ইসরাইল।
ইসরাইলী দখলদারিত্ব এবং গণহত্যায় সমর্থন ও ইন্ধন যোগানের জন্য বক্তাগণ পশ্চিমা বিশ্বকে দায়ী করেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কট্টর সমালোচনা করে বক্তাগণ বলেন, সাধারণ নাগরিকদের ট্যাক্সের অর্থ ফিলিস্তিনীদের হত্যাকান্ডে ব্যবহার করছে সরকার। বক্তাগণ ইসলাইলকে নিঃশর্ত সমর্থন বন্ধ করে ফিলিস্তিনীদের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বাইডেন প্রশাসনের প্রতি। ইউএস কংগ্রেসের কতিপয় সদস্যের সমালোচনা করেন তারা। সমাবেশ শেষে বিশাল একটি র্যালী হিলসাইড এভিন্যুতে ১৭৫ স্ট্রিটে গিয়ে স্থানীয় পার্কে পুনরায় সমাবেত হয়। র্যালী চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানান। সমাবেশ ও র্যালী চলাকালে স্থানীয় পুলিশ ছিলো নিরাপত্তা বিধানে। জ্যামাইকা কমিউনিটিতে সাম্প্রতিককালে এতো বড় র্যালী কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
Posted ৪:৫০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৩
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh