বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, এ সপ্তাহে, আমরা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আমেরিকান নেতাদের একজন, ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ডে উদযাপন করেছি, যা ছিল তার কৃতিত্বকে সম্মান করার মুহূর্ত। পাশাপাশি তিনি যেসব অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, তার সেই উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও আমাদের জন্য একটি সুযোগ এনে দেয়। আমাদের অবশ্যই নতুন শক্তি খুঁজে হবে নিউইয়র্ক সিটি এবং দেশজুড়ে তার অসমাপ্ত কাজ অব্যাহত রাখার পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো ভেঙে সত্যিকারের সমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।
মেয়র অ্যাডামস তার সাপ্তাহিক মতামত নিবন্ধে আরো বলেন, ন্যায্য আবাসনের জন্য লড়াই করা এবং এমন একটি সিটিতে আবাসন গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরী, যেখানে কর্মজীবী মানুষ নিশ্চিন্ত হয়ে বসবাস থাকতে পারে এবং তাদের উন্নয়ন সাধন করতে পারে। তিনি বলেন, কর্মজীবী মানুষের জন্য আবাসন একটি প্রধান সমস্যা, যে সমস্যা সমাধানের জন্য ড. কিং তার জীবদ্দশায় লড়াই করে গেছেন। ২০২৪ সালে আবাসন সমস্যার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ আরো জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেয়র এরিক অ্যাডামস আরো বলেন যে, অনেকে একথা বিস্মৃত হন যে, ডক্টর কিং বাড়িমালিক এবং রিয়েলটরদের দ্বারা সৃষ্ট বৈষম্যমূলক আচরণ অবসানের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যারা কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের নির্দিষ্ট নেইবারহুডের বাইরে রেখেছিলেন। তিনি সেই বৈষম্যমূলক আচরণগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে ‘ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্টের’ পক্ষ সমর্থন করেছিলেন। এই যুগান্তকারী আইনটি অবশেষে ডক্টর কিং এর হত্যার এক সপ্তাহ পরে কংগ্রেস দ্বারা অনুমোদন করেছিল।
নিউইয়র্ক সিটিতে আমরা আমাদের সিভিল রাইটস এর দৃষ্টান্ত থেকে গর্ব করতে পারি। তবে আমাদের ইতিহাসের একটি অন্ধকার দিক রয়েছে যা এখনও আমলে নেয়া হয়নি, তা হলো বৈষম্য এবং বিচ্ছিন্নতার মনোভাব দূর করে আরও আবাসন ইউনিট তৈরি করার মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়সঙ্গত সিটি তৈরি করতে আমাদের অবশ্যই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা এখনও ৬০ বছরেরও বেশি সময় আগের তৈরি জোনিং আইনের অধীনে বসবাস করছে।
এ আইনে এখনও জাতিগত বিচ্ছিন্নতার বৈশিষ্ট রয়েছে এবং অনেকে এ আইনের পক্ষপাত করেন। এই আইনের বিদ্যমানতার কারণে নিউইয়র্কবাসী গত কয়েক দশক ধরে আবাসন সংকটে ভুগছেন। পুরোনো জোনিং আইনের কারণে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো এমন স্থানে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণে আগ্রহী, যেখানে তারা ভাড়া বেশি পাবে এবং বিক্রয়মূল্যও অধিক হবে, যা মাঝারি ও নিম্ন আয়ের মানুষের সাধ্যের বাইরে। এর ফলে সিটিতে বাড়ি ভাড়া ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বহু নিউইয়র্কবাসী অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছে। অতএব , পুরাতন এবং সঙ্গতিহীন জোনিং আইন এখনই পরিবর্তন করা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে।
মেয়র আরো বলেন যে, এ কারণেই আমাদের প্রশাসন “সিটি অফ ইয়েস ফর হাউজিং অপরচ্যুনিটি”র প্রস্তাব দিয়েছে, যা প্রতিটি নেইবারহুডে নতুন আবাসন গড়ে তোলার পক্ষে প্রচারণা চালাবে। নিউইয়র্কবাসীদের প্রয়োজনীয় আবাসন ক্রয়ক্ষমতা প্রদানের জন্য আমরা অ্যালবানিকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের “সিটি অফ ইয়েস” পরিকল্পনা ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্টের প্রতিশ্রুুতি প্রদান করবে বলে আমার আশা।
Posted ৬:১৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh