ঢাকা | শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৪
ব্যাংক হতে প্রকল্প ঋণ গ্রহণ করছেন; কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ঋণের আয় সে ব্যাংকে জমা হচ্ছে না। কিছু কিছু ঋণগ্রহীতার নামে এমন অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এর ফলে ব্যাংকের ঋণ আদায়ে যেমন ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপর দিকে প্রদেয় ঋণের যথাযথ তদারকি করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এমনি পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ঋণ ঝুঁকি হ্রাস করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণে গড়ে উঠা প্রকল্পগুলোর আয় বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর পরিপালনের জন্য গতকাল এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ দিকে খেলাপি ঋণ আদায়ে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য একটি পথনকশা তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত ১৮ জানুয়ারি এমন এক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ঋণগ্রহীতারা যেসব প্রকল্পে ঋণ নেন ওই ঋণ পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে প্রকল্পের নামে একটি হিসাব খুলে থাকেন। ওই হিসাবের মাধ্যমে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতা প্রকল্পের নামে ঋণ নিচ্ছেন। কিন্তু ওই সব প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়ন করছেন কি না, নাকি ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে ওই টাকা পাচার করছেন তা অনেক ক্ষেত্রে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। আবার ওইসব প্রকল্প থেকে কোনো আয় হচ্ছে কি না তাও জানা যাচ্ছে না। নাম সর্বস্ব কিছু প্রকল্পের নামে তারা এ অর্থ বের করে নিচ্ছেন এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণত, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ওই প্রকল্প থেকে আয় হওয়ার কথা। ওই আয় থেকে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা, প্রকল্পের পরিচালন ব্যয় নির্বাহ হওয়ার কথা। কিন্তু আদৌ এসব প্রকল্প গড়ে উঠছে কি না তা জানা যাচ্ছে না। আবার ওই প্রকল্প থেকে মাসে কী পরিমাণ আয় হচ্ছে তাও জানা যাচ্ছে না। এতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণ আদায়ে যেমন ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি বেড়ে যাচ্ছে সামগ্রিক ঝুঁকি।
ব্যাংকগুলোর ঋণ ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংক থেকে অর্থায়ন করা প্রকল্পের ঋণ আদায় ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এবং ঋণ হিসাবের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এ জন্য প্রকল্পের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের নামে বাধ্যতামূলকভাবে হিসাব খুলতে হবে। সিন্ডিকেট ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে প্রকল্পের আয় সংগ্রহের জন্য লিড ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক থেকে ঋণ আদায় নিশ্চিত করতে প্রকল্পের আয় তদারকি করতে হবে। প্রকল্পের আয় ঋণের বিপরীতে প্রদেয় কিস্তির তুলনায় বেশি হলে আলোচ্য আয়ের বাড়তি অংশ জমা গ্রহণের জন্য ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক বা লিড ব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণ সাপেক্ষে অন্য ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নামে হিসাব খোলা যাবে।
এ দিকে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। একশ্রেণীর ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করছেন না। নামে-বেনামে ঋণ নিচ্ছেন। কিন্তু আসল তো দূরের কথা, ক্ষেত্রবিশেষ মুনাফাও পরিশোধ করছেন না। এমনি পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা ও খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ জন্য একটি পথনকশা (রোডম্যাপ) প্রস্তুতকরণ এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুদ্রানীতি প্রণয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক বৈঠকের সূত্র ধরে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে আগামী জুন শেষে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও বিনিময় হারের উপর চাপ প্রশমনের লক্ষ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে, পলিসি রেট তথা ওভারনাইট রেপো সুদহার বিদ্যমান শতকরা ৭.৭৫ শতাংশ হতে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ৮.০০ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ; নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) বিদ্যমান শতকরা ৯.৭৫ শতাংশ হতে ২৫ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস করে ৯.৫০ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ; নীতি সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) বিদ্যমান শতকরা ৫.৭৫ শতাংশ হতে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ৬.৫০ শতাংশে নির্ধারণ উল্লেখযোগ্য।
Posted ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh