স্পোর্টস ডেস্ক | শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৪
ছবি: সংগৃহীত
ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বল ডট দিলেও পরের দুই বলে দুই ছক্কা হজম করেন দুর্দান্ত ঢাকার শরিফুল ইসলাম। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটা বাজে ওভারই! তবে এরপর ইনিংসের শেষ তিন বলে টানা ৩ উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শরিফুল। এই বাঁহাতি পেসারের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে অল্প রানেই আটকে রাখে দুর্দান্ত ঢাকা। শেষ পর্যন্ত গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে অভিযান শুরু করে আসরের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। গত ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) চলতি আসরের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লাকে ৫ উইকেটে হারায় দুর্দান্ত ঢাকা। মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে আগে ব্যাটিং করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান করে কুমিল্লা। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন ইমরুল কায়েস। জবাবে ৩ বল বাকি থাকতেই জয় পায় ঢাকা। গত আসরেও প্রথম ম্যাচ হেরেছিল কুমিল্লা। শেষ তিন বলে খুশদিল শাহ, রোস্টন চেজ ও মাহিদুল ইসলামকে একে একে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শরিফুল।
এবারের বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক এটি। আর সব মিলিয়ে বিপিএলে সপ্তম। তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪ ওভারে ২৭ রান খরচায় ৩ উইকেট।
বাংলাদেশি হিসেবে বিপিএলে হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ বোলার শরিফুল। ২০১৫ বিপিএলে বরিশাল বুলসের হয়ে সিলেট সুপার স্টারসের বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন পেসার আল আমিন হোসেন। এরপর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক আসে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ঢাকা ডায়নামাইটসের স্পিনার আলিস আল ইসলামের হাত ধরে। আর শরিফুলের আগে সর্বশেষ ২০২২ বিপিএলে হ্যাটট্রিক করেন চট্টগ্রামের তরুণ পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। সবমিলিয়ে বিপিএলে সর্বপ্রথম হ্যাটট্রিক করেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ শামি। বিপিএলের প্রথম আসরে দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকটি করেন ডানহাতি এই পেসার। ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন আরেক পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। একই আসরে হ্যাটট্রিক করেন ঢাকা ডায়নামাইটসের ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। এদিন কুমিল্লার দেওয়া ১৪৪ রান তাড়া করতে নেমে ঝড়ো শুরু পায় ঢাকা। প্রথম দুই ওভারেই দলটির স্কোরবোর্ডে জমা হয় ২৫ রান। যেখানে কুমিল্লার পেসার মুশফিকুর রহমানে করা দ্বিতীয় ওভার থেকে নাঈম একাই তুলে নেন ১৯ রান। প্রথম পাওয়ার প্লেতে দলটির স্কোরবোর্ড বিনা উইকেটে জমা হয় ৫৬ রান। আরেক পাশে গুনাতিলাকাও ততক্ষণে খোলস ছেড়ে বের হন।
দুজনের জুটিতে প্রথম ১০ ওভারে ৮১ রান তোলে ঢাকা। ইনিংসের ১৩তম ওভারে নাঈম আউট হলে ভাঙে তাদের ১০০ রানের জুটি। ফেরার আগে ৪০ বলে সমান তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৫২ রান করেন নাঈম। এরপরের পথটুকু সহজই ছিল ঢাকার, তবে কুমিল্লার বোলারদের তোপে সেটা হয়ে যায় কঠিন। ৪১ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারায় রাজধানীর দলটি। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। সেটা এক পর্যায়ে ৭ বলে ১০ রান হয়ে যায়। ১৯তম ওভারের শেষ বলে খুশদিলকে ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ দূরে সরান ঢাকার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইরফান শুকুর। তবে পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে তিনি ফিরে গেলে আবারও রোমাঞ্চ তৈরি হয়। শেষ ৪ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৪ রানের। সপ্তম ব্যাটার হিসেবে উইকেটে এসে প্রথম বলেই মোস্তাফিজকে ছয় মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন চতুরঙ্গা। কুমিল্লার হয়ে সমান ২টি করে উইকেট নেন স্পিনার তানভির ইসলাম ও পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। বাকি উইকেট যায় খুশদিলের পকেটে।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক লিটন দাসের উইকেট হারায় কুমিল্লা। ঢাকার লঙ্কান স্পিনার চতুরঙ্গা ডি সিলভার শর্ট বল ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে পয়েন্টে নাঈম শেখের হাতে ধরা পড়েন তিনি। অধিনায়কত্বের অভিষেকের ম্যাচে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১৩ রান। সিলেট থেকে কুমিল্লায় যোগ দেওয়া তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে এরপর লম্বা জুটি গড়েন ইমরুল কায়েস। একপাশে হৃদয় কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও ইমরুল ছিলেন অনবদ্য। ৪২তম বলে ফিফটি স্পর্শ করেন ইমরুল। ১৪.১ ওভারে কুমিল্লার সংগ্রহ ১০০ পূর্ণ হয়। ১৯তম ওভারে হৃদয় আউট হলে ভাঙে তাদের ১১০ রানের জুটি। ফেরার আগে ৪১ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ রান করেন তিনি। সঙ্গী হারানোর পর ২ বলের ব্যবধানে বিদায় নেন কায়েসও। তিনি করেন ৫৬ বলে ৬৬ রান। শেষ ওভারে ৩ উইকেট হারানো কুমিল্লা ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান করে।
Posted ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh