বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
পলিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে গোটা দেশে মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
গত মার্চের ৫ তারিখ জেরেমি পলি গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এক অদ্ভুত বাণিজ্যের সন্ধান পেয়েছেন। মানবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষত ফেসবুকে। পেনসিলভ্যানিয়ার জেরেমি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মানবদেহের বিভিন্ন অংশ বিক্রির বাজারকে তারা ‘অডিটি মার্কেট’ বলে থাকে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই বাণিজ্যের কোনোটিই যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অবৈধ নয়।
পলিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে গোটা দেশে মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে৷ সূত্র জানিয়েছে, হার্ভার্ড মেডিক্যাল কলেজ থেকে মরদেহ সংগ্রহ করে সবাই বাণিজ্যের ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। কলেজ মর্গের ব্যবস্থাপনায় জড়িতরা বেওয়ারিশ মরদেহ কিংবা গবেষণার জন্য দেহদানকারীদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনলাইনে বিক্রি করেন। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এ ব্যবসায় লাভ অনেক। কারণ চাহিদা কম নয়৷
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের জন্য তারা ডার্ক ওয়েবের সাহায্য নেয় না। অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বিক্রি করা যাচ্ছে সহজে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাষ্ট্রে মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির বিষয়ে আইন থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না। ফেসবুকে ‘রিয়েল হিউম্যান স্কাল, নো স্ক্যাম’ কিংবা ‘দি রিয়েল হিউম্যান স্পেসিম্যান কালেক্টরস, বায়ার্স অ্যান্ড সেলার্স’ নামে বেশ কয়েকটি গ্রুপে খোলামেলাভাবেই বিক্রি হচ্ছে মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
মূলত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে থাকেন যারা তারা এসব গ্রুপে জড়ো হন। খুলির দাম ৭ হাজার মার্কিন ডলার থেকে শুরু হয়। আবার দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া কোনো খুলির দাম ৪ হাজার মার্কিন ডলার। অনেক পোস্টে একটি জারে ভর্তি মানবমস্তিস্ক বিক্রি হয়। হার্ভার্ডের মর্গ ব্যবস্থাপক ডেনিস লজের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ৩ লাখ ৭ হাজার ডলার আয় করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ‘অনেকে শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রহ করতেই যোগাযোগ করতেন। তারা আগেই টাকা পেপ্যালে দিয়ে দিতেন। অনেকেই শুধু মস্তিস্ক চাইতেন। আবার অনেকে দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত মানুষের চেহারা।’ সূত্র : স্লেট ম্যাগাজিন
Posted ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh