বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, আমাদের সিটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবাসিক ভবনগুলোতে অ্যাপার্টমেন্ট খালি হয় বার্ষিক মাত্র ১.৪ শতাংশ হারে। ফলে সিটির আবাসন সংকট বংশানুক্রমিক সংকটে পরিণত হয়েছে, যারা তাদের আয়ের ৩০শতাংশের বেশি বাড়ি ভাড়া পরিশোধের জন্য ব্যয় করছে। এই সংকট সমাধানের একমাত্র উপায় আরও আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করা। এজন্য আমাদের সকলকে “হাউুজিং অপরচ্যুনিটি প্ল্যানে” হ্যাঁ’ বলতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বেশি হাউজিং জোনিং প্রস্তাব।
মেয়র অ্যাডামস তার সাপ্তাহিক মতামত নিবন্ধে আরও বলেন, এই প্রস্তাবের পক্ষে সিটিজুড়ে আওয়াজ ক্রমবর্ধমানভাবে জোরদার হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে, নিউইয়র্ক সিটি প্ল্যানিং কমিশন দিনব্যাপী যে শুনানির আয়োজন করেছিল, সেখানে দুশ জনের বেশি নিউইয়র্কবাসীর তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন প্রস্তাবটির উপর, যাদের অধিকাংশই প্রস্তাবের পক্ষে বলেছেন। তারা একা ছিল না।
এলজিবিটিকিউ ও তাদের প্রবক্তা এবং এএআরপি’র পক্ষ থেকে অহঙ্কারের সঙ্গে প্রস্তাব সমর্থন করে ‘হ্যাঁ’ বলতে শোনা গেছে। মেয়র বলেন, প্রস্তাবটি যদি পাস করা হয়, তাহলে আমাদের সিটির দীর্ঘস্থায়ী আবাসন ঘাটতি মেটানোর পক্ষে অনুমোদন পাওয়া যাবে, অনেক কঠোর পরিশ্রমী নিউইয়র্কবাসীর জীবনে স্বস্তি বয়ে আনবে। তিনি আরও বলেন, এই সিটিতে বসবাসকারী প্রত্যেকেরই পৃথক পৃথক গল্প আছে: যারা নগদ ক্রেতা অর্থে বা কোনো প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে বাড়ির মালিক হন, তাদের কাছে নিজ বাড়ির স্বপ্ন দেখা মানুষগুলো হেরে যান। একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী, তিনি যে নেইবারহুডের জন্য কাজ করেন, সেই এলাকায় তিনি বসবাসের সামর্থ রাখেন না; কোন বয়োবৃদ্ধ নিউইয়র্কার, যিনি সারাজীবন তার পারিবারিক ব্যবসায়ে নিয়োজিত থেকে তার নির্ধারিত আয়ে সময়মত ভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি, এবং নতুন বাবা-মা, তাদের পরিবার লালনের মতো প্রয়োজন আকারের অ্যাপার্টমেন্টের ব্যয় বহন করতে পারেন না।
এসবই হচ্ছে আবাসন সংকটে প্রভাবিত নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন জীবনের কাহিনী। সিটিতে এই সংকট এতটা ভয়াবহ হতো না, যদি না এধরনের প্রস্তাবের প্রতি বছরের পর বছর ধরে ‘না’ বলা হতো। আমরা এ অবস্থা পরিবর্তনের সূচনা করেছি।
এরিক অ্যাডামস বলেন, আমরা যে পরিবর্তনগুলোর প্রস্তাব করছি, তা শুধু নতুন অ্যাপার্টমেন্ট ভবন যুক্ত করা নয়, বরং তার চেয়েও বেশি। ডিপার্র্টমেন্ট অফ সিটি প্ল্যানিং ধারণা করছে যে, নিউইয়র্ক সিটি আমাদের ‘সিটি অফ ইয়েস’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে আগামী ১৫ বছরে সিটিতে ১০৮,৮৫০টি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট ইউনিট তৈরি হবে। এগুলো শুধু সংখ্যা নয়, বরং এমন অ্যাপার্টমেন্ট, যা নিউইয়র্কবাসীদের তাদের পছন্দের শহরে স্থায়ভাবে বসবাসের সুযোগ দেবে, যে সিটিতে এবং যে কমিউনিটিতে তারা বড় হয়েছে এবং যেখানে তারা অবসর জীবন কাটাতে পারবে এবং নতুন প্রজন্মের তরুণ ও ইমিগ্রান্ট পরিবারকে স্বাগত জানাতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা এমন কিছু তৈরি করতে চাই, যাতে নিউইয়র্কবাসী তাদের নেইবারহুডে যা পছন্দ করে, তা রক্ষা করা সম্ভব হয়।
আমরা আশা করি যে, ‘সিটি অফ ইয়েস’ আমাদের বিদ্যমান আবাসিক সঙ্কট মোকাবেলা করতে এবং সিটির প্রয়োজনীয় আবাসন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রশাসন শুরু থেকে নিউইয়র্কবাসীদের প্রয়োজনীয় আবাসন নির্মাণ এবং সিটিকে আরও সাশ্রয়ী করে তুলতে সাহসী কথা বলে আসছে ও উদ্যোগ গ্রহণ করছে। আমরা এরই মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেছি। CityFHEPS হাউজিং ভাউচারের মাধ্যমে আমরা আগের চেয়ে বেশিসংখ্যক নিউইয়র্কবাসীকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য সহায়তা করেছি।
মেয়র বলেন, নতুন বাজেটে ২০২৫ এবং ২০২৬ অর্থবছবে আবাসন খাতে ২ বিলিয়ন ডলার বেশি মূলধন বিনিয়োগ করে আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা আবাসন সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আমাদের প্রশাসন বর্তমানে ১০-বছরের পরিকল্পনায় আবাসন খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর ফলে সিটির আবাসন সংকট সমাধানের দ্বার উন্মোচিত হবে।
Posted ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh