বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
গত ১৬ জুন আটলান্টার মার্সিডিজ–বেঞ্জ স্টেডিয়ামে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির (এলএএফসি) বিপক্ষে ম্যাচটা শেষে বলেছিলেন চেলসির কোচ এনজো মারেসকা।
‘পরিবেশটা কেমন জানি লাগছিল। একটু অদ্ভুত!’ কেন অদ্ভুত লাগছিল? মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৭০ হাজারের বেশি। চেলসি-এলএএফসির ম্যাচ দেখতে সেদিন গ্যালারিতে ছিলেন মাত্র ২২ হাজার দর্শক! মানে তিন ভাগের এক ভাগ মাঠও ভরেনি। ইউরোপজুড়ে ভরা গ্যালারির উন্মাদনায় খেলে অভ্যস্ত চেলসি এ রকম ফাঁকা মাঠে খেলছে, কোচের কাছে তো অদ্ভুত লাগবেই। অথচ ম্যাচটা ছিল ক্লাব বিশ্বকাপের!
প্রাক্-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ খেলতে সর্বশেষ চেলসি যেবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল, গড়ে প্রতি ম্যাচে দর্শক হয়েছিল ৫০ হাজারের মতো। অথচ সেই চেলসির ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে দর্শক মাত্র ২২ হাজার। ভাবা যায়!
শুধু ওই ম্যাচ নয়, এখন পর্যন্ত ক্লাব বিশ্বকাপের বেশির ভাগ ম্যাচেই গ্যালারি খাঁ খাঁ করছে! আটলান্টা, সিয়াটল, নিউ জার্সি, অরল্যান্ডো—সব মাঠে একই দৃশ্য। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১২টি ম্যাচের মধ্যে কোনোটিতেই স্টেডিয়াম পূর্ণ হয়নি, এমনকি অর্ধেকও ভরেনি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে!অথচ ফিফা বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে নতুন ফরম্যাটের ক্লাব বিশ্বকাপ শুরু করেছে এবার। সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘এটা হবে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব।’ কিসের কী! সব তো মনে হচ্ছে ফাঁকা বুলি!
তো এত ফাঁকা গ্যালারির কারণ কী? প্রথমত, টিকিটের দামে ফিফার ‘লুটেরা’ নীতি। ফিফা হয়তো শুরুতে ভেবেছিল, আমেরিকানরা তো টাকা খরচ করতে ভালোবাসে, আর এটা তো বিশ্বকাপ! তাই গত বছরের ডিসেম্বরে যখন প্রথম টিকিট ছাড়া হলো, উদ্বোধনী ম্যাচের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ছিল ২২৩ ডলার (প্রায় ২৫ হাজার টাকা)!
সাধারণ গ্রুপ ম্যাচের টিকিটও ১০০ ডলারের ওপর। এর সঙ্গে খাবার, পানীয়, পার্কিং—সব মিলিয়ে এক ম্যাচ দেখতে যে খরচ দাঁড়ায়, সেটা হিসাব করে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল–সমর্থকদের সংগঠন ইনডিপেনডেন্ট সাপোর্টার্স কাউন্সিল তো সরাসরি বলে দিয়েছিল, ‘এটা ফুটবল-ভক্তদের শোষণের নামান্তর!’
এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর অবশ্য ফিফার টনক নড়েছে। বিক্রিবাট্টা একদমই না হওয়ায় তারা টিকিটের দাম কমিয়েছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর মধ্যে ৩৩টির টিকিটের দাম ২৫ শতাংশের বেশি কমানো হয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে, ৪৮টি গ্রুপ ম্যাচের ২৬টির টিকিট ৫০ ডলারের কমে পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু তত দিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে! উৎসাহ কমে গেছে দর্শকের।
আরেকটা কারণ, বেছে বেছে সব বড় স্টেডিয়ামে খেলা ফেলা। ইয়াহু স্পোর্টসের এক প্রতিবেদন বলছে, এ ক্ষেত্রে ফিফা তার আমেরিকান প্রতিনিধিদের পরামর্শ কানে নেয়নি। তাঁরা ছোট স্টেডিয়ামে খেলা আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেখানে ধারণক্ষমতা কম হলেও গ্যালারি ভরা থাকত। কিন্তু ফিফা বেছে নিয়েছে বিশাল বিশাল আমেরিকান ফুটবল স্টেডিয়াম, যার অনেকগুলোর ধারণক্ষমতা ৭০-৮০ হাজার। আর ৮০ হাজার আসনের স্টেডিয়ামে যদি মাত্র ২০ হাজার দর্শক হয়, গ্যালারি তো ফাঁকা মনে হবেই।
Posted ১০:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh