বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
স্পেনের অন্যতম শীর্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস ২০২৬’ জিতে নিলেন লিওনেল মেসি। এর মাধ্যমে ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকার বর্ণাঢ্য ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হলো আরও একটি অনন্য ও ঐতিহাসিক স্মারক।
টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসের পর স্পেনের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা নিজের করে নিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। ফুটবলের এই খুদে জাদুকরের এমন মহিমান্বিত স্বীকৃতি জেতার পর বিশ্বজুড়ে শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে, যে তালিকায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তাঁর সাবেক স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব বার্সেলোনা।
ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনন্য সম্মানে ভূষিত করেছে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’-এর জুরি বোর্ড। ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তারকার অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত কীর্তির পাশাপাশি মাঠের বাইরে বিশ্বজুড়ে তার যে বিশাল মানবিক প্রভাব, এই পুরস্কারে মূলত তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
নিজেদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে জুরি বোর্ড মেসির চোখধাঁধানো প্রতিভা ও অনন্য ক্রীড়াশৈলীর পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তার অসাধারণ ও নিরবচ্ছিন্ন দাতব্য কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক কিংবদন্তি তেরেসা পেরালসের সভাপতিত্বে এবং স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএসের’ এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর হোসে ফেলিক্স দিয়াজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে খেলার মাঠে মেসির ‘ধারাবাহিকতা, নম্রতা এবং দলীয় ভাবমূর্তির প্রতি তার দায়বদ্ধতা’ তাকে আজ পুরো বিশ্বের কাছে এক পরম শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে।
নিজেদের সাবেক এই মহাতারকার অনন্য অর্জনের পর সবার আগে শুভেচ্ছা জানাতে ভুল করেনি এফসি বার্সেলোনা। ক্যাম্প ন্যু-তেই মেসি কাটিয়েছেন তার ক্যারিয়ারের সোনালী সময়ের সিংহভাগ। লা মাসিয়া একাডেমির গণ্ডি পেরিয়ে কাতালান ক্লাবটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম অধ্যায়ে। কাতালুনিয়ায় থাকাকালীন বার্সার হয়ে তিনি জিতেছেন ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ১০টি লা লিগা এবং ৭টি কোপা দেল রে-র ট্রফি।
বার্সেলোনার অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস জেতায় লিওনেল মেসিকে অনেক অনেক অভিনন্দন। বার্সায় রেখে যাওয়া আপনার কিংবদন্তিতুল্য উত্তরাধিকার এবং আমাদের ক্লাবের হয়ে সাফল্যে মোড়ানো এক মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত যোগ্য ও যথার্থ স্বীকৃতি।’
পুরস্কার আয়োজকদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ট্রফিজয়ী খেলোয়াড় লিওনেল মেসি মাঠের ভেতরে তাঁর অনুকরণীয় ও আদর্শ আচরণের মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।’
এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা জয়ের মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের এমন এক অভিজাত তালিকায় নাম লেখালেন, যেখানে জড়িয়ে আছেন পুরো পৃথিবীর সব সর্বকালের সেরা কিংবদন্তিরা। এর আগে রাফায়েল নাদাল, মাইকেল শুমাখার, কার্ল লুইস এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন ফুটবল দলের মতো মহাতারকারা এই পুরস্কারের মুকুট মাথায় পরেছেন।
ফুটবলারদের মধ্যে ২০১২ সালে যৌথভাবে ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ এই পুরস্কার পেয়েছিলেন; এরপর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এককভাবে এই অনন্য ও সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেন লিওনেল মেসি।
Posted ১০:১২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh