বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
‘কমিউনিটি অপএড’-এ সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় বেআইনি মোপেড ও স্কুটারের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অ্যাডামস প্রশাসন। জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইতোমধ্যে এক লাখেরও বেশি অবৈধ যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এবার শুধু জব্দ নয়, স্ক্র্যাপ করেও ধ্বংস করা হচ্ছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যান, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো আর কোনো অপরাধে ব্যবহৃত না হয়।
গত ১৬ জুন সোমবার মেয়র এরিক অ্যাডামস আরো বলেন, শহরকে নিরাপদ রাখা কেবল অপরাধের পরিসংখ্যান নয়, বরং নগরবাসীর অনুভূতিও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবৈধ মোপেড ও স্কুটার নিয়ে নিউইয়র্কারদের বিরক্তি অনেক বেশি-বিশেষ করে যখন এগুলো উল্টো পথে চলে, ফুটপাথে উঠে যায়, আলো ছাড়াই চলাচল করে এবং অতিরিক্ত শব্দ করে, তখন পাড়ার শান্তি নষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, এই তথাকথিত মোপেড যুগ পথচারীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রবীণরা হাঁটার সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের সন্তানদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে। আর সাধারণ মানুষ এই যানবাহনের শব্দ শুনলেই আতঙ্কে ভোগেন। শুধু তাই নয়, এই অবৈধ যান অপরাধীদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে—ছিনতাই, গুলি চালানো, ডাকাতির পর দ্রুত পালাতে এসব যান ব্যবহার করা হচ্ছে।
অ্যাডামস প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেÑআইন ভাঙলে কিংবা নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবলে কোনো রকম সহানুভূতি দেখানো হবে না।গ্রীষ্মের শুরুতেই এই অভিযান আরও তীব্র করা হয়েছে। মেয়র অ্যাডামস জানান, এখন পর্যন্ত ১ লাখের বেশি অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬২,৩০০-এর বেশি অবৈধ দুই চাকার যান রয়েছে।
এসব যানবাহনের অনেকগুলো রেজিস্ট্রেশন ও বীমাহীন, এমনকি চুরি যাওয়া-যা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বা দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
তিনি বলেন, কেউ কেউ টোল ও ফি না দিয়ে আইন মেনে চলা করদাতাদের লক্ষ লক্ষ ডলারের রাজস্ব ক্ষতির কারণও হয়েছে।গত সপ্তাহে আরও ২০০টি অবৈধ যান স্ক্র্যাপ করা হয়েছে।
পুনর্ব্যবহারের সুযোগ না রেখে এগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো আর কোনো অপরাধে ব্যবহৃত না হয়। এই পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাবও স্পষ্টÑমোপেড-সংশ্লিষ্ট ডাকাতি ৬৮ শতাংশ, বড় চুরি ৮৬ শতাংশ এবং মোপেড জড়িত সব ধরনের অপরাধ ৫৭ শতাংশ কমেছে। এপ্রিল, মে ও জুনের শুরুতে শহরের সামগ্রিক অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নিউ ইয়র্ক শহর এখন টানা ষষ্ঠ কোয়ার্টারে অপরাধ হ্রাসের ধারা বজায় রেখেছে।
এই সাফল্যের পেছনে নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার টিশ, স্যানিটেশন কমিশনার লোজন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে মেয়র অ্যাডামস তাদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কারণেই নিউ ইয়র্ক সিটি আজও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ বড় শহরগুলোর অন্যতম এবং একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক, বাসযোগ্য শহর হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
Posted ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh