বাংলাদেশ অনলাইন | রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
ছবি: সংগৃহীত
গত ১৫ বছরে গুম-খুন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং ছাত্রনেতারা। এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির যে শীর্ষ নেতারা নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের বিচার এক বছরের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা এবং সরকারের আইন কর্মকর্তারা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ নিয়ে দুই দিনব্যাপী সংলাপের দ্বিতীয় দিনে ‘গুম-খুন থেকে জুলাই গণহত্যা : বিচারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশনের আলোচকদের বক্তৃতায় এসব বিষয় উঠে আসে। ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার নিয়ে কোনো গাফিলতি হবে না জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আগামী বিজয় দিবসের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন হবে। আগামী বিজয় দিবসে আমরা গণহত্যাকারীদের বিচারের রায় উদযাপন করব। বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতের হত্যাকাণ্ডসহ ধারাবাহিকভাবে গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদেরও বিচার করা হবে। এসব বিচার করবে আইন বিভাগ।
কোনো গাফিলতি হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছিল না, তদন্ত কর্মকর্তা ছিল না। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রসিকিউশন টিম করা হয়েছে। তড়িঘড়ি করে বিচার করে বিচারককে প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে না।
বিচার নিয়ে কোনো গাফিলতি হবে না, নিশ্চিত করে বলতে চাই। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো দেরি হচ্ছে না।’
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে সংগঠিত গুম-খুন-নিপীড়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার শেষ করা হবে বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে বিবেচনা করা হচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, সেটি ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৯৭৩-এর ১৯ নম্বর আইন।
সেই আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, নির্যাতন, গুমসহ অনেক অপরাধের কথা বলা হয়েছে, যে অপরাধগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সিভিলিয়ন পপুলেশনের ওপর ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তার বিচার হবে।’
দেশে ঐক্যের প্রয়োজন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ঐক্য ছাড়া সংস্কার সম্ভব নয়। সংস্কার ছাড়া যৌক্তিক কোনো বাংলাদেশ আপনাদের উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। ঐক্য ছাড়া, সংস্কার ছাড়া এই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে করাটা কঠিন এবং দুরূহ।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির যেসব শীর্ষ নেতা নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করা হবে জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটির) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে সাধারণত টপ কমান্ডারদের (শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী) বিচার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অধীনে মামলাগুলোতে যেসব প্রধান অভিযুক্ত রয়েছে, সবার বিচারই আমরা এক বছরের মধ্যে শেষ করতে পারব। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার প্রধান নিউক্লিয়াস ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নিচের দিকে কয়েকজন ছিলেন, তাঁদের বিচারকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল। এর সঙ্গে সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বেশির ভাগ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা ছিল। দেশব্যাপী সব কিছুর বিচার করতে গেলে এই ট্রাইব্যুনালের পক্ষে তা সম্ভব নয়। দেশব্যাপী যত অপরাধ হয়েছে, সে জন্য বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে এবং সাধারণ আদালতে বিচার চলছে, সেটা চলবে। সেই বিচার করতে কত সময় লাগবে, সেটা সংশ্লিষ্ট আদালত বলতে পারবেন।’
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি প্রমুখ।
Posted ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh