বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
ছবি তোলার পর মঞ্চ থেকে নেমে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (মাঝে), হুন মানেত (বাঁয়ে) ও আনোয়ার ইব্রাহিম (ডানে)। রোববার কুয়ালালামপুরে। ছবি : এএফপি
প্রায় সপ্তাহব্যাপী এশিয়া সফরে রোববার মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে এটি তাঁর প্রথম এশিয়া সফর। মালয়েশিয়া ছাড়াও যাবেন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। ঘোষণা অনুযায়ী, বৈঠক হওয়ার কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে।
কুয়ালালামপুরে ট্রাম্প গেছেন আসিয়ান এর সম্মেলনে যোগ দিতে। এতে জোটটির সদস্য দেশের সরকার প্রধানরা অংশ নেবেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় হবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) সম্মেলন। সেখানে যোগ দেবেন এশিয়া, ইউরোপ ও ওশেনিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রপ্রধানরা।
বিবিসি বলছে, চীন যখন এশিয়ায় প্রভাব বাড়িয়েই চলছে তখন ট্রাম্পের এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো সফরে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ ও সম্ভাব্য ক্ষতি কী? কোন বিষয়ে ট্রাম্প এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছেন?
আসল লক্ষ্য চীন
মার্কিন কোষাগারে অর্থের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য নতুন চুক্তি করা এই সফরের মূল লক্ষ্য। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র কেবল একা খেলোয়াড় নয়। এখানে দেশটির সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ধারণে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছে চীন।
ট্রাম্পে নিজেও জানেন চীনের ওপর পাহাড় সমান শুল্ক বসানো টেকসই হবে না। সরাসরি না বললেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়লে সেটির পরিণতি উভয় দেশের পাশাপাশি বিশ্বের অন্য দেশগুলোরও ক্ষতির কারণ হবে। এর উদাহরণও বিভিন্ন সময় দেখা গেছে। যখনই চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তখনই শেয়ার বাজারে পতন দেখা গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে জাপানি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে সেটি ট্রাম্পের জন্য সুখকর হবে। তবে তাঁর মূল লক্ষ্য থাকবে চীনকে আমেরিকান কৃষি পণ্য আমদানি পুনরায় চালু করতে রাজি করানো। পাশাপাশি বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা। বেইজিংয়ের বাজারে ওয়াশিংটনের প্রযুক্তি কোম্পানির প্রবেশাধিকারের আরও সুযোগ নিশ্চিত করাটাও অন্যতম লক্ষ্য।
চীনের দীর্ঘমেয়াদি খেলা
আগামী ৩০ অক্টোবর ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে শি জিনপিং কঠোর অবস্থান নিতে চান। এ কারণে তিনি আগে থেকেই বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ দিয়ে রেখেছেন। বিরল খনিজ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, সামরিক যান, গাড়ি কিংবা মোবাইল ফোন তৈরি করা অসম্ভব। আর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা।
মার্কিন কৃষি পণ্য (সয়াবিন) আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে চীন এরই মধ্যে ট্রাম্পের দলের প্রান্তিক ভোট ব্যাংকে আঘাত করেছে। এখন একইভাবে প্রযুক্তি খাতেও আঘাত করতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি উন্নত এআই চিপ রপ্তানি শুরু কিংবা তাইওয়ানকে সামরিক সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করেন তাহলে চীন একটি চুক্তিতে রাজি হতে পারে। কিন্তু এই দুই নেতার বড় পার্থক্য হলো, ট্রাম্প প্রায়শই পাশা নিক্ষেপ করে জুয়া খেলতে চান। কিন্তু শি জিনপিং অনেক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে খেলছেন।
শান্তি ও নীরবতা
মালয়েশিয়া সফরে ট্রাম্পকে একটি বিষয়ে বেশ আগ্রহী দেখা গেছে। সেটি হলো থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তি চুক্তি করানো। যদিও দেশ দুটির মধ্যে সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের সমাধান হয়নি, তবুও তারা কিছু পাওয়ার আশায় চুক্তিতে রাজি হয়েছে।
গত জুলাইয়ে যখন দেশ দুটি সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল তখন ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি শুরু হয়। মূলত ট্রাম্প তখন শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়ে এই অস্ত্রবিরতিতে রাজি করিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সফরে দেশ দুটির লক্ষ্য তাই, চুক্তিতে রাজি হয়ে শুল্কের বোঝা কমানো।
তবে এ সফরে এশিয়ার একটি চলমান সংঘাতে ট্রাম্পের কোনো নজর নেই। সেটি হলো মিয়ানমার। ২০২১ সাল থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ করাতে পারলেও মিয়ানমারের বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চুপ।
Posted ৯:১৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh