বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্মীরা এখন নিউইয়র্ক পুলিশ এবং ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে। গত ২৪ আগস্ট রোববার নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে অন্তবর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সাথে প্রবাসীদের মতবিনিময় সভা ভণ্ডুল ও তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা চালায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে কিছুসংখ্যক দুর্বৃত্ত। কর্তব্যরত পুলিশ হামলাকারীদের নিবৃত করতে হিমশিম খায়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট দফতর, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিস ও পুলিশ প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়েছে এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ও ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, ইতোমধ্যে হামলায় জড়িত প্রায় দুই ডজন ব্যক্তিকে শণাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান প্রক্রিয়া চলছে। তারা গা ঢাকা দিয়েছে বলেও জানা গেছে। কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেটে হামলা করা মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গন্য। এমনিতে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে অভিবাসীদের গ্রেফতার করে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। হামলায় জড়িত অতি উৎসাহী আওয়ামী কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে ডিপোর্ট করা হতে পারে বলে একজন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মন্তব্য করেছেন।
কনস্যুলেটে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো- পররাষ্ট্র দপ্তরের নিউইয়র্ক অফিস, পুলিশ ও মেয়রকে চিঠি দিয়েছে। একথা জানিয়ে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে গত সোমবার দেওয়া সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গত রোববার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে একটি মতবিনিময় সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। এছাড়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির দেড় শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অনুরোধে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।’ মতবিনিময় সভা পণ্ড করার উদ্দেশ্যে এবং প্রধান অতিথিকে সরাসরি আক্রমণ করার হিংস্র মনোভাব নিয়ে বিকাল ৫টা থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কনস্যুলেটের সামনে অবস্থান নেয়। তারা বাংলাদেশ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয় ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আগত অতিথিদের ধাওয়া করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেন। তারা আরো নানাবিধ অপকৌশল অবলম্বন করেন।

যার অংশ হিসেবে তারা অতিথিদের উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপ করেন। অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে কনস্যুলেটের প্রবেশপথের পার্শ্ববর্তী অন্য একটি অফিসের কাচের দরজায় আঘাত করেন। এতে দরজায় ফাটল ধরে। পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে বাধা দেয়। কয়েকজনকে আটক করে। দুষ্কৃতকারীদের এ ন্যক্কারজনক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে এরই মধ্যে পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা প্রধান অতিথিকে হেনস্তা ও জীবননাশের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকাসহ কনস্যুলেটের চারদিকে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। তবে পুরো সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি যথাসময়ে কনস্যুলেটে গাড়িযোগে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত পথে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রাণবন্ত মতবিনিময়, অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও রাতের খাবার শেষে প্রধান অতিথি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত গাড়িতে তার গন্তব্যে পৌঁছান। প্রধান অতিথি চলে যাওয়ার পর পুলিশ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে।
দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে কনস্যুলেট জেনারেল এরই মধ্যে স্থানীয় পুলিশ, মেয়র ও পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থানীয় অফিসে চিঠি দিয়েছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধান অতিথির অনুষ্ঠানে আগমন কিংবা প্রস্থানের সময় দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সাক্ষাৎ বা দূরতম কোনো সংযোগ কিংবা সংশ্লেষ ঘটেনি। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা শত চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অসাধু উদ্দেশ্য সাধন করতে পারেনি। এ কাজে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে নানাবিধ অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তারা। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছে কনস্যুলেট জেনারেল।’
ঘটনার দিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একদল উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মী ভবনের প্রধান ফটকের একটি কাঁচের দরজা ভাঙচুর করে। তারা লিফট লক্ষ্য করে ডিম ও পানির বোতল ছুঁড়ে মারে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশ কনস্যুলেটের সামনে অবস্থান নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু কনস্যুলেটের অনুষ্ঠানে আসা কিছু ছাত্র সমন্বয়কের উস্কানিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় ধাক্কাধাক্কিতে ওই ভবনের একটি কাঁচের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, পানির বোতল ও ডিম ছুঁড়ে মারায় তাদের কাঁপুনি শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
তার আগমন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। তবে তথ্য উপদেষ্টা কনস্যুলেটে ঢোকার সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা হয়নি। কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের দাবি- ‘তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম ভবনের গ্যারেজ দিয়ে কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন’। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, বাইরে বিক্ষোভের কারণে কনস্যুলেট ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল। কনস্যুলেটের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়ক লিফট ব্যবহার করে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এসময় তাদের লক্ষ করে ডিম ও পানির বোতল ছুঁড়ে মারা হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে কে বা কারা কাঁচের একটি দরজা ভাঙচুর করে। পুলিশ দুজন বিক্ষোভকারীকে আটক করলেও সাথে সাথে ছেড়ে দেয়।
এদিকে অনুষ্ঠান চলাকালে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কখন বের হবেন, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাইরে অপেক্ষা করেন। তাদের অবস্থান জেনে রাত ১২টার পর নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) পাহারায় উপদেষ্টা কনস্যুলেট অফিস থেকে বের হয়ে যান।
এখানে উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট লং আইল্যান্ড সিটির একটি বাণিজ্যিক ভবনের দোতলার একপাশে অবস্থিত। সেখানে আরো বেশকিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রধান ফটকের কাঁচের দরজা ও লিফট ওই ভবনের যাতায়াতকারী সবাই ব্যবহার করেন। পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে বাধা দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা প্রধান অতিথিকে হেনস্তা করা ও জীবননাশের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকাসহ কনস্যুলেট জেনারেলের চারদিকে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান নেয়। তবে পুরো সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল। দুষ্কৃতকারীদের এই ন্যক্কারজনক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে ইতোমধ্যে পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ এই ব্যাপারে যথা এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি যথাসময়ে কনস্যুলেট জেনারেলের গাড়িতে নির্ধারিত পথে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রাণবন্ত মতবিনিময়, আগত অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময় এবং রাতের খাবার শেষে প্রধান অতিথি কোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ছাড়াই নির্ধারিত গাড়িতে তার গন্তব্যে পৌঁছান। প্রধান অতিথি চলে যাওয়ার পরে পুলিশ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে।
Posted ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh