বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে ঘিরে চলমান সংকট আরও গভীর হয়েছে। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার সরাসরি আপত্তি তুলেছে ইউরোপের উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। তিন কনফেডারেশন যৌথভাবে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ফিফার নেতৃত্বের ধরন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে।
সম্প্রতি বিশ্বকাপের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করে আংশিক মালিকানা দেওয়ার একটি পরিকল্পনা সামনে এনেছিল ফিফা। ব্যাপক সমালোচনার পর অবশ্য সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে সংস্থাটি। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ সময়কালের জন্য ২ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করলেও বিতর্ক থামেনি।
সোমবার প্রকাশিত যৌথ চিঠিতে উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি স্পষ্ট করে বলেছে, ফুটবল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাদের মতে, ফুটবলের নেতৃত্ব মানে ব্যক্তিগত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা কিংবা কর্তৃত্বকে নিজের হাতে কুক্ষিগত করা নয়। ইনফান্তিনোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও চিঠির বক্তব্যে তার নেতৃত্বের প্রতি স্পষ্ট অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতারণা বা অসততার মাধ্যমে যখন আস্থা নষ্ট হয় এবং কোনো ব্যক্তি তাকে ক্ষমতা দেওয়া বৃহত্তর সংগঠনের ঊর্ধ্বে নিজেকে স্থান দেন, তখন তিনি নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
এর আগে গত সপ্তাহে মরক্কোতে ফিফার একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইনফান্তিনো দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশের পক্ষ থেকে ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা বহাল রয়েছে। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস আরও এক ধাপ এগিয়ে ইনফান্তিনোর দ্রুত পদত্যাগ দাবি করেছেন।
মরক্কোর জরুরি বৈঠকের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তিন কনফেডারেশন। তাদের দাবি, ওই সভায় নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র একজন উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার প্রস্তাব কীভাবে তৈরি ও এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের দাবিও জানিয়েছে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ। তাদের মতে, এই তদন্তে ফিফার কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে কীভাবে এমন গুরুতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারবোধের ঘাটতি তৈরি হলো, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে তিন সংস্থা ফুটবলের ঐক্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে। তাদের ভাষ্য, ফুটবলকে নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা খেলাটির স্বার্থে কাজ করবে এবং ফুটবলের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা বজায় রাখবে।
এদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তার ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে পুরোনো একটি অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’ দাবি করেছে, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এক নারী কর্মীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে উয়েফা তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করেছে ফিফা। সংস্থাটির দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে দুর্বল করার জন্য একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। ফিফা আরও বলেছে, সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা অবশ্যই সংস্থার বিধিবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই উত্থাপন করতে হবে।
সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বিভাজন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। উয়েফা ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকলেও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) ৫৪ সদস্য দেশ, মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, ইকুয়েডর ও বলিভিয়া তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৭০টি অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেও প্রায় এক ডজন সদস্য ইতোমধ্যে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ইনফান্তিনোর। কিন্তু একের পর এক কনফেডারেশনের প্রকাশ্য বিরোধিতা, বয়কটের হুমকি এবং আস্থার সংকট তার সেই নির্বাচনী যাত্রাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Posted ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh