নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ সংগঠন চট্টগ্রাম সমিতির নির্বাচন আগামী ২০ অক্টোবর রোববার। এই নির্বাচনে লড়ছেন দুই প্যানেল তাহের-আরিফ এবং মাকসুদ-মাসুদ। দুই প্যানেলের মোট ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন প্রার্থী সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। তিনি হচ্ছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। নির্বাচনে ২ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার চারটি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। চারটি কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্র নিউইয়র্কে। বাকি দুটো কেন্দ্রের মধ্যে একটি রয়েছে ফিলাডেলফিয়ার মদিনা মসজিদে।
আরেকটি কেন্দ্র কানেকটিকাটে। নিউইয়র্কের দুটো কেন্দ্রের মধ্যে একটি ব্রুকলিনের পিএস ১৭৯ স্কুলের অডিটোরিয়াম, আরেকটি কেন্দ্র জ্যামাইকার ইকরা সেন্টারে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯টা থেকে। তা চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ শেষে রাতেই গুনে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনের সদস্য শাহাব উদ্দিন সাগর জানান, ভোট গ্রহণ করা হবে মেশিনে। তবে নো আইডি নো ভোট-এটা সবাইকে মানতে হবে। তিনি সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে সভার সহযোগিতা কামনা করেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সমিতির নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
তাহের-আরিফ প্যানেলের নির্বাচনী সভা
নিউইয়র্ক : নির্বাচনে নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাহের-আরিফ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আরিফুল ইসলাম। নির্বাচনে জয়ী হলে চট্টগ্রাম সমিতিকে প্রবাসের একটি আধুনিক সংগঠনে পরিণত করার পাশাপাশি নিউইয়র্কে ‘চট্টগ্রাম কনভেনশন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন তারা। বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তাহের আরিফ প্যানেলের শীর্ষ দুই নেতা।

সভাপতি প্রার্থী আবু তাহের দূর্নীতিমুক্ত চট্টগ্রাম সমিতি গড়ে তুলবেন উল্লেখ করে বলেন, আমরা যদি দায়িত্ব পাই বিগত সময়ের মতো আমাদের কমিটিতে কোন আর্থিক অস্বচ্ছতা থাকবেনা। সমিতির যাবতীয় হিসাব নিকাশ প্রতি চার মাস পরপর উপযুক্ত অডিটের মাধ্যমে সবার সামনে উপস্থাপন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়াও চট্টগ্রাম সমিতির মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীর কল্যাণের জন্য যা যা করা লাগে সেসব উন্নয়নমূলক কাজ করতে তাহের-আরিফ পরিষদ বদ্ধ পরিকর থাকবে বলেও জানান প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আবু তাহের।প্রবাসের বুকে মৃত ব্যক্তিদের কবরস্থ করার ও সার্বিক খরচ বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কোন লোক এখানে মারা গেলে কবরস্থ করা নিয়ে যে ঝামেলা থাকে আমরা সে সমস্যা সমাধান করব। অতীতেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আমরা মৃত ব্যক্তিদের বরাদ্ধ দিয়ে এসেছি, ভবিষ্যতেও মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করাসহ যাবতীয় ব্যয় আমরা বহন করব।
সুষ্ঠু ভোটে জেতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ভোট যদি অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় তাহলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটের আয়োজন করার পরও যদি আমি হেরে যাই, সে হার আমি মাথা পেতে নিয়ে জয়ীদের আমি নিজ হাতে বিজয়ের মালা পরিয়ে দিব। এসময় তিনি চট্টগ্রামবাসীকে আগামী ২০ অক্টোবর নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানান।
তাহের-আরিফ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রাম সমিতির সাথে যুক্ত আছি। আমি ও আমার প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আবু তাহের আমরা বিশ্বাস করি আমরা চট্টগ্রামবাসীর সেবক। অতিতেও আমরা চট্টগ্রাম সমিতিতে থেকে জনগণের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি, চট্টগ্রামবাসীর জন্য কাজ করেছি। ২০ তারিখের নির্বাচনে আমরা পূর্ণ প্যানেলে ১৯ জনই জয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মাকসুদ-মাসুদ পরিষদের নির্বাচনী সভা
নিউইয়র্ক : গত ১২ অক্টোবর শনিবার জ্যামাইকার ইকরা পার্টি হলে মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের পরিচিতি ও নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই দিন বাদ মাগরিব জ্যামাইকার ইকরা পার্টি সেন্টারে চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলহাজ মোহাম্মদ জাফরের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাবেক সভাপতি আহসান হাবীবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত সদস্য, চট্টগ্রাম সমিতির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সিরাজী, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনার মেহবুবর রহমান বাদল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জড়িত প্রবীণ সদস্য মো. আবু নাসের, সাবেক উপদেষ্টা হাজি শফিউল আলম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুজিবুল হক, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মফজল আহমদ, সাবেক উপদেষ্টা ও আজীবন সদস্য মন্জুরুল আলম, মিরসরাই সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেস্টা জি এম ফারুক, বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন কমিটির সিনিয়র সদস্য আবুল কাশেম (চট্টলা), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজি মোবাশ্বের হাশেমী, সাবেক উপদেষ্টা ও আজীবন সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মোহাম্মদ জাফর আহমদ, ভবন উদ্ধার সংক্রান্ত আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য বাবু সাধন কর, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ নুর ও মোহাম্মদ আলী চৌধুরী প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সভাপতি পদপ্রার্থী মাকসুদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মাসুদ সিরাজী, সি. সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মোক্তাদির বিল্লাহ, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী আলী আকবর বাপ্পি, আইয়ুব আনসারী, যুগ্ম-সম্পাদক পদপ্রার্থী সুশান্ত দত্ত নোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ফরহাদ, মুরাদ চৌধুরী, সাবেক দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ দিদার, আজীবন সদস্য মাস্টার মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন নাদের, কানেটটিকাট থেকে আগত বখতিয়ার সুন্নী সোসাইটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জাফর, মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন ও কেমারেক্স ফার্মাসিউটিক্যালের সুপারভাইজার মসিউর রহমানসহ অনেকে।
এ সভায় নারী পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সত্যিই দেখার মতো, লং উইকেন্ড, সারদীয় দুর্গাপূজা ও অনেকগুলো সামাজিক অনুষ্ঠান থাকার পরও লোক সমাগমের দৃশ্য লক্ষ করার মতো। উপস্থিতিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিরসরাই সমিতির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন ভুঁইয়া, মিরসরাই সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিফুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী, মিরসরাই সমিতির সিনিয়র সদস্য আবু তাহের মিয়া, প্রবীণ সদস্য আবদুল মান্নান, অনোয়ার চৌধুরী, সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফি সিকদার, মিরসরাই সমিতির অন্যতম সদস্যা বিশিষ্ট সমাজকর্মী তাহমিনা আক্তার কলি, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, বাবু মনোরঞ্জন দাসসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রচুর নারী এবং পুরুষ।
সভাপতি পদপ্রার্থী মাকসুদ চৌধুরীর তার বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী দিনে চট্টগ্রাম সমিতি কীভাবে চলবে এবং অতীতে এই সংগঠনের অচল অবস্থা সৃষ্টির জন্য কারা দায়ী ছিল তার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আসুন আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আমাদের নতুন প্রজন্মদের জন্য, বৃদ্ধদের জন্য, চট্টগ্রামবাসীর জন্য সম্মিলিতভাবে কিছু করি।
মাকসুদ চৌধুরী বলেন, তার প্যানেল নির্বাচিত হলে সংগঠনের পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি গণমুখী কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করবেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সব ধর্মের জন্য বৈষম্য দূর করা, চট্টগ্রামবাসীর জন্য সুবিধাজনক স্থানে আরেকটি ভবন ক্রয় করে মসজিদ-কমিউনিটি সেন্টার স্থাপনের ব্যবস্থা করা, অন্যান্য স্টেটগুলোর সঙ্গে সেতুবন্ধনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্টেটে সংগঠনের শাখা গঠন করে কর্মসূচির বিস্তার করা, নতুন কিংবা অদক্ষ সদস্যদের ট্রেনিং ও কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান করা, বন্ধ হয়ে যাওয়া আইটি স্কুল পুনরায় চালু করা, নতুন জায়গা খুঁজে চট্টগ্রামবাসীর জন্য কবরস্থান ক্রয়ের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম সমিতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে মাকসুদ-মাসুদ পরিষদের বিকল্প নেই। এই প্যানেলে সবাই তরুণ, কর্মঠ, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, এই প্যানেলে নতুন প্রজন্মের ছেলেরা প্রার্থী হয়েছেন, তাই সবাই আগামী ২০ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মাকসুদ-মাসুদ পরিষদে ভোট দিয়ে আগামী দুই বছর সংগঠনের বার দেওয়ার জন্য সব ভোটারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
সভাপতি মোহাম্মদ জাফরের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।
Posted ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh