নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় অ্যারিজোনা-টেক্সাস-ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের সীমান্ত দিয়ে বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরই সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক আটক কিংবা স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরণকারীদের আদালতে শুনানী ছাড়াই নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর যে নির্দেশ গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জারি করেছিলেন তার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশের নির্দেশ দিলো মার্কিন ফেডারেল আদালত। ২৯ আগস্ট শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ফেডারেল আদালতের জজ জিয়া এম কোব প্রদত্ত এই রুলিং অনুযায়ী গ্রেফতারকৃতদের বহিষ্কারের আগে অবশ্যই বিচারিক আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
এই রুলিংয়ের ফলে ট্রাম্পের ব্যাপক বহিষ্কারের প্রক্রিয়া থমকে দাড়ালো বলে মনে করা হচ্ছে। নিউইয়র্কস্থ ইমিগ্রান্টদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত ‘মেইক দ্য রোড নিউইয়র্ক’র পক্ষে এই আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিল ‘আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে শপথ গ্রহনের পরদিন অর্থাৎ গত ২১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প র্কর্র্তক জারিকৃত এক আদেশে বলা হয় যে, দু’বছরের কম সময় যাবত অবৈধভাবে বসবাসরতদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু আগের আইন অনুযায়ী সীমান্তের ১০০ মাইলের মধ্যে ১৪ দিনের কম সময় যাবত অবৈধভাবে বসবাসরতদেরকেই গ্রেফতার ও বহিষ্কারের ক্ষমতা ছিল ফেডারেল প্রশাসনের।
ফেডারেল জজ জিয়া এম কোব তার রুলিংয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন এই বিধি অব্যাহত রাখতে পারবেন। মিয়া এক কোব বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতিত অবৈধভাবে প্রবেশকারিদেরকে গ্রেফতারের পরই নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর এখতিয়ার নেই প্রেসিডেন্টের। এ ধরনের পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধদের পাশাপাশি বৈধভাবে বসবাসরতরাও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মনোনীত বিচারক কোব বলেছেন, ইতিপূর্বে যারা সীমান্তে কোন ধরনের ইন্সপেকশন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করেছেন এবং সে সব আবেদন পেন্ডিং রয়েছে, তারা তোন ট্রাম্পের নয়া নির্দেশের আওতায় পড়তে পারেন না। তারা তো আইনে প্রদত্ত সুযোগ পাবেন। এবং সরকারকে তা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের আমলে তৈরী একটি আইন অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীরা গ্রেফতার এড়ানোর জন্যে নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে এসাইলামের আবেদন করতে পারেন।
তাদের সে আবেদন নাকচ হয়ে গেলে ইমিগ্রেশন কোর্টে আপিলের সুযোগ পান। টাম্প প্রশাসন সেই বিধিকে অবজ্ঞা করছিলেন। এদিকে, সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৯ আগস্ট শুক্রবার জানানো হয়েছে যে, আইস কর্তৃক চলমান অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের ৭০% কোন ধরনের অপরাধে লিপ্ত ছিলো না বা দন্ডিত হয়নি। ২১ জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন ৬,১২২৬ জন। এরমধ্যে ১,৮২০৫ জন হলেন দন্ডিত অপরাধি। ১,৫৯৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঝুলছে। ২,৭৪২৮ জনের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র অভিবাসনের আইন লংঘনের অভিযোগ রয়েছে। আইস কর্তৃক সরবরাহকৃত এ তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গিকারের পরিপূরক নয় বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, গুরুতর অপরাধে লিপ্ত অবৈধদেরকেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হাজারের বেশি বিক্ষোভ
লেবার ডে’র ছুটির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। তাঁদের দাবি, শ্রমিক সুরক্ষা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা নীতির সমালোচনাও করেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটে এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘ধনকুবেরের চেয়ে শ্রমিক গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যানার নিয়ে দাঁড়ান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শ্রমিকদের সুরক্ষা জোরদার করতে হবে, স্কুলগুলোকে পুরোপুরি অর্থায়ন করতে হবে, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া তাঁরা করপোরেট দুর্নীতি, প্রান্তিক সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করারও দাবি জানাচ্ছেন। নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হন। তাঁরা ট্রাম্পের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন এবং প্রেসিডেন্টকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দেন। একদল বাদক বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছিলেন। এ সময় শ্রমিকেরা জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত মজুরি ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন।
ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম পারিশ্রমিক : রেস্তোরাঁর কর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ’-এর সদস্য জিওভান্নি উরিবে আল-জাজিরাকে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করা ধনকুবেরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। উরিবে বলেন, ‘নিউইয়র্ক নগরের পরিষেবা খাতের কর্মীরাই এই শহরের মেরুদণ্ড। ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁরা কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি না দিয়ে ন্যূনতমের কম পারিশ্রমিক চালু রাখতে চাইছে। বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু দরকার, আমরা সেটুকু মজুরি চাই।’ যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দধমিক ২৫ ডলার। ২০০৯ সালের পর থেকে এই মজুরি আর বৃদ্ধি করা হয়নি। এর একটি কারণ হলো শিল্পগোষ্ঠীর সফল লবিং। ওয়েটার বা টিপ-নির্ভর (বকশিশ) সেবাকর্মীদের জন্য নির্ধারিত ‘ন্যূনতমেরও নিচের’ মজুরি মাত্র ২ দশমিক ১৩ ডলার। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এ মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, এই পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ন্যূনতম ৭ দশমিক ২৫ ডলার করতে দিতে হবে। তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রায়ই এভাবে শ্রমিকদের মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হয়।
শিকাগোতে বিক্ষোভকারীদের নিশানা ন্যাশনাল গার্ড : শিকাগো শহরের কেন্দ্রে হাজারো মানুষ ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসির মতো শিকাগোতেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন।
উল্লিখিত এ দুটি শহরও শিকাগোর মতো ডেমোক্র্যাটশাসিত। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ঘোষণা দেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অনধিকার চর্চার বিরুদ্ধে শিকাগো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা শিকাগোর নীল ডোরা কাটা পতাকা ওড়াচ্ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জোরালো করতালি পেয়ে মেয়র বলেন, ‘এই শহরটিই দেশকে রক্ষা করবে।’
Posted ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh