বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
ডেমোক্রেট সোস্যালিস্ট নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সিটির জন্য দলের পতাকাধারী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে উঠায় ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় পর্যায়ের নেতারা একজন আরেকজনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যে তারা মামদানিকে কতটা কাছে টানতে সক্ষম হবেন।
সিটির কুইন্স বরো, যেখান থেকে অ্যাসেম্বলিম্যান মামদানির রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল, সেই কুইন্সে ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রধান সাথে কখনও দেখা করেননি। দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির রাতে মামদানির চমক সৃষ্টিকারী বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত মামদানির সঙ্গে ফোনে কথা পর্যন্ত বলেননি। সেই রাতে তিনি মামদানিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির উদীয়মান তারকা বলে অভিহিত করেছিলেন। তাছাড়া ডেমোক্রেটিক পার্টি কুশলী, অন্যান্য নির্বাহী ও ওয়াশিংটনে নির্বাচিত নেতাদের কাছে মামদানি সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন। কিন্তু ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে মামদানির বিজয় লাভের পর তার সম্পর্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের মনোভাবে পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে।
কারণ তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করছেন, ফোন করছেন, জনগনকে প্রতিশ্রুত দান করছে এবং দাতা ও কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্টদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রক্ষা করছেন। গত সোমবার জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত ইহুদি প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। পরদিন তিনি ইসরায়ের ও ট্রাম্পের নতুন করনীতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সিটির একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের দেড় শতাধিক ব্যবসায়ীর সমাবেশে তাদের প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন।
এর একদিন পর ওয়াশিংটনে যান কয়েক ডজন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যানের সাথে ব্রেকফাস্ট বৈঠকে মিলিত হয়ে তাদের নিকট থেকে নির্বাচণি অভিযান সম্পর্কে পরামর্শ গ্রহণ করতে। এ বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন নিউইয়র্ক সিটি থেকে নির্বাচিত কংগ্রেওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। গত শুক্রবার তিনি হাউস ডেমোক্রেট নেতা এবং নিউইয়র্কের আরেক কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরির সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি এখনো মেয়র প্রার্থী হিসেবে মামদানিকে সমর্থন করেননি।
নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনের কিছু ডেমোক্রেট নেতা আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল সিটিতে তাদের ধলের পতাকা বহনকারী হিসাবে মামদানির আকস্মিক বিজয়ে হতবাক হয়েছেন এবং তারা এখন তাকে যাচাই করে দেখতে চান, যাকে তারা এতদিন পর্যন্ত তাদের দলের বৃহৎ পরিসরের বাইরেই দেখেছেন। কিন্তু ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীতে বিজয়ী হওয়ায় তারা মামদানিকে অগ্রাহ্য করতে পারছেন না। মামদানি নিজেই তার ব্যক্তি¦ত্ববলে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সিটির মেয়র হওয়ার জন্য ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে অভূতপর্ব বিজয় অর্জন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ডেমোক্রেট নেতারাও ধারণা করতে পারেননি যে, একজন এশীয় এবং তদুপরি একজন মুসলিমের পক্ষে সিটিবাসীর প্রাইমারিতে জয়ী হওয়া সম্ভব।
মামদানির সঙ্গে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যোটদের প্রথশ দিকের আলোচনাগুলোতে তার তেমন কোনো সুবিধা হয়নি। স্টেট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড এবং গভর্নর ক্যাথি হকুুল প্রাইমারিতে মামদানির বিজয়ের আগে তার সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু এখনো তাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন করেননি। একইভাবে কংগ্রেসে মাইনরিটি নেতা নিউইয়র্কের সিনেটর চাক শুমারও মামদানির পক্ষে কিছু বলেননি। শুমার ও মামদানি ২০২১ সালে ট্যাক্সিচালকদের দাবির সমর্থনে একই সাথে আন্দোলন করেছেন।
একজন ডেমোক্রেটিক সোস্যালিষ্ট হিসেবে মামদানি নিউইয়র্ক সিটির সাশ্রয়ী সংকট দূর করতে যে দাবিগুলো তুলেছেন, সেগুলোকে রিপাবলিকানরা কেন্দ্রীয়ভাবে তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে আগ্রহী। তারা মামদানি ও তার সমর্থখদের ইসরায়েল বিরোধী বলে অভিহিত করায় তিনি জোরালোভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মেয়র এবং প্রেসিডেন্টদের উপদেষ্টা প্যাট্রিক গ্যাসপার্ড ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির সময় মামদানিকে নীরবে সহায়তা করেছিলেন।
তিনি আশা করেন যে মেয়র নির্বাচিত হলে মামদানি নিউইয়র্ক সিটির জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিয়ন, স্থানীয় কর্মকর্তা ও উদারপন্থীরা, যাদের মধ্যে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও ছিলেন, তারা প্রাইমারিতে মামদানিকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিলেও কংগ্রেসে নিউইয়র্ক থেকে প্রতিনিধিত্বকারী ১২ জন ডেমোক্রেটের মধ্যে মাত্র চারজন মামদানিতে সমর্থন জানিয়েছিলেন। মামদানির বিজয় তাদেরকে তাদের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অভিযানে ভূমিকা রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের অনেকে এখন নতুন নেতৃত্বের পক্ষে কথা বলছেন।
Posted ১২:৫৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh