বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) ট্রাফিক আইন লংঘন থেকে দেহতল্লাশি করে গাঁজা পাওয়ার মতো অপরাধের ছোটখাট অপরাধেও অভিবাসীদের আটক করে ডিপোর্ট করছে। সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইস এ তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর আসছে।
জর্জিয়ার এক সিটিতে কন্ট্রাক্টর হেক্টর মাদ্রিদ স্থানীয় হোম ডিপো থেকে তার প্রয়োজনীয় মালপত্র কিনে গাড়ি চালাতে শুরু করার পর পাশের গাড়ির ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। স্টেট পুলিশ পেট্টলের অফিসার তাদের দুজনকেই থামায় এবং লাইসেন্স দাবি করে। মাদ্রিদ তার কৈশোরে তার নিজ দেশ হণ্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং এসাইলামের জন্য ইমিগ্রেশন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। তার কাছে ড্রাইভার্স লাইসেন্স ছিল না। তার স্ত্রী জ্যাকুলিন মারাভিলা বলেন, তারা যেখানে বাস করেন সেখান থেকে সবকিছুর দূরত্ব ৪৫ মিনিটে।
সেখানে কোনো উবার বা লিফট নেই। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোতে ঝুঁকি আছে জেনেও জীবিকার জন্য তাদের বিকল্প ছিল না। ইমিগ্রেশন আইনে মাদ্রিদ বা তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গন্য নন। কিন্তু ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় ইমিগ্রেশন বিভাগ ও ক্রিমিনাল জাস্টিস পাশাপাশি কাজ করছে। ছোটখাট অপরাধে অথবা কারো অপরাধের কোনো রেকর্ড না থাকলেও হাজার হাজর অভিবাসী পরিবার ট্রাম্প প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কৃত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন।
তুচ্ছ কারণে যাদের ডিপোর্ট করা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগের অপরাধ ছিল বড়জোর ট্রাফিক আইন লংঘন, যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো। এ সংখ্যা প্রতি মাসে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেবল ট্রাফিক আইন ভাঙার কারণে গত সাত মাসে বৈধ-অবৈধ মিলে ১,৮০০ জনের বেশি অভিবাসী আটক করে আইনগত কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের ডিপোর্ট করেছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ডিপোর্ট করা ১ লাখ ২০ হাজার অভিবাসীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংঘটনের রেকর্ড নেই। আরো ৮ শতাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ। ডিপোর্টকৃতদের ১২ শতাংশের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের বা অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল। সামান্য অপরাধে বৈধ অভিবাসীদের ডিপোর্ট করার কারণ জানতে চাইলে ‘আইস’ অফিসাররা সাধারণত কোনো মন্তব্য করেন না।
গত মে মাস পর্যন্ত ডিপোর্ট করা ৬শ’র বেশি অভিবাসীর সর্বোচ্চ অপরাধ ছিল গাঁজা রাখা সংক্রান্ত। অনেকে ডিপোর্টেড হয়েছেন বহু বছর আগের অপরাধ সংঘটনের কারণে। প্রতি চারজনের ক্ষেত্রে তিনজনের অপরাধ পাঁচ বছর আগের। ওয়াশিংটন ভিত্তিক নর্থওয়েস্ট ইমিগ্রান্ট রাইটস প্রজেক্টের ডাইরেক্টিং অ্যাটর্নি টিম ওয়ার্ডেন-হার্টজ বলেছেন, ডিপোর্ট করার কারণ হিসেবে অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া এখন আর কোনো বড় কারণ নয়। ‘আইস’ এর কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা নেই। তারা যত বেশি লোককে ডিপোর্ট করতে পারে, কেবল সেই চেষ্টা করছে।
পুরোনো তথ্যউপাত্তেও দেখা যায় যে আগের প্রশাসনগুলোও ডিপোর্ট করার ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত কিনা তা দেখেনি, অপরাধ করা ছাড়া অথবা তুচ্ছ কারণে ডিপোর্টেড হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় তুচ্ছ কারণে ডিপোর্টেশন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ডিপোর্টেড অভিবাসীদের অর্ধেকের বেশির কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল না। ওই সময় প্রতিমাসে গড়ে ৮০ জনকে ট্রাফিক আইন ভাঙার কারণে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ফেলে আসা কয়েক মাসে ট্রাফিক আইন ভাঙার কারণে মাসে ৩৫০ জনের অধিককে ট্রাফিক আইন লংঘনের অভিযোগে ডিপোর্ট করার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের টার্গেট হলো প্রতিদিন গড়ে ৩,০০০ অভিবাসীকে গ্রেফতার করা।
Posted ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh