বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার । নিউইয়র্কের ভোটাররা চার বছর মেয়াদের জন্য তাদের ১১১তম মেয়র নির্বাচন করতে প্রয়োগ করবেন ভোটাধিকার। নবনির্বাচিত মেয়র আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস’র মেয়াদ শেষে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। জোহরান মামদানিকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো সমর্থন জানিয়ে এরিক অ্যাডামস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে। তিনি ২০২৩ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হন। মঙ্গলবারের মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেনস্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো ও রিপাবলিকান মেয়র প্রার্থী কার্টিস সিলওয়া। প্রধান দুই দলের প্রার্থী ছাড়াও অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ডেমোক্রেট সিটি নিউইয়র্কে দলীয় প্রাইমারীর পরই নির্ধারিত হয়ে যায় যে কে পরবর্তী মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সে হিসেবে ৪ নভেম্বর মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির নির্বাচন একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সর্বশেষ প্রকাশিত একটি জরিপেও দেখা গেছে মামদানি ক্যুমোর চেয়ে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। জরিপে বলা হয়েছে, মামদানিকে সমর্থন করেন ৪৩% ভোটার, তার বিপরীতে ক্যুমো সমর্থন পেয়েছেন ৩৩% এবং রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়া পেয়েছেন ১৪% ভোটারের সমর্থন।
বিজয়ের পথে জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে সর্বাধিক আলোচিত প্রার্থী জোহরান মামদানি। ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী এবং প্রথম মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানি এখন অপ্রতিরোধ্য। বিরোধী শিবিরের সকল অপপ্রচার ও বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে ডেমোক্রেট দলীয় এই প্রার্থী। গত জুনে দলীয় প্রাইমারিতে হেভিওয়েট প্রার্থী নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমোকে ধরাশায়ী করে নিজের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক শক্তি মত্তার পরিচয় দেন জোহরান মামদানি। প্রাইমারি বিজয়ের মধ্য দিয়ে সত্যিকারার্থে ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান মামদানির। এখন শুধু অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের। নির্বাচনের আর মাত্র ৫দিন বাকি। নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে বড় ধরণের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন তারুণ্যের প্রতীক এই প্রার্থী। জোহরান মামদানি ২০২৫ এর মেয়র নির্বাচনে উঠে এসেছেন ম্যাজিশিয়ানের মতো। তাকে দমাতে তার বিরোধীরা সবধরণের প্রচেষ্টা এবং ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। প্রাইমারিতে পরাজিত ক্যুমো স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন ক্যুমোর পক্ষে। রিপাবলিকান প্রার্থী সালওয়া প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মামদানির বিরুদ্ধে। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোন মূল্যে ঠেকানোর চেষ্টা করছেন মামদানিকে। এছাড়া ইসলাম বিরোধী ও ইহুদী শিবির কাজ করছে মামদানির বিপক্ষে।
সবকিছু পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছেন মামদানি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নিউইয়র্ক সিটির তরুণ প্রজন্ম ব্যাপকভাবে ঝুকে পড়েছেন তার প্রতি। প্রায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন মামদানির পক্ষে। সবকিছু মাড়িয়ে সিটির ১১১তম মেয়র হচ্ছেন জোহরান মামদানি এমন ধারণা এখন ভোটার এবং অভিজ্ঞ মহলে।
নিউইয়র্ক সিটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল সিটি, যেখানে ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জনসংখ্যা ৮,৮০৪,১৯০। সিটির আয়তন ৩০০ বর্গমাইলের বেশি। নিউইয়র্ক সিটিকে বিশ্বের রাজধানী হিসেবেও বর্ণনা করা হয় সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি, শিক্ষা, রাজনীতি, বিনোদন, পর্যটন, ফ্যাশন, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রস্থল হওয়ার কারণে। নিউইয়র্ক শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্রময় সিটি, যেখানে বিশ্বের সকল জাতি ও উপজাতির লোকজনের বসবাস এবং উইকিপিডিয়ার বর্ণনা অনুসারে নিউইয়র্কে বসবাসকারীরা ৮০০ ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ইমিগ্রান্টদের মধ্যে ৩২ লাখ বাস করে নিউইয়র্ক সিটিতে। বিশ্বের আর কোনো সিটিতে এত অধিক সংখ্যক ইমিগ্রান্ট নেই। নিউইয়র্কের অর্থনীতিও বিশাল। ২০১৯ সালের হিসেবে নিউইয়র্কের মেট্টোপলিটান এলাকায় মোট মেট্টোপলিটান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। সে কারণে বলা হয় যে, নিউইয়র্ক মেট্টোপলিটান এলাকা যদি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হতো, তাহলে এটি বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হতো। বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক বিলিওনিয়ারের বসবাস নিউইয়র্ক সিটিতে।
নিউইয়র্ক হারবার বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক সমুদ্রবন্দর। এই বন্দরে বার্ষিক ৭০ বিলিয়ন ব্যারেল তেল খালাস করা হয় এবং এটি বিশ্বের বৃহত্তম কনটেইনার উঠানো ও নামানোর বন্দর। সিটির পাঁচটি বরো, কুইন্স, ম্যানহাটান, ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড পৃথক পৃথক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সহাবস্থানের প্রয়োজনীয় কাঠামোর আওতায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সিটিতে ১২০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এবং সিটি পরিচালিত ১৬০০ এলিমেন্টারি, মিডল ও হাইস্কুল রয়েছে, যেখানে ১১ লাখ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কলাম্বিয়া, রকফেলার, সেন্ট জোন্স, সিটি ইউনিভাসিটি, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। সিটির পাবলিক লাইব্রেরির ৯২টি শাখায় প্রায় ৫ কোটি বই আছে। সিটির সাবওয়ে বা পাতাল রেলের ৪৭২টি স্টেশন আছে এবং প্রতিদিন সাবওয়ের ২২টি লাইনে প্রতি কর্মদিবসে প্রায় ৫৫ লাখ যাত্রী চলাচল করে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে ৬ কোটি ৬৬ লাখ পর্যটক এসেছে। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার লোক বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালিত হয় একজন মেয়র, মেয়র কর্তৃক মনোনীত কয়েকজন ডেপুটি মেয়র, সিটি কাউন্সিলম্যান, অসংখ্য বিভাগ, বোর্ড ও কমিশন সমন্বয়ে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ছাড়া মেয়র অনির্বাচিত কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন। তিনি সিটির বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের তদারকি করেন, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আকারের মিউনিসিপাল বাজেট। ২০২৩ সালে সিটি বাজেটের পরিমাণ ছিল ১০০.৯ বিলিয়ন ডলার।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের ইতিহাস ৩৫৬ বছর। ১৬৬৫ সালে সিটির প্রথম মেয়র থমাস উইলেটকে নিয়োগ করেন গভর্নর রিচার্ড নিকোলিস। ১৫৬ বছর পর্যন্ত মেয়রকে নিয়োগ করতেন গভর্নর এবং মেয়রদের ক্ষমতা ছিল সীমিত। ১৭৮৩ থেকে ১৮২১ সাল পর্যন্ত মেয়র নিয়োগের দায়িত্ব ছিল কাউন্সিল অফ অ্যাপয়েন্টমেন্টের উপর। কিন্তু এক্ষেত্রেও স্টেট গভর্নরের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। ১৮২১ সালে কমন কাউন্সিল, যার মধ্যে কিছু নির্বাচিত প্রতিনিধিও থাকতেন, তারা নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বাছাই করার কর্তৃত্ব লাভ করেন। ১৮৩৪ সালে নিউইয়র্ক স্টেট সংবিধানের আনীত সংশোধনীতে ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে মেয়র নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। ওই বছর মেয়র নির্বাচিত হন ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্নেলিয়াস ডব্লিউ লরেন্স। বর্তমানে সিটি মেয়রের বার্ষিক বেতন ২৫৮,৭৫০ ডলার। ২০০২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাইকেল ব্লুমবার্গ ছিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনবার ব্যক্তি। তিনি মেয়রের নির্ধারিত বেতন গ্রহণ না করে বার্ষিক এক ডলার বেতন নিতেন। সিটির আইন প্রণয়নের জন্য পাঁচ বরো থেকে নির্বাচিত ৫১জন কাউন্সিলম্যান রয়েছেন। তারা চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কাউন্সিলম্যানরা বার্ষিক ১৪৮,৫০০ ডলারের মূল বেতন এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি ভোগ করেন। কাউন্সিলের প্রধান একজন স্পিকার রয়েছেন, যিনি কাউন্সিলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। ২০২০ সালে সেন্সাস অনুযায়ী সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস। ফলে ২০২১ এর নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন তাদের মেয়াদকালসীমিত হবে ২বছরের জন্য। এভাবে চলবে পরের নির্বাচন। ২০২৫ সালের নির্বাচনের পর পুনরায় ৪ বছরের স্বাভাবিক মেয়াদকাল শুরু হবে সিটি কাউন্সিলে। ১৯৮৯ সালের নিউইয়র্ক সিটি চার্টার অনুযায়ী কার্যকর হেেচ্ছ এ পরিবর্তন।

ক্যুমোকে সমর্থন জানাল মেয়র অ্যাডামস
এখনো পর্যন্ত জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী জোহরান মামদানিকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো সমর্থন জানালেন নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস। আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে গত ২৩ অক্টোবর ক্যুমোকে সমর্থনের কথা জানান তিনি। সিটির ইস্ট হারলেমে এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে সাবেক গভর্নরের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন অ্যাডামস। তিনি বলেন, কখনও কখনও ‘ভাইদের মধ্যে লড়াই হয়’। ক্যুমোর সঙ্গে মিলে নির্বাচনী প্রচার চালানোর এখনই সময়।অ্যাডামসের আরো বলেন, আমি নিউইয়র্কের পরিবারগুলোর পক্ষে লড়াই করেছি। তাই নিউইয়র্ক সিটির পরবর্তী মেয়র হিসেবে ক্যুমোকে সঙ্গে নিয়ে তাদের জন্য লড়াই করতে চাই।
উল্লেখ্য যে, কয়েকটি জরিপে নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়রের অবস্থান অনেক পিছিয়ে থাকার পর গত সেপ্টেম্বর মাসে পুনর্নির্বাচনের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ান এরিক অ্যাডামস।গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনের শেষের দিকে এসে সমর্থনের জন্য অ্যাডামসকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্যুমো বলেন, বর্তমান মেয়র তার উচ্চাকাক্সক্ষাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। কারণ নিউইয়র্ক সিটি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি মনে করেন, জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।ক্যুমো বলেন, মামদানি যাতে পরবর্তী মেয়র হতে না পারেন, সে জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা করতে হবে।নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত দিনগুলোতে ক্যুমোর সঙ্গে মেয়র অ্যাডামস প্রচারে নামবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মামদানি ও ক্যুমোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যক্তিগত বিদ্বেষে রূপ নিচ্ছে
সম্প্রতি মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বীদের কিছু কর্মকাণ্ডকে ইসলামোফোবিক (ইসলামবিদ্বেষী) বলে সমালোচনা করেছেন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর তিনি আবেগঘন এক বক্তৃতায় নিজের মুসলিম পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঘোষণা দেন, এই বিদ্বেষের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি লড়াই চালিয়ে যাবেন।ব্রঙ্কসের মুসলিম কালচারাল সেন্টারের সামনে দেয়া ওই ১০ মিনিটের বক্তব্যে মামদানি অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যুমো, রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া এবং বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসÑ সবাই নিজেদের প্রচারণায় ইসলামবিদ্বেষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।অন্যদিকে, ক্যুমো জ্যাকসন হাইটসে মুসলিম নেতাদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা জবাবে বলেন, ‘মামদানি আসলে ভুক্তভোগী সাজার অভিনয় করছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনিই অপরাধী।’
সাবেক গভর্নর ক্যুমোর দাবি, মামদানি ইহুদি সম্প্রদায়কে ভীত করেছে, কারণ তিনি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ স্লোগানটি নিন্দা করতে দেরি করেছিলেন, যদিও এখন তিনি এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলার পর ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান ও ইসরায়েলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ার জন্য মামদানির সমালোচনা হচ্ছে।স্লিওয়ার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, মামদানি ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে ‘অস্ত্র হিসেবে’ ব্যবহার করছেন। অ্যাডামস প্রশাসন এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
‘যতই বোঝানোর চেষ্টা করি, তা কখনো যথেষ্ট নয়’ : মামদানি
কুইন্সের এই ডেমোক্র্যাটিক সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মন্তব্যগুলো প্রমাণ করে যে, সারা নির্বাচনী প্রচারণাজুড়ে তিনি অব্যাহত ইসলামবিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন। মামদানি বলেন, প্রতিদিন সুপার প্যাকের বিজ্ঞাপনগুলো ইঙ্গিত দেয় আমি একজন সন্ত্রাসী, অথবা আমি কীভাবে খাইÑ তা নিয়ে উপহাস করা হয়। সার্ভে করা হয়, নিউইয়র্কবাসী কি চান আমি হালাল খাবার বাধ্যতামূলক করি কি-না, অথবা রাজনৈতিক কার্টুনে আমাকে দেখানো হয় যেনো আমি কোনো বিমান নিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দিকে ধাবিত হচ্ছি। তিনি বলেন, মুসলিম প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং ‘সব নিউইয়র্কবাসীর প্রতিনিধি’ হতে চাইলেও বিদ্বেষ থামেনি। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম, যদি সর্বজনীনতার বার্তা দিই, তাহলে আমি এমন নেতা হিসেবে পরিচিত হতে পারবো, যিনি সবার জন্য কাজ করেন, ভুল ভেবেছিলাম যতই দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করি, কখনোই তা যথেষ্ট হয় না। এরপর মামদানি বলেন, আমি আজ আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে কথা বলছি না, আমি কথা বলছি নিউইয়র্ক সিটির মুসলমানদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ৯/১১-পরবর্তী সময়ে বড় হওয়ার সময় থেকেই তিনি ইসলামবিদ্বেষের মুখোমুখি হয়েছেন। কেউ তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে বিদ্রুপ করেছে, আবার কখনো বিমানবন্দরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছেÑ তিনি শহরে হামলার পরিকল্পনা করছেন কি-না।তিনি বলেন, আমার এক সহপাঠীকে যেমন গোয়েন্দাগিরিতে বাধ্য করা হয়েছিল, তেমনটি আমাকে করতে হয়নি; আমার এক কর্মীর মতো গ্যারেজে কেউ ‘সন্ত্রাসী’ লিখে দেয়নি; আমার মসজিদ কখনো পুড়িয়ে দেয়া হয়নি, নিউইয়র্কে মুসলমান হয়ে বেঁচে থাকা মানেই অপমানের জন্য প্রস্তুত থাকা। তবে এই অপমান আমাদের আলাদা করে না, যারা এই অপমানকে মেনে নেয়, তারাই পার্থক্য তৈরি করে।
‘আমি ৯/১১ মন্তব্যটি গুরুত্ব সহকারে নিইনি’ : ক্যুমো
মামদানি অভিযোগ করেন, কুয়োমো এক রেডিও সাক্ষাৎকারে তাকে নিয়ে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার উদাহরণ টেনে কটাক্ষ করেছেন। ক্যুমো বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর না করুন, আরেকটি ৯/১১ হলে মামদানি যদি তখন মেয়রের আসনে থাকতেন, ভাবতে পারেন? জবাবে সঞ্চালক বলেন, সে তো তখন উল্লাস করতো,’ এতে ক্যুমো হেসে বলেন, ‘এটাও এক দিক।’মামদানি এ মন্তব্যকে ইসলামবিদ্বেষী ও বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো বলেন, অ্যাডামস তাকে ‘চার্চ পুড়িয়ে দিতে চাওয়া ইসলামী চরমপন্থী’ হিসেবে চিত্রিত করছেন এবং স্লিওয়া তাকে ‘গ্লোবাল জিহাদ’-এর সমর্থক বলছেন।ক্যুমোর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর ক্যাথি হকুল, কংগ্রেসম্যান জেরি ন্যাডলার এবং রিচি টরেস।ক্যুমো পরে বলেন, আমি সেটাকে গুরুত্ব সহকারে নিইনি, তাই তখন হাস্যরসাত্মকভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলাম।ক্যুমো আরো অভিযোগ করে বলেন, মামদানি-ই বিভেদ তৈরি করছেন। সে নিউইয়র্কবাসীদের ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে দাগাচ্ছে, এটা রাজনীতির পুরনো নোংরা কৌশল, মানুষকে বিভক্ত করোÑ এটাই সবচেয়ে সস্তা রাজনৈতিক কৌশল। কিন্তু এটা কাজ করবে না। নিউইয়র্কবাসী একে সফল হতে দেবে না।স্লিওয়ার প্রচার শিবিরের মুখপাত্র ড্যানিয়েল কুরজিনা বলেন, কার্টিস স্লিওয়া গত ৫০ বছর ধরে মুসলিম নিউইয়র্কবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে সহিংসতা ও ঘৃণা থেকে তাদের সুরক্ষা দিয়ে আসছেন। মামদানি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ইসলামোফোবিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, এটা ভুল এবং মরিয়া পদক্ষেপ।
Posted ১২:০৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh