| বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন বানচালের নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাদের দোসরদের হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠা থেকে এ চক্রান্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়া নিয়ে সরকার দৃঢ় অবস্থানে। পলাতক শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগৈর যারা দেশের বাইরে বা দেশেই আত্মগোপন করে আছেন, তারা তাদের সাঙ্গাঙ্গদের উস্কানি দিচ্ছেন নির্বাচন বানচালের সকল প্রচেষ্টা চালাতে।
কিছু দলও জুলাই সনদ, পিআর পদ্ধতি, সংস্কারসহ অন্যান্য ইস্যু নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে জটিল এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে। এ নিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও মতদ্বৈততা দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিরোধিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার এই বিরোধ ও মতদ্বৈততার সুযোগে গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাঙা হয়ে উঠার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দেশে-বিদেশে তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
ঝটিকা মিছিলসহ গোপনে নানা ধরনের বৈঠক করছে। কয়েকদিন ধরে কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি, বিভিন্ন দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ইত্যাদির পেছনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও উসকানি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও তারা জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলাও করছে।
গত ২৪ আগস্ট নিউইয়র্কে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভেতরে যখন বৈঠক করছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাইরে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে তারা অফিসের প্রবেশ পথের দরজা ভাঙচুর করে। এ ঘটনা নিশ্চিতভাবেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চরম ধৃষ্টতা। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ইস্পাততুল্য ঐক্য দেখা গিয়েছিল, সেই ঐক্য এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান দুই মেরুতে। তাদের মধ্যকার এই বিভেদই যে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ চেয়েছে, তার সক্রিয় হয়ে উঠা থেকেই তা বোঝা যাচ্ছে।
দলটির নেতাকর্মীরা ভেতরে ভেতরে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে এবং মাঠে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে উঠেছে। এমনকি, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারি সম্মুখ সারির সমন্বয়কসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। নিউইয়র্কে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে সমাবেশ ও কনস্যুলেটের প্রবেশপথ ভাঙাই তার প্রমাণ। এই প্রবণতা যে, সামনের দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ, আওয়ামী লীগ এমন একটি দল, যে হত্যা, গুমসহ হেন কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম নেই, যা করতে পারে না। ক্ষমতায় থেকেও এগুলো করেছে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও করেছে। দলটির ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এসব সন্ত্রাসী কাজে সে অত্যন্ত পারদর্শী। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলটির সমর্থক ইউটিউবার এবং সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে ঘাপটি মেরা থাকা তার দোসর সাংবাদিকরা নানা কৌশলে এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান সৃষ্টিতে অধিক তৎপর হয়ে উঠেছে।
টেলিভিশন টক শো গুলোতে তার পক্ষের বক্তাদের হাজির করে তাদের দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলাচ্ছে। যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সমন্বয়করা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন দিয়ে লড়াই করে তার পতন ঘটিয়ে বিতাড়ন করেছে, তাদের মধ্যে এখন অনৈক্য দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের উত্থান ঠেকানোর পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি শুরু করেছে। তাদের এই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে। উল্লেখ করা নিস্প্রয়োজন, আওয়ামী লীগের কাছে লুটপাট ও পাচারের হাজার হাজার কোটি টাকা রয়েছে। সে এখন দেশে অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এ অর্থ ব্যয় করছে। ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যের সুযোগে আওয়ামী লীগ যদি ফিরে আসে, তাহলে তার দায় তাদেরকেই নিতে হবে। ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়টি বুঝতে হবে। গণঅভ্যুত্থানকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত করা, কিংবা অনৈক্যর মাধ্যমে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়ার অর্থই হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা।
যেসব ইস্যু নিয়ে তাদের মধ্যকার বিরোধ ও মতভেদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নিরসনে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করে চিরতরে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটাতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে।
Posted ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh