| বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
গত কিছুদিন ধরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে বেশকিছু নারী-পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাতে অন্ধকারে অনেককে পুশইন করাতে পারলেও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বসকারী সাধারণ বাংলাদেশিরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএসএফ এর অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে। কিন্তু এ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে এবং নো ম্যান’স ল্যান্ডে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুশইনের চেষ্টা বেড়েছে।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসামে বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় বিগত বছরগুলোতে একই ঘটনা ঘটে চলেছে। ভারতের এমন আচরণের প্রতিবাদে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক ডজনেরও বেশি চিঠি দিয়েছে ঢাকা। কিন্তু বাংলাদেশ কোনো সদুত্তর পায়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবৈধ নাগরিক বিনিময়ের আইনানুগ প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও বিএসএফ যেভাবে পুশইন করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কিন্তু সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ‘সব হত্যাকে সীমান্ত হত্যা বলা যাবে না’ মর্মে বক্তব্যের দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরে ওই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কেউ নিহত হলে সেটিকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।
প্রশ্ন উঠেছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপরাধ ও অনুপ্রবেশের অজুহাতে ‘সীমান্ত হত্যার’ সংজ্ঞা সংকুচিত করে একটি গভীর সংকটকে হালকা করার চেষ্টা করেছেন। অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকার নীতি এবং জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিকের ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন বা নির্বিচার গুলি চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য বিএসএফের সীমান্ত হত্যাকে আরও উসকে দেবে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারি নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের হত্যাযোগ্য করে তুলতে উৎসাহিত করবে। বিএসএফ যে প্রায় নিয়মিত নিরীহ বাংলাদেশীদের নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করছে, তার বক্তব্য তা বৈধতা উৎপাদন করছে। এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বাংলাদেশে ভারতের পুশইন এবং তার অভ্যন্তরে মুসলমানদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যাসহ মুসলিম সভ্যতার ঐতিহাসিক স্থাপনা, মসজিদ ইত্যাদি গুঁড়িয়ে দেয়া কিংবা বিভিন্ন স্থান, এলাকা ও স্থাপনার মুসিলিম নাম পরিবর্তন করে হিন্দুয়ানি নাম রাখা নিয়ে দেশটিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারত থেকে মুসলমানদের উচ্ছেদ ও মুসলিম সভ্যতার নামনিশানা মুছে ফেলার প্রক্রিয়া চালছে। ভারত সরকার তার জনগণকে নিয়ে কী করবে, সেটা তার আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তবে যখন প্রতিবেশি বিশেষ করে বাংলাদেশকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ্যে পরিণত করা হয়, তখন তা বাড়াবাড়ি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর আঘাত। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের মধ্যে বসবাস করে আসছে।
বাংলাদেশে বিচ্ছিন্ন কারণে হিন্দুদের উপর সামান্য আঁচড় পড়লে ভারত যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর শামিল। অথচ ভারতে যে উগ্র হিন্দু ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা ঘটনায় বাংলাদেশ কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সেসব ঘটনাকে ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখে। পুশইন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টির পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে, ভারত সীমান্তে পুশইন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এবং দেশের অভ্যন্তরেও সক্রিয় হয়ে বাংলাদেশে একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে। সরকারকে তা অনুধাবন করে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।
Posted ৩:১৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh