স্পোর্টস ডেস্ক : | মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
রোনালদো যুগের অবসান হলো। বিশ্বমঞ্চে শূন্য হলো এক কিংবদন্তি ফুটবলারের আসন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কথাই বলছি। এটা ছিল তার শেষ খেলা বিশ্বমঞ্চে। জিতলে হয়তো আরও কয়দিন স্থায়ী হতো। ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আশা করি, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটা শেষ ম্যাচ হবে না’—এমন ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন রোনালদো। তার বিশ্বকাপ শেষ হলো ঠিকই। কিন্তু একইসঙ্গে বিদায় নিল পর্তুগালও। ফুটবল তো এমনই। গোল পেলে রাজা, এর উল্টো হলেই বাড়ি ফেরা। তাকে ফেয়ারওয়েল নিতেই হলো অবশেষে। পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদো এই বিশ্বকাপের শেষ খেলায় কোনো চমক দেখাতে পারেননি।
ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ৭০ হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন শেষ লড়াইটা দেখতে। কিন্তু ভাগ্য তাদের আর পক্ষে নেই। মরা খেলায় স্পেন হঠাৎ করেই জেগে উঠলো। পর্তুগালের রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ লুফে নেয় স্পেন। পেনাল্টি বক্সের বাইরে একটি ফাউল সবই উলট-পালট করে দেয়। ফেরান তোরেস নিখুঁত পাসে বলটি বাড়িয়ে দেন মিকেল মেরিনোর কাছে। মেরিনো বল পাঠান সোজা পর্তুগালের জালে। আর এটিই রোনালদোর বিপর্যয় ডেকে আনে। যোগ করা সময়ে পর্তুগালের শেষ স্বপ্ন ভেঙেই দেন বদলি নামা এই মেরিনো। রোনালদো তখন শুধু তাকিয়ে দেখছিলেন। বলটা কীভাবে জালে গড়াচ্ছে। খেলার ধারা অনুযায়ী এটা হওয়ার কথা ছিল না। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে স্পেন এই সুযোগ কাজে লাগায়। পর্তুগিজ ডিফেন্স ওই মুহূর্তে বলা চলে অনেকটা ঘুমিয়ে। রোনালদো তখন বিধ্বস্ত।
ক্যামেরায় বারবার তার চেহারাই দেখানো হচ্ছিল। ফুটবলের এই মহাতারকা হয়তো ভেবেছিলেন—আর যাইহোক, ৬ মিনিটে গোল হবে না। কিন্তু ফুটবল! ৩০ সেকেন্ড আগেও গোল হয়ে যেতে পারে। রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বী মেসি এখনও মাঠে, বিশ্ব ফুটবলের আসরে। মেসি খেলছেন। আর কতদিন থাকতে পারবেন মাঠে, অন্তত এই বিশ্বকাপে তা কিন্তু বলা চলে এক অনিশ্চিত যাত্রা। রোনালদো চেয়েছিলেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী তার আগেই যেন বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেন। পর্তুগালকে নিয়ে তিনি বড়াই করতেন। বলতেন, এবার ছন্দময় ফুটবল উপহার দিচ্ছে পর্তুগাল। কিন্তু আখেরে তা মিলল না। ম্যারাডোনা বিদায় নিয়েছিলেন এক দুঃখজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে, ১৯৯৪ আমেরিকা বিশ্বকাপে।
ড্রাগ নেয়ার অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রোনালদো তার ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানলেন এই যুক্তরাষ্ট্রেই। রোনালদো খেলেছেন পৃথিবীর বিখ্যাত ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস, আল নাসর-এ। একাধিকবার পর্তুগালকে নিয়ে গেছেন বিশ্বমঞ্চে। যদিও তিনি কোনো বিশ্বকাপ পাননি। তবে জিতেছেন উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা। রোনালদোর বিদায়ের দিনে স্পেনের উঠতি তারকা লামিন ইয়ামাল ছিলেন একদম নিষ্প্রভ। দু-একবার বলে টাচ করেছেন।
ড্রিবলিং তাকে বাড়তি কোনো সুবিধা দেয়নি। খেলা শেষে রোনালদো ছিলেন খুবই আবেগপ্রবণ। বার বার পেছন ফিরে মাঠের দিকে তাকাচ্ছিলেন। যাইহোক, একজন ফুটবলারের জীবনে এর চাইতে বড় প্রাপ্তি আর কী। ফুটবলের ইতিহাস লিখতে হলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম লিখতেই হবে। তাই বলবো, রোনালদো ছিলেন এবং আছেন। পেলে, ম্যারাডোনা, রোনালদো ও মেসি —এদেরকে নিয়েই কিন্তু ফুটবল।
Posted ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh