| বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ায় আশা করা হচ্ছিল যে, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর ফলে ওই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা পুনরায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ খবর দিয়ে অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, সোমবার এই হামলার আগে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা লেবাননে ইরান সমর্থিত যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান আরও জোরদার করতে পারে।
ইরান জানিয়েছে, কোনো চুক্তিতে যেতে হলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং একই সঙ্গে ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত- সবকিছুর সমাধান থাকতে হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ইরানে হামলার পর বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটজুলাই ডেলিভারির জন্য প্রায় ৯২ ডলারে লেনদেন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ বেড়ে যায়। এশিয়ার বাজারে, যেখানে অনেক দেশ বড় পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করে, সেখানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জাপান ও চীনের মূল শেয়ারসূচক কমলেও দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপিআই প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপে বাজার তুলনামূলক স্থির ছিল।
এসটিওএক্সএক্স ৬০০ সামান্য কমে যায়, তবে বৃটেনের এফটিএসই ১০০ প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম মঙ্গলবার সামান্য কমে গ্যালনপ্রতি ৪.৫০ ডলারে দাঁড়ায়। যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৫১ শতাংশ বেশি। ডিজেলের দামও ২ সেন্ট কমে ৫.৫৮ ডলারে নেমে আসে, যদিও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তা এখনো ৪৮ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স বলেছে, তেলের দামের এই ধাক্কা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির দ্বিতীয় দফার প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, এ বছর উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি প্রায় অনিবার্য এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি বেশি থাকার ঝুঁকিও উর্ধ্বমুখী। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাধারণত উচ্চ দাম চাহিদা কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে এবং পরে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এবার এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে দুর্বল হতে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে নীতিগত টানাপড়েন রয়েছে- কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরে অর্থনীতি শীতল করতে চায়, আর সরকার ভোক্তাদের ভর্তুকি ও সহায়তার মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে চায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখন জানাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যাকে “অগ্রগতি” বলা হচ্ছিল, তা এখন গভীর অনিশ্চয়তার দিকে তলিয়ে যাচ্ছে। এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগেই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে এই কাঠামোটি ভেস্তে যেতে পারে।
এই আকস্মিক পরিবর্তন আগে থেকেই ভঙ্গুর আলোচনায় নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে — যা এই প্রশ্ন তুলেছে যে, উভয় পক্ষ এখনও চুক্তিটি রক্ষা করতে পারবে কিনা, নাকি প্রক্রিয়াটি এখন সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার দিকে এগোচ্ছে। কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় রয়েছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে আস্থা স্পষ্টতই দুর্বল হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পরিবর্তিত হওয়ায় বিশ্ব বাজার এবং ভূ-রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখন উচ্চ সতর্কতায় রয়েছেন।
Posted ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh