বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ছবি : সংগৃহীত
তদন্তের মুখে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের পর মেয়র এরিক অ্যাডামসের ওপর চাপ বেড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তিনিও পদত্যাগে বাধ্য হবেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক রিপোর্টে আভাস পাওয়া গেছে। রিপোর্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মেয়র কি এখনো সামলে নিতে পারবেন?
তিন বছর আগে এরিক অ্যাডামসকে বিবেচনা করা হতো ডেমোক্রেটিক পার্টির উদীয়মান এক তারকা হিসেবে। ব্রুকলিনের একটি নামিদামি রেস্টুরেন্ট জুনিয়র’স রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে অ্যাডামস ছিলেন মূল আকর্ষণ। সকলে ভেবেছিলেন আগামীতে তিনি আরো গুরুত্বপূর্ণ ডেমোক্রেটে পরিণত হবেন। ব্রুকলিন থেকেই তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল।
এরিক অ্যাডামস নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ডেমোক্রেটদের মধ্যে তার গুরুত্ব আরো বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু নানা অভিযোগে, বিশেষ করে তার মেয়র নির্বাচনের সময় প্রচারাভিযানের তহবিল সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর থেকে এফবিআই এর তদন্ত তাকে নাস্তানাবুদ করে ফেলেছে।
তিনি নিজেকে স্বাভাবিক প্রমাণ করে সিটি প্রশাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কিছুই ঘটেনি, এমন ভাব বজায় রাখলেও আসলে ভেতরে তিনি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন, যা তার চেহারায় ফুটে উঠেছিল গত সোমবার এক ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে, তার পতন ঠেকানো আর সম্ভব নয়।
গত সপ্তাহে সিটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা, যারা মেয়র অ্যাডামসের ঘনিষ্ট ও বিশ্বস্ত হিসেবে ছিলেন, তারা পদত্যাগ করায় মেয়রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ও অন্ধকার হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস আশংকা প্রকাশ করেছে যে এরিক অ্যাডামসের পক্ষে আর তার রাজনৈতিক এজেন্ডা এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।
পদত্যাগকারী দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যে সিটি হলের অনুরোধে গত বৃহস্পতিবার মেয়রের প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করেছেন পুলিশ কমিশনার এডওয়ার্ড এ কাবান। এরপর গত শনিবার হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেন মেয়র এরিক অ্যাডামসের চিফ লিগ্যাল এডভাইজার লিসা জোর্নবাগ। লিসার অভিযোগ ছিল যে, মেয়র তার আইনি পরামর্শ মেনে না চলায় তার পক্ষে পদত্যাগ করা ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না।
নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের দৃষ্টান্ত থেকে নিউইয়র্কবাসীরা আগামী দিনগুলোতে জানতে পারবেন যে আরো কিছু কর্মকর্তা নিজেদেরকে দুর্নীতিমুক্ত প্রমাণ করার জন্য পদত্যাগ করতে পারেন অথবা তাদেরকে পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে।
প্রশাসনে নির্বাচিত অন্যান্য কর্মকর্তারা অ্যাডামসকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানাবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এফবিআই এর তদন্ত কেবল মেয়র এরিক অ্যাডামসের বিরুদ্ধে তদন্ত করেই থেমে যাবে, এমন মনে হয় না। মেয়রের ঘনিষ্ট মহলে আরো কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে।
পদত্যাগ করলেন মেয়র অ্যাডামসের প্রধান উপদেষ্টা লিসা জর্নবার্গ
নিউইয়র্ক সিটি ও মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রধান পরামর্শদাতা লিসা জর্নবার্গ পদত্যাগ করেছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি এই ঘোষণা দেন। জর্নবার্গ হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেননি। তবে ফেডারেল তদন্তকারীরা অ্যাডামস প্রশাসনের বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার এক সপ্তাহ পরে এবং দুর্নীতির তদন্তের একটি বিস্তৃত সিরিজে বিশদ বিবরণ বেরিয়ে আসার পর জর্নবার্গ পদত্যাগ করলেন।জর্নবার্গ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাকে শহরের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি মেয়র অ্যাডামসের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। নিউইয়র্কবাসীর জন্য তিনি যে কাজ করেছেন এবং চালিয়ে যাচ্ছেন আমি তাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।
শহরের সেবা করা একটি মহান সম্মানের বিষয়-এমনটা উল্লেখ করে জর্নবার্গ বলেন, আমি পদত্যাগ করছি, আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর। কারণ আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আমি আর কার্যকরভাবে আমার পদে কাজ করতে পারব না। আমি আপনার শুভকামনা ছাড়া আর কিছুই চাই না।
এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে মেয়র অ্যাডামস বলেন, লিসা আমাদের প্রশাসন এবং শহরের জন্য গত ১৩ মাস যা করেছে আমরা তার প্রশংসা করি। কারও চলে যাওয়া কঠিন বিষয়, তবে কেউ চিরকাল থাকবে। আমরা লিসাকে তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।
তিনি বলেন, মেয়র অফিস সম্পূর্ণরূপে চালু রাখা নিশ্চিত করতে কাউন্সেল দলের অন্যান্য সিনিয়র সদস্যরা তাদের ভূমিকায় থাকবেন। সমস্যা ছাড়াই আমরা আগামী দিনে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরামর্শকের নাম আশা করছি।
প্রসঙ্গত, জর্নবার্গ একজন সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর। অ্যাডামস ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেন।জর্নবার্গ শহরের পক্ষে কাজ করেছিলেন এবং অ্যাডামসের ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি ছিলেন না। তবে সিটি হলকে আইনি ও কৌশলগত পরামর্শ দেওয়ার জন্য মেয়রের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন।তিনি মেয়রের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং বেশ কয়েকটি চলমান ফেডারেল তদন্ত সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।
Posted ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh