বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে অ্যাম্বেলিম্যান জোহরান মামদানির কাছে বেদনাদায়ক পরাজয়ের পর নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো থার্ড পাটি প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামী ৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটির ১১৩তম মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি যদি মেয়র নির্বাচিত হন, তাহলে নিউইয়র্ক সিটি একজন চরম ডানপন্থীর হাতে পড়বে বলে তার উৎকণ্ঠিত সমর্থকদের আহবানে তিনি নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার না করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, তিনি কি ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে মামদানির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের কারণে এখন নিজের মুখ রক্ষার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন কিনা, এর উত্তরে ক্যুমো বলেন, ‘আমি দু:খিত যে, আপনাদের হতাশ করেছি। কিন্তু আমাদের সিটির জন্য লড়াই শেষ হয়ে যায়নি।’ আমার দাদা বলতেন, তোমাকে যখন পরাস্ত করা হবে তখন তা থেকে তুমি শিখবে এবং উঠে আবার খেলায় ফিরে আসবে।’ আমি তাই করতে যাচ্ছি।
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক চিঠিতে ক্যুমো প্রতিশ্রুতি দেন যে, সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে যদি দেখা যায় যে র্যাংকড-চয়েস ভোটে তিনি মামদানির চেয়ে উপরে নেই তাহলে তিনি নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেবেন। তিনি জোহরান মামদানির অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী Ñ স্বতন্ত্র মেয়র এরিক অ্যাডামস, রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস সিলওয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিম ওয়াল্ডেনকেও একই কাজ করতে উৎসাহিত করবেন বলে জানান। এ পরিকল্পনা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন জিম ওয়াল্ডেন এবং সাবেক গভর্নর ডেভিড এ প্যাটারসন ধারণাটিকে গত সপ্তাহে সমর্থন করেছেন।
অ্যান্ড্রু ক্যুমো ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে অনেক ডেমোক্রেটের কাছে প্রার্থী হিসেবে পছন্দনীয় ছিলেন। তবে কোনো জরিপেই তিনি মামদানিকে ডিঙ্গিয়ে প্রথম স্থানে উন্নীত হতে পারেননি। বেশিরভাগ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন একেবারে শেষ অবধি। তার পক্ষের ধনবান তহবিলদাতারা প্রচারণার জন্য ২২ মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন মামদানির বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়ার জন্য। একবার এমন মনেও হয়েছিল যে তিনি মামদানিকে প্রাইমারিতে হারিয়ে দিতে যাচ্ছেন। কিন্তু তা ঘটেনি।
নিউইয়ক সিটির স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনী এলাকা কুইন্স থেকে নির্বাচিত জোহরান মামদানি তেমন পরিচিত মুখ ছিলেন না। প্রথম দিকে তিনি পিছিয়েও ছিলেন। কিন্তু দুটি বিতর্কে তার পারফর্মেন্স, সামাজিক মিডিয়ায় তার আকর্ষণীয় প্রচারণাকে পুঁজি করে তার সমর্থকরা মাঠে ময়দানে ছড়িয়ে ভোটারদে হৃদয় জয় করতে চেষ্টা করেছে। তার কর্মসূচিগুলোও সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের মনে আবেগ সৃষ্টি করার মতো ছিল। তিনি শেষ পর্যন্ত ক্যুমোকে ১২ শতাংশেরও বেশি পয়েন্টে পরাজিত করেছিলেন। নিউইয়র্ক সিটিতে প্রতি ছয় জন নাগরিকের মধ্যে ৫ জনই ডেমোক্রেট এবং প্রাইমারি বিজয়ী হওয়ার অর্থ হচ্ছে চূড়ান্ত বিজয় সম্পর্কে প্রায় শতভাগ নিশ্চিত থাকা।
কিন্তু বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্রাইমারিতে পরাজিত হওয়ার ঘটনাকে ক্যুমো প্রথমে সাময়িকভাবে গ্রহণ করেছিলেন এবং মামদানিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত জানান। জেতার জন্য তিনি ভিন্ন ধরনের প্রচারণা কৌশল গ্রহণ করবেন বলেও এক টেলিভিশন আলোচনায় বলেন।
জরিপে এগিয়ে মামদানি
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচন নিয়ে অতিসম্প্রতিপরিচালিত এক জরিপের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে জোহরান মামদানি অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন। জনমতে অন্যদের সঙ্গে জোহরানের ব্যবধান প্রায় ১৫ শতাংশ। গত ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপ পরিচালিত হয়।
সংবাদমাধ্যম নিউজউইক দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবদনের বরাতে জানা গেছে, গোথাম পোলিং অ্যান্ড অ্যানালিটিকস নামে একটি সংস্থা এ জরিপ চালায়। তাতে জোহরান মামদানি ৪১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে আছেন। অ্যান্ড্রু ক্যুমো, যিনি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জোহরান মামদানির কাছে বিপুল ব্যবধানে হেরেছেন, তিনি পেয়েছেন ২৬ শতাংশ সমর্থন। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস সমর্থন পেয়েছেন মাত্র ১৬ শতাংশ উত্তরদাতার।
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কুরটিস স্লাইভার আছে ১০ শতাংশ সমর্থন। ১ হাজার ভোটার এ জরিপে অংশ নেয়। উল্লেখ্য যেম নিউইয়র্ক সিটিতে মেয়র পদে সাধারণ নির্বাচন ৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত লড়াইতে জোহরান মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন অন্তত পাঁচজন। পার্টি প্রাইমারিতে হেরে যাওয়া অ্যান্ড্রু কুমো, বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস ছাড়া রিপাবলিক পার্টি থেকে আছেন কুরটিস স্লাইভা।
Posted ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh