স্পোর্টস ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ধারাবাহিক গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লিওনেল মেসি এবং আরলিং হলান্ডকে ‘হাঙর’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল।
কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচে জোড়া গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা পাঁচে উন্নীত করেন হ্যারি কেইন। এতে তিনি হলান্ডের সমান গোলের মালিক হন। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি ও এমবাপ্পের চেয়ে তিনি মাত্র একটি গোল পিছিয়ে রয়েছেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বর্তমানে লিওনেল মেসি। তার গোলসংখ্যা ১৯, আর এমবাপ্পের ১৮। এদিকে হ্যারি কেন ১৩ গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছেন।
চার তারকা ফুটবলারের মধ্যে কোনো মিল রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে টুখেল বলেন, ‘ওরা সবাই হাঙর। রক্তের গন্ধ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং গোল করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বড় তারকারা একে অন্যের দিকে নজর রাখে। একজন গোল করলে অন্যজন যেন মনে করে— ‘না, আমি পিছিয়ে থাকব না।’ তারপর আরেকজন গোল করে, কেউ তিন গোল করে বসে। তখন মনে হয়, আসলে কী হচ্ছে! সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
হ্যারি কেইনকে নিয়ে টুখেল বলেন, ‘সে অসাধারণ একজন ফুটবলার। সে আমাদের অধিনায়ক, আমাদের নেতা। আজ দুটি দুর্দান্ত গোল করে সে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসামান্য। এমন একজন খেলোয়াড় আমাদের দলে আছে, এ জন্য আমি খুবই আনন্দিত।’
কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। তবে হাল ছাড়েনি দলটি। পুরো ম্যাচে তারা ১৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যভেদী।
অবশেষে ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে সমতা ফেরান হ্যারি কেইন। এরপর ৮৬তম মিনিটে তার দুর্দান্ত গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড এবং শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে।
বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাকে— এমন ধারণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে টুখেল বলেন, ‘আজ আমি এর কোনো লক্ষণই দেখিনি। বরং এমন পরিস্থিতিতে চাপের কাছে হার মানা খুব সহজ ছিল। কিন্তু তারা তা করেনি। এটিই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।’
বিশ্বকাপে ৬০ বছর পর কোনো ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও জয় পেল ইংল্যান্ড। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল যখন তারা পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল।
এ প্রসঙ্গে টুখেল বলেন, ‘এটি খুবই ইতিবাচক একটি বার্তা। তথ্যটি জানানোর জন্য ধন্যবাদ। এটি প্রমাণ করে, এই দলের দৃঢ় সংকল্প, আত্মবিশ্বাস এবং মনোযোগ কতটা শক্তিশালী। শুরু থেকেই আমার মনে হয়েছে, খেলোয়াড়দের কাঁধে কোনো বাড়তি চাপ ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঠিক যে মানসিকতা নিয়ে খেলতে চেয়েছিলাম, সেটিই মাঠে দেখিয়েছি। নিজেদের শক্তির ওপর বিশ্বাস রেখেছি। মাঠে এবং সাজঘরে আমরা ইতিবাচক শক্তি ও দলীয় চেতনা ধরে রাখতে পেরেছি। আজকের ম্যাচ থেকে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
Posted ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh